ক্যাসিনো সরঞ্জাম খালাস বন্ধ, নিষিদ্ধ হচ্ছে আমদানি

০৭ অক্টোবর ২০১৯ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৯

আবু কাওসার

:: ফাইল ছবি

এখন থেকে ক্যাসিনো সরঞ্জাম খালাস করা যাবে না। কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এদিকে, ক্যাসিনোবিরোধী চলমান অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে সরঞ্জাম আমদানি নিষিদ্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া গতকাল বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনকে চিঠি দিয়েছেন।

একই দিন পৃথক চিঠিতে ক্যাসিনো সরঞ্জাম কিংবা জুয়া খেলার সামগ্রী যাতে বন্দর দিয়ে খালাস না হতে পারে, সে জন্য দেশের সব কাস্টম হাউস ও শুল্ক্ক স্টেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে তা কার্যকর করতে বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। ক্যাসিনোর নামে যেসব গেমস (খেলা সামগ্রী) আমদানি হচ্ছে, সেসব পণ্যের চালান শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে খালাসের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কাস্টমস হাউস সূত্র বলেছে, এনবিআরের নির্দেশনার পর এরই মধ্যে ক্যাসিনো পণ্যের চালান খালাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যানের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় ক্যাসিনো সামগ্রী যুক্ত করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্য বাণিজ্যনীতি সংশোধন করা হচ্ছে। তিন বছর মেয়াদি (২০১৫-১৮) খসড়া বাণিজ্যনীতি বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বর্তমান আমদানি নীতিতে যে কোনো নাগরিকের ধর্মীয় বিশ্বাস বা অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে, এমন কোনো পণ্য আনা যাবে না- মর্মে উল্লেখ রয়েছে। দেশীয় সংস্কৃতি বা সামাজিকতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়- এমন পণ্য আমদানি না করার নীতিও রয়েছে এতে। ক্যাসিনো খেলা অবৈধ এবং সংবিধানে বর্ণিত মূল নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি স্পষ্ট করতে এনবিআরের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাম্প্রতিক ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর থেকে এনবিআরের অধীন কাস্টমস, শুল্ক্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে বেশ কিছু ক্যাসিনো সামগ্রী জব্দ করেছে। শুল্ক্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এসব পণ্য আনা হয়। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রচলিত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হবে। গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, তাদের কাছে খবর আছে যে,  আরও কিছু প্রতিষ্ঠান মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন সময় ক্যাসিনো সামগ্রী এনেছে। এদের ধরতে মাঠে নেমেছেন গোয়েন্দারা।

বাণিজ্য সচিবের কাছে লিখিত চিঠিতে এনবিআর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, জুয়া খেলা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮(২)-এ বর্ণিত ও 'দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট ১৮৬৭'-এর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ছাড়া এটি সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে জনগণের নৈতিক অবক্ষয় হচ্ছে। সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে। মানুষ শ্রদ্ধা হারাচ্ছে আইনের প্রতি। তাই এসব কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন জুয়া খেলার সামগ্রী বন্ধ করা জরুরি। আমদানি নীতিতে বিষয়টি যুক্ত না থাকায় এসব পণ্য খালাসে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে চিঠিতে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সামগ্রী আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় যুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়ার অনুরোধ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

খালাস বন্ধের নির্দেশ: একই দিন ক্যাসিনো সরঞ্জাম খালাস বন্ধে দেশের সব কাস্টম হাউস ও শুল্ক্ক স্টেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। কাস্টম হাউস কমিশনার ও সংশ্নিষ্ট শুল্ক্ক স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিত চিঠিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। এতে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন কাস্টম হাউসের মাধ্যমে বেশ কিছু ক্যাসিনো খেলার যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম খালাস হয়েছে। আলোচ্য সামগ্রী আমদানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। তাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই ক্যাসিনো সরঞ্জাম, জুয়া খেলার সামগ্রী কাস্টম হাউস ও শুল্ক্ক স্টেশন দিয়ে খালাস করা যাবে না। চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে ভিডিও গেমস, ফান ফেয়ার, টেবিল, পার্লার গেমস, পিন ট্যাবলস, বিলিয়ার্ডস, স্পেশাল টেবিল ফর ক্যাসিনো গেমস, অটোমেটিক বাউলিং ইকুইপমেন্ট আমদানি হচ্ছে। এসব পণ্য যাতে সঠিকভাবে দেশে আসতে পারে সে জন্য শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে খালাস করতে হবে। এ বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কাস্টম হাউসগুলোকে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: [email protected] (প্রিন্ট), [email protected] (অনলাইন)