টিকটিকি প্রেম

গল্প

০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

জেসমিন মুন্‌নী

...ডায়াবেটিক সংলগ্ন ওভারব্রিজের নিচ অতিক্রম করার মুহূর্তে মনে হলো, বৃক্ষের মতো আমিও সবান্ধব একা। জর্জেট শাড়ির মতো সূর্যটা ঝট করে সরে গেছে বিকেলের শরীর থেকে। উন্মুক্ত বিকেলের বক্ষ-সৌন্দর্য উপভোগ করে যান্ত্রিক মানুষেরা। মন্থর গতিতে হাঁটি সেই সঙ্গে বিকেলের ঘ্রাণ। বিকেলের ঘ্রাণ, শরীরের ঘ্রাণ, ব্যস্ততার ঘ্রাণ- কোনো কিছুই নাড়া দেয় না। ক্লান্ত শরীরে চলে ক্রমাগত ভাঙাগড়া!

কিছুক্ষণ আগে আদিত্য ছিল গা ঘেঁষে। চেয়েছিল একই দ্রাঘিমা ধরে হাঁটতে। আমি 'না' সূচক অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে আদিত্য বিআরটিসিতে সরল রেখায় পরিধি বাড়ায়। চলে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পরখ করতে চেয়েছিল আমাকে। ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছে গন্তব্যে।

আমি রাতে কাউকে বাসায় নিই না। আদিত্য থাকলে হয়তো একাকিত্বের ভাবনা আক্রমণ করত না। হাঁটি মন্থর গতিতে। দৃষ্টি নিচের দিকে প্রসারিত। ইটের ভাঁজে ভাঁজে নিজেকে ভাঙি-গড়ি। ভাঙতে ভাঙতে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর। সাগরপাড়ে বালি নিয়ে খেলি। বালির ঢিবি গড়ি আবার ভাঙি, আবার গড়ি। ঢেউ এসে ঢিবি ভেঙে দিয়ে গেলে কাঁদি। আবার গড়ি, আবার ভাঙি। বিশাল সমুদ্র ডাকে, আয় আয়। ঢেউ ডাকে, আয় আয়। বুকে আয়। শিশুমন নিয়ে ক্রমশ সাগরের দিকে। দেখি বিশাল ঢেউয়ের মাঝে মা দাঁড়িয়ে। নীল শাড়ি সাদা চুড়ি পরা হাত দুটো বাড়িয়ে ডাকে, আয়..। সামনে ক্রমবর্ধমান। নিজের ছায়াকে সঙ্গী করে আগাতে আগাতে মুহূর্তে থমকাই.. আবার আগাই..। দু'াশের দৃশ্যত বস্তুগুলো বিপরীত মুখে অদৃশ্যে মিলায়। পায়ের তলে মাটি হারিয়ে যায়। হাত-পা নেড়ে মা মা বলে চিৎকার করি। মা নেই, বাবা নেই.. ছায়াসঙ্গীও নেই। চারিদিকে অজস্র মানুষসদৃশ মানুষগুলোর মধ্যে একটিও মানুষ না। মুখোশধারী। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। চোখের লবণজলে সমুদ্রের পানি লবণ হয়। অসহায় শরীর পানিতে হারায়। ডুবে যাওয়ার আগে প্রথম অনুভব করলাম, মৃত্যুর মতোই মানুষ একা। একটা পুরো জীবন মানুষের মধ্যে কাটিয়েও মানুষ চিরজীবন একা। এবড়োখেবড়ো রাস্তায় হোঁচট খেলে দেখি শেরাটন হোটেল পাশ কাটিয়ে বিকেল উঁকি দেয় পার্কে। বাস স্টপেজে কিউ। বামদিকে প্রবাহিত পাজেরো-প্রিমিও-ফিলডার-টয়োটা- হোন্ডা-বিএমডব্লিউ-সিএনজি-সভ্যতা। ডানদিকে তখন দেয়াল ঘেঁষে নিষিদ্ধ সন্ধ্যা নামে চুপচাপ। গতি এবং স্তব্ধতার মাঝামাঝি নিঃসঙ্গ আমি বৃক্ষের মতো অনড়। দেবদারু, অর্জুন, কৃষ্ণচূড়া গাছদের সঙ্গে দাঁড়াতে দাঁড়াতে একটি রেইন-ট্রি হয়ে যাই। যার নিচে দাঁড়ালে বৃষ্টি অনুভব হতো বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলেও। কখনও রোদেলা বিকেলে ধ্রুপদি বাতাসের তালে ছন্দ পতন ঘটত প্রতিটি পাতার। নওয়াব আলী সেই তাল কেটে দিয়ে প্রসঙ্গ পাল্টাত। বলত, বৃষ্টি আসবে, চলো ফ্ল্যাটে যাই।

