বিভক্তির ফোবানায় কমিউনিটির অভক্তি

০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

ফোবানা (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অর্গানাইজেশন ইন নর্থ আমেরিকা) তেত্রিশ বছরে এসেও মুষ্ঠিমেয় ব্যক্তির নেতৃত্বের খায়েশ পূরণ করতে গিয়ে নর্থ আমেরিকাজুড়ে (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) অভিবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিভক্তির লক্ষণ রেখা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করছে। এবার নিউইয়র্কে দুটি ফোবানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে এই বিভক্তি শুধু ফোবানায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ফোবানার সেই বিভক্তির ছোঁয়া লেগেছিলো কমিউনিটির সর্ব ক্ষেত্রেই।

বিভিন্ন সংগঠন, ব্যবসায়ী, সাংষ্কৃতিক কর্মী-শিল্পীদের মধ্যে বিস্তৃত ফোবানার বিভক্তি শেষ পর্যন্তু ছড়িয়ে পড়ে পারিবারিক জীবনেও। ফলে দেখা গেছে, স্বামী এক ফোবানার কর্মকর্তা তো স্ত্রী অন্য ফোবানার। আবার বাবা এক ফোবানার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত তো তার কন্যা অন্য ফোবানায় পারফর্ম করছে। আর বিভক্তি যতনা বিরক্তিকর তার চেয়ে বেশি হাস্যকর মনে হয়েছে।

দুই ফোবানার বিভক্তিতে কমিউনিটির অনেক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও সংগঠক ফোবানা থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছিলেন। ফলে তাদের বিরাট অংশ বিভক্তি এড়াতে কোন ফোবানায় যোগ দেননি। আর এভাবেই বিভক্তির ফোবানার প্রতি কমিউনিটির অভক্তি ফুটে উঠেছে। যার ফলশ্রুতিতে যত বড়াই করুক না ফোবানার আয়োজকরা- কিন্তু এটা স্পষ্টত প্রমাণিত হয়েছে যে কোন ফোবানাই লোক সমাগম হয়নি তাদের প্রত্যাশানুযায়ী। আর যাদের জন্য এই বিশাল ও ব্যাপক আয়োজন সেই মানুষরাই যখন ফোবানা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন তখন নানা অংকে সাফল্যের ঢেঁকুর তুলে নিজেদের স্বান্তনা দেয়ার প্রচেষ্ঠা আয়োজকরা করে আত্মতৃপ্তি পেলে কারো করার কিছু নেই!

ফোবানাকে বলা হচ্ছে প্রবাসে দেশের সংষ্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রসার বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী সংগঠন। কিন্তু সারা বছর এ নিয়ে কোন কার্যক্রম নেই তাদের। শুধু সম্মেলনের দুদিনে অংশ গ্রহণকারী সংগঠনকে ১০ মিনিট করে সময় দিয়ে একটি পারফর্মমেন্স করার সুযোগ দিয়ে সেই মহৎ (!) কর্মটি সমাধা করে বাহবা নিচ্ছেন তারা।

আসলে সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানকে পূঁজি করে ৩৩ বছর আগে ফোবানা নামের সংগঠনটি বাংলাদেশ সম্মেরন আযোজন করা শুরু করেছিলো, তারা সেই তিমিরেই রয়েে গছে। তাদের উপলদ্ধি হচ্ছে না যে সারা আমেরিকায় বাংলাদেশিদের বসতি বিস্তৃত হবার সাথে সাথে হাজারো সংগঠন গড়ে উঠেছে যারা সারা বছর বিভিন্ন সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে বাংলাদেশিদের মনোরঞ্জন করে আসছে। এক সময়ে যে ফোবানার লটারীর টিকিটে থাকতো আকর্ষণীয় প্রথম পুরস্কার নতুন মডেলের গাড়ি, এখন সেটা থাকে পথমেলায়- আর এমন পথমেলা নিউইয়র্ সহ আমেরিকায় প্রতিবছর ডজন ডজন হয়। পথমেলায় বাংলাদেশেরে সেরা শিল্পীদের পরিবেশনা বিনা টিকিটেই উপভোগ করা যায়।

এসব কিছু থেকে ফোবানাকে নতুন আদলে গঠন করে জনবিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র সংগঠন থেকে বের করে এনে জনবহুল বৃহৎ সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন (চিকিৎসক-ইঞ্জিনিয়ার-ফার্মাসিস্ট)-কে সম্পৃক্ত করার সময় এসেছে। সেই সাথে ফোবানাকে বিভিন্ন চ্যাপ্টারে ভাগ করে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফোর্থ জুলাই-প্রেসিডেন্ট ডে ও লেবার ডে‘তে সময়পোযোগী কর্মসূচী বা সম্মেলন করার চিন্তা ভাবনা করা যেতে পারে। আর সব চ্যাপ্টার নিয়ে গঠিত শীষ সংগঠনের সরাসরি তত্বাবধানে কোন স্টেট বা সিটির সহযোগী সংগঠনকে নিয়ে বার্ষিক সম্মেরন আয়োজন করা যেতে পারে। সেই সাথে শুধু সম্মেলনের সময় ইয়ুথ প্রোগ্রাম না করে ইয়ুথ ফোবানা নামে আরেকটি সহযোগী সংগচন গঠন করে ভবিষৎ নেতৃত্ব গড়ার পথ তৈরি করতে হবে যাতে এক সময়ে এই কিমোররাই মূল ফোবানার দায়িত্ব গ্রহণ করে বাংলাদেশিদের মূলধারা যুক্ত করে শক্তশালী আমেরিকান-বাংলাদেশি কমিউনিটি নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: [email protected] (প্রিন্ট), [email protected] (অনলাইন)