মানবপাচার মামলার আসামি শিশু, হাইকোর্টে আগাম জামিন

২৮ অক্টোবর ২০১৯ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

মানবপাচার মামলায় কক্সবাজারের এক শিশুকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিল ওই শিশু ও তার মা। তবে মানব পাচার মামলায় শিশুটির আসামি হওয়া নিয়ে খোদ আদালত অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মামলার নথিপত্রে শিশুটির বয়স ২২ বছর বলা হয়েছে। যদিও শিশুটিকে দেখে বয়স ১২-১৩ বছরের বেশি মনে হয় না।

আদালতে শিশুটির জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জামান আকতার বুলবুল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। পরে শিশুটির বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির বয়স সর্বোচ্চ ১২ বছর হতে পারে। আদালত তাকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।

অন্যদিকে শিশুটির আইনজীবী জামান আকতার বুলবুল সাংবাদিকদের বলেন, ছেলেটির জন্ম ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট। আর ২০১৪ সালের ২০ জুন ও গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বরের দুটি ঘটনা উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম ঘটনার সময় শিশুটির বয়স ছিল সাত বছরের একটু বেশি। আর মামলা করা হয়েছে গত বছরের ২৯ নভেম্বর। অর্থাৎ এখনও সে শিশু, তার বয়স ১২ বছরের মতো। যদিও মামলায় শিশুটির বয়স দেখানো হয়েছে ২২ বছর।

তিনি আরও বলেন, গত ১৪ অক্টোবর এ মামলায় রামু থানা পুলিশ শিশুটিকে গ্রেপ্তার করতে তার বাড়িতে যায়; কিন্তু পুলিশ তাকে দেখার পর গ্রেপ্তার না করে ফিরে আসে। পুলিশের মনেও এ প্রশ্ন জেগেছে- এতটুকু বাচ্চা কীভাবে মানব পাচারের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত! পরে গত বৃহস্পতিবার অন্য আসামিদের সঙ্গে হাইকোর্টে এসে জামিন আবেদন করে শিশুটি।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ১৪ অক্টোবর রামুর হাজিপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম (৪১) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় রামুর চাকমারকুল এলাকার ওই শিশুসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। ২০১৪ সালের ২০ জুন ও ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দুটি ঘটনায় মামলা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বিনা খরচে, ভালো বেতনে মালয়েশিয়ায় কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৪ সালের ২১ জুন বাদী ও অন্য ভিকটিমদের জাহাজে তুলে দেয় কপবাজারের লামুনীচর থেকে। কয়েকদিন পর থাইল্যান্ডের উপকূলীয় পাহাড়ের জঙ্গলের কাছে জাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ওইখানে দালাল চক্রের লোকজন মারধর করে তাদের কাছ থেকে স্বজনের মোবাইল নম্বর নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। মোবাইল ফোনে স্বজনদের কাছ থেকে এ আসামি (শিশু), মামলার প্রধান ও দ্বিতীয় আসামি দুই লাখ টাকা নেয়। পরে আসামিদের আরও এক লাখ টাকা দেওয়ার পর মালয়েশিয়া পৌঁছান মামলার বাদী নুরুল ইসলাম। ২০১৭ সালের জুনে মালয়েশিয়া অভিযানকালে তিনি আটক হন। এক বছর জেল খাটার পর দেশে ফিরে এসে মামলা করেন নুরুল ইসলাম।



© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: [email protected] (প্রিন্ট), [email protected] (অনলাইন)