-আসুক বৃষ্টি..ভাসবো আজ।

নওয়াব নতজানু হতো, তারই সঙ্গে বিকেলও। আমার আঙুল ছুঁয়ে বনজ সন্ধ্যা নীরবে নেমে এলে আদিম ছন্দে নাচে নওয়াবের হৃদয়, দ্রাম দ্রাম, বক্ষ বাজে দ্রিম দ্রিম, কাম সাপ পাঁজর ফুটো করে মাথায় উঠে আসে। নাচে ধিন্‌ ধিন্‌। নিঃশ্বাসের ছোঁয়ায় আলিঙ্গন করে। লজ্জাবতী গাছেরা লজ্জা ভাঙে, সংকুচিত হই, আবেগে ভাসি। ঠিক তখন দূরের লাইটপোস্টের নরম আলোয় একটি ভৌতিক ছায়া দেখে মনের মধ্যে বিদ্যুৎ চমকায়। নওয়াব অস্টম্ফুট উচ্চারণ করে- কে! কে ওখানে?

কঙ্কাল শরীরে শিশু কোলে নিয়ে ত্রিভুজ ভঙ্গিমায় দণ্ডায়মান একটি কিশোরী। কিশোরীর ময়লা শরীরে রাত ঝোঁকে রহস্যের সূত্র ধরে। দ্রুত উঠে দাঁড়াই। নওয়াব বিব্রত। চোখ-মুখ খিঁচিয়ে বলে, যা! ভাগ এখান থেকে। উটকো ঝামেলা কোথা থেকে যে আসে বলে আমার হাত ধরে তড়িঘড়ি করে পার্কের গেটের দিকে অগ্রসর।

স্যার, কাইলকার ট্যাহাডা দিবেন, কইছিলেন! কিশোরী তাদের পিছু নেয়।

পুরো ঘটনাটা আয়ত্তে আনতে সময় লাগে আমার। পলায়নব্রত নওয়াবের পিছু নেওয়া কিশোরীটি বলতে থাকে মাত্র তো ১শ' ট্যাহা.. মাইয়াডার আইজকা হারাদিনে দানাপানি কিছু মিলে নাই...ও স্যার, দিয়া যান, আপনার দুইডা পাও ধরি..। কিশোরী নওয়াবের পা জড়িয়ে ধরলে ব্যাপারটায় গেটের কাছাকাছি কয়েকজন উৎসুক জনতার দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়।

নওয়াব কিশোরীটিকে লাথি মেরে আমার হাত ছেড়ে একপ্রকার দৌড়ে পার্ক থেকে বের হয়ে ছুটন্ত শহরে অদৃশ্য।

হিরোশিমা বিস্টেম্ফারিত হওয়ার পূর্বমুহূর্তে সব স্থির ছিল; আমিও তেমন ছিলাম। মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বিলীন হয়ে গেলাম। উৎসুক জনতা ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে এনে দাঁড় করিয়ে দিল বাস্তবতার কাঠগড়ায়। আমি তখনও তেজস্ট্ক্রিয়া বিকিরণে বধিরপ্রায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লেগেছিল মনে নেই। এক সময় পার্ক থেকে বেরিয়ে নিজেকে মনে হলো, মহাকাশের মাঝে নিঃসঙ্গ ব্রাজক। কানে প্রতিধ্বনিত হয় কিশোরীর কথাগুলো। পুরো পার্কটা পরিণত হয় একটা মিছিলে, যার নেতৃত্ব দেয় অপুষ্ট একজন কিশোরী এবং প্রতিটি বৃক্ষ যেন লাখ জনতার মতো স্লোগান দেয়..ট্যাহা দেন..ট্যাহা দেন..।.. ট্যাহা দেন.. নইলে বন্ধ করুম সালোক সংশ্নেষণ প্রক্রিয়া।' মুহুর্মুহু স্লোগানে অস্থির হয়ে মেয়েটির হাতে পুরো মাসের সঞ্চয় তুলে দিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম।

এক সময় বাস এসে পড়লে বাসের দরজা খুলে ওপরে উঠলে গতি জড়তা গিলে খায়। শীতল হাওয়ায় লোমকূপে পিন পিন আদর। চোখ বন্ধ করি। চোখের নিচে টিকটিকির চেহারা স্পষ্ট হলে মন ভালো হয়ে যায়। সেদিনের ঘটনার পর প্রেম আমার কাছে আরও অর্থবহ হয়েছে। টিকটিকিই আমার প্রেম।

