বেতন নিয়ে চিন্তায় বিসিবি কর্মচারীরা

০১ অক্টোবর ২০১৯

আলী সেকান্দার

ছবি: ফাইল

মাসের ২৫ তারিখেই স্টাফদের বেতন দিয়ে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বহু বছর ধরেই এই নিয়মে চলছে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা। এবার মাস পার হয়ে গেলেও বেতন যায়নি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে। হঠাৎ করেই নিয়মের ব্যতিক্রম দেখে চিন্তায় পড়ে গেছেন বিসিবি স্টাফদের অনেকে। কর্মচারীদের আলোচনার বিষয়ই এখন বেতন কবে হবে। এ ব্যাপারে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'বেতন হয়ে যাবে। হয়তো হয়েও গেছে।' যদিও বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত বেতন পাননি তারা।

বিসিবি স্টাফদের বেতনের টাকা ছাড় হয় ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে। এ দায়িত্বে আছেন পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক। জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি বোর্ডে যাচ্ছেন না। ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান না থাকলে চেকে স্বাক্ষর করেন বিসিবির আরেক পরিচালক মাহাবুবুল আনাম। অনেক দিন হলো বিদেশে আছেন তিনি। এরই মধ্যে গত বুধবার সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদক তাকে তলব করেছে। ওইদিন রাতে বিসিবির আরেক পরিচালক ও মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

ঝামেলা এড়াতে লোকমান হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিসিবি পরিচালকদের অনেকেই গত কয়েকদিনে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে যাননি। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিকের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি দেশে না বিদেশে আছেন- এ খবর নিশ্চিত করতে পারছেন না ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারাও। তবে মল্লিক ও মাহাবুবুল আনাম না থাকলেও বেতন হবে বলে জানান সিইও, 'বিকল্প আছে। উনারা না থাকলেও বেতন হবে।'

ব্যবসায়িক কাজে বিদেশে অবস্থানরত মাহাবুবুল আনামের সঙ্গে সোমবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আজ বা কাল দেশে ফিরবেন তিনি। দুদকে তলব করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমার সব কিছুতেই স্বচ্ছতা আছে। গত কর বছরে অন্যতম সেরা করদাতা হয়েছি। এনবিআরের কার্ডও আছে। দুদক প্রয়োজন মনে করলে সম্পদের বিবরণ চাইতেই পারে। দেশের নাগরিক এবং একজন পরিচ্ছন্ন ইমেজের ব্যবসায়ী হিসেবে আমারও দায়িত্ব প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা। দুদকের চিঠি পেলে সম্পদের বিবরণ দেব।'

মাহাবুবুল আনাম জানান, দুই বছর আগে কেউ একজন দুদকে অভিযোগ দিয়েছিল, বিসিবি থেকে ঠিকাদারি ও নিয়োগ বাণিজ্য করে অর্থ উপার্জন করেন তিনি। তখন বিসিবির কাছেও তার ব্যাপারে জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল দুদক। সে সময় দুদকের চিঠির জবাবও দিয়েছিলেন মাহাবুবুল। কিন্তু কোনো এক কারণে সে ফাইল এতদিনেও বন্ধ করা হয়নি বলে জানান বিসিবির এই পরিচালক। তিনি বলেন, 'ক্রিকেটের জন্য আমি টাকা খরচ করি। অর্থ উপার্জনের জন্য আমি ক্রিকেট বোর্ডে থাকি না। খেলাটিকে ভালোবাসি বলেই থাকি। বিসিবি আমার রুটি-রুজির জায়গা নয়। দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করতে পারলে আমার ভালো লাগে। যারা পছন্দ করে না আমি ক্রিকেটের উন্নয়নের সঙ্গে থাকি, তাদেরই কেউ কেউ হয়তো আমাকে সমস্যায় ফেলতে কলকাঠি নাড়ে। এটি খুবই দুঃখজনক।'

অবৈধভাবে ক্যাসিনো পরিচালনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান শুরুর পর থেকেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ঝামেলা এড়াতে বিসিবি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ দূরে থাকার চেষ্টা করছেন। যে কারণে গত পরশু বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সভা হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: [email protected] (প্রিন্ট), [email protected] (অনলাইন)