প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও চাকরি চেয়ে ফের অনশনে কণা

২১ অক্টোবর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

ফের অনশন শুরু করেছেন চাঁদের কণা -সমকাল

বাবা-মা আদর করেই নাম রেখেছিল চাঁদের কণা। কিন্তু জন্মের নয় মাস পরেই পোলিও আক্রান্ত হয়ে হাঁটার ক্ষমতা হারায় ইডেন মহিলা কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করা এ ছাত্রী। প্রতিবন্ধী হওয়ায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি মেলেনি তার। তাই বাধ্য হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও চাকরি চেয়ে গত জুনে অনশন করেও না পাওয়ায় ফের অনশনে নেমেছেন তিনি।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন শুরু করেন। সোমবার অনশনের ষষ্ঠ দিনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

জানা যায়, গত ১৪ মে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট মৈত্রী শিল্পের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে চাঁদের কণাকে অস্থায়ীভাবে চাকরি দেওয়া হলেও তিনি যোগদান করেননি। 

তিনি জানান, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থানার বিয়াড়া গ্রামে তার জন্ম। বাবা আবদুল কাদের ও মা মৃত হাসনাহেনার তিন সন্তানের মধ্যে তিনি বড়। জন্মে নয় মাস পরেই পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। তাই হাতের ওপর ভর দিয়ে বা হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে হয় তাকে। 

চাঁদের কণা বলেন, 'বাবা ব্রেন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে আছেন। মা নেই। খুব কষ্ট করে পড়াশোনা শেষ করেছি। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও কোনো ভালো চাকরি হয়নি। চাকরির বয়সও শেষের দিকে। তাই গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি চেয়ে ও তার সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্য আমরণ অনশন করি। অনশনের তিন দিন পর প্রধানমন্ত্রী চাকরির আশ্বাস দেন এবং তার অধীন একান্ত সচিবকে চাকরির ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, কিছুদিন পর সচিব আমার দাবি অস্বীকার করে সিরাজগঞ্জ জেলা সমাজসেবা অফিসে অস্থায়ীভাবে হাজিরাভিত্তিক চতুর্থ শ্রেণির একটি চাকরি দেন এবং কাঙ্ক্ষিত চাকরি থেকে বঞ্চিত করেন। তাই চাকরিটি করিনি এবং নিয়োগপত্র নিতে যাইনি। কারণ এটা আমার কাছে এক ধরনের অপমান বলে মনে হয়েছে।'

চাঁদের কণা বলেন, পরে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছি; কিন্তু শত চেষ্টা করেও তার কাছে পৌঁছতে পারিনি। তাই নিরুপায় হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আমরণ অনশনে নেমেছি।

চাঁদের কণা আরও বলেন, আমার শরীর দিন দিন ভারী হয়ে যাচ্ছে। কারও সাহায্য ছাড়া বাইরে যেতে পারি না। ভবিষ্যতে আমার কী হবে সে কথা ভাবলেই চোখে জল এসে যায়। কারণ যদি ভালো একটা চাকরি না হয়, তবে আমার বিয়ে হবে না। কে দেখবে আমাকে?

কণা বলেন, ছোট ভাইদের পড়াশোনা করানোর দায়িত্ব রয়েছে। এ অবস্থায় যদি আমার কোনো চাকরি না হয়, তাহলে পুরো পরিবারটাই ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই অনতিবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েছেন তিনি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)