চোখ মেলে দেখি চলন্ত সন্ধ্যা। টিকটিকির ভাবনায় আমোদে মনে ঝিম ধরা এক অনুভূতি। ফার্মগেট থামলে দেখি সোডিয়াম শিশুরাত। ফার্মগেট দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে। অনেকে নামে। আমারও নামতে ইচ্ছে করে। মন চায় রাতের ভেতরে যে রাত, তার হাত ধরে হাঁটতে। টিকটিকি বাদে কার জন্য ঘরে ফেরা! সমকোণী ত্রিভুজ ঘরে সমান দুই বাহু বাবা ও সৎমা। অতিভুজ আমি। বিপরীত দিকে দু'জনের সাথে মিল হওয়া অসম্ভব। আংশিক মিলে টিকটিকির সঙ্গে। ফেরার মূল উদ্দেশ্য মূলত সেখানে। কবে থেকে টিকটিকি বন্ধু হয়েছিল, ঠিক মনে নেই। তবে যত রাত হোক না কেন টিকটিকি আমার জন্য অপেক্ষা করে। ঘরে ঢুকলে 'টিকটিক' করে হ্যালো বলে। রাত জেগে আমার সঙ্গে কথা বলে। আমিও নিজেকে উজাড় করে দিই। টিকটিকির প্রেমে সম্মোহিত হই। তারপর টিকটিকিতে রূপান্তরিত। মেটামরফসিস। টিকটিকি হওয়ার পর নিজেকে খুব হালকা মনে হয়। দেয়ালে দেয়ালে ঘুরে মাকড়সার জালে আটকে থাকা মথ ধরে খাই, ক্যালেন্ডারের নিচে, মার পুরোনো বাঁধানো ছবির নিচে লুকোচুরি খেলি। তিন কামরাবিশিষ্ট ঘরের চারপাশ ঘুরে ঘুরে দেখি। পুরোনো মোজাইক করা ফ্লোরে বাবা হুইল চেয়্যারে বসে নিজের মতো প্যারালাইজড হয়ে যাওয়া দেশটাকে নিয়ে ভাবে। বাবার মতো দেশটা কি আর কোনোদিনই উঠে দাঁড়াবে না?

ভাগ্যিস, বাবা টিকটিকি হয়নি! টিকটিকি হলে অর্ধেক অবশ শরীর নিয়ে দেয়ালে চলতে পারত না। হঠাৎ বাবার জন্য চোখ ভিজে ওঠে। কিন্তু কাঁদতে পারি না। কেননা, টিকটিকিরা তো কাঁদতে পারে না। সৎমা রান্নাঘরে টুকটাক কাজ করছে। বেচারি সৎমা একযুগ জীবন রান্নাঘরের চার দেয়ালের মাঝে কাটিয়ে দিল!

রাত গভীর হলে আমার টিকটিকি বন্ধু আমাকে ক্যালেন্ডারের নিচে নিয়ে যায়। বাবা-মার সামনেই পাতার নিচ থেকে সঙ্গমরত অবস্থায় বের হই। এ মুহূর্তটা খুব এনজয় করি। সবার সামনে একমাত্র টিকটিকিরাই সঙ্গম করতে পারে। অথচ জায়গার অভাবে মানুষ হয়ে বহুবার আদিত্যকে বাড়িতে এনে এ কাজ করতে পারিনি।

মহাখালীতে কয়েকটি ঘাম, ক্লান্ত আফটার শেভ নেমে গেলে মহাখালী বিষাদময় লাগে। ব্যাধিতে আক্রান্ত মহাখালী। বক্ষব্যাধি। পূর্বপুরুষদের যা ক্ষমা করেনি। নানা-দাদা দু'জনই টিবিতে আক্রান্ত হয়ে শুয়ে আছে আজিমপুরে। ক'দিন আগে বন্ধু পিয়াল ও আলিফ শুয়ে গেল বনানীতে। বনানীকে মনে হয় ঘুমন্ত শহর। মহাখালী-বনানী-উত্তরা। সূত্র এবং সমাধান এবং পরিণতি। পিয়াল ও আলিফ থেরাপির আঘাতে আগাম মৃত্যুর খবর জেনে কী রকম বোধ করেছিল! মৃত্যু কি ঠান্ডা, নাকি উষ্ণ! মৃত্যু কি একা! হঠাৎ ঠান্ডা লাগে। ভাবনার চাদর ভালো করে জড়াতে গিয়ে দেখি পাশের সিটে আমির। হঠাৎ বুকের মধ্যখানে টুং-টাং গিটারের ধ্বনি বাজে। আমির আমার ক্লাসমেট। সুপুরুষ। বন্ধুত্বের সীমানা ছাড়িয়ে প্রেমের সংজ্ঞায় দাঁড়ায় না আমাদের সম্পর্ক। তবুও ভালো লাগে। উষ্ণতা অনুভব করি।

-কাজ কি বেশি করছ! ক্লান্ত দেখাচ্ছে! আমির প্রশ্ন করে।

-কাজেই জীবন, কাজেই মরণ। কিছুটা শ্নেষ মিশিয়ে জবাব দিই।

-অনেক তো কাজ হলো, এবার নিজের দিকে নজর দাও। বিয়ে-থা কর!

-হা হা হা, বিয়ে! পুরুষদের! তার চেয়ে চিরকুমারী থাকা ঢের ভালো!

-হয়েছে! আর ফিলোসফি আওড়াতে হবে না! চল, কফি খাই। এয়ারপোর্টের কাছে বাসের দরজা খুলে গরম বাতাস ওঠে। শীতল হাওয়ায় গরম ঘ্রাণ, চার চোখের কথোপকথন। নেমে পড়ি নির্দিষ্ট স্থানের আগেই।

দিনের সব ঘটনাকে চৌকাঠের এপাশে ফেলে দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিই। যেন জলের দিকে প্রবহমান