গিটার আমাদের ঘরছাড়া করেছিল: জেমস

১৭ অক্টোবর ২০১৯

জেমস

আশির দশকের কথা। লিড গিটারিস্ট হিসেবে ফিলিংস ব্যান্ডে যোগ দিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। তখন থেকেই আমাদের বন্ধুত্ব। এর পর কত আড্ডা-গানের মধ্য দিয়ে কত সময় চলে গেছে, তার হিসাব মেলানো কঠিন। তখনই জেনেছিলাম, সঙ্গীতের জন্য আইয়ুব বাচ্চু কতটা নিবেদিতপ্রাণ। শিল্পী ও সঙ্গীতায়োজক হিসেবে তার পথচলাও মসৃণ ছিল না। পরিবারের অসম্মতি আর অনেক বাধা পেরিয়ে দিনের পর দিন সংগ্রাম করেই শিল্পী হিসেবে তার প্রতিষ্ঠা। সে ইতিহাস গল্পের চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়। তার কাছেই শুনেছিলাম, গিটারের নেশায় কীভাবে ছুটে গেছেন এক মঞ্চ থেকে আরেক মঞ্চে। এও বলেছিলেন, 'অনেকে প্রশ্ন করেন গানের চেয়ে গিটার বাজাতেই কি বেশি ভালো লাগে? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর কখনও দিতে পারিনি। কারণ উত্তরটা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। গিটার বাজানো বা গান গাওয়া কোনোটাই সঙ্গীতের বাইরে নয়।

এ কথা ঠিক, গিটার ছাড়া কোনো আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা আমি ভাবতেই পারি না। অনেকবার বলেছি, গিটার হলো আমার তৃতীয় হাত। গানের চেয়ে গিটার বাজানো আমার কাছে কোনো অংশেই কম নয়। এর চেয়ে বড় সত্য, গান নয়- গিটার আমাদের ঘরছাড়া করেছিল। গিটারশিল্পী হওয়ার বাসনায় ঘর ছেড়ে সঙ্গীতযুদ্ধে নেমেছিলাম।'

আমি নিশ্চিত, আইয়ুব বাচ্চুর মুখে যখন এই কথাগুলো অনেকে শুনেছেন, তখন তা গল্পের মতোই মনে হয়েছে। কিন্তু এ কোনো গল্প নয়, জীবনের অধ্যায় থেকে তুলে আনা নিখাদ সত্য। আশির দশকে আমরা যারা সঙ্গীতযুদ্ধে নেমেছিলাম, তারা প্রত্যেকেই জানি কতটা কাঠখড় পুড়িয়ে এতদূর আসতে হয়েছে। তাই গানের সুবাদে হলেও আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে তৈরি হয়েছিল মনের সংযোগ। যদিও পরবর্তী সময়ে আমাদের একই ব্যান্ডের হয়ে গান করা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু সময়ের পালাবদলেও বন্ধুত্ব অটুট থেকেছে। শুধু তাই নয়, একসঙ্গে কাজ করতে করতে জুটি হিসেবেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলাম আমরা। অ্যালবামের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে মঞ্চে কত আয়োজনে একসঙ্গে অংশ নিয়েছি, তার কোনো লেখাজোখা নেই। এই যে একসঙ্গে দিনের পর দিন গান করে যাওয়া- এর মধ্য দিয়েই জীবনের নানা অভিজ্ঞতার ভাগীদার হয়েছিলাম।

একে অপরকে জানতে, বুঝতে পেরেছিলাম বলেই নতুন নতুন আয়োজনে মেতে উঠতে, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিতে পেরেছি দু'জন। আইয়ুব বাচ্চুর চলে যাওয়া তাই কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। জানি, শিল্পীর মৃত্যু নেই। গিটারের বরপুত্র আইয়ুব বাচ্চু বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন তার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে। তবু পুরনো দিনের স্মৃতি মনে আঁচড় কাটবেই।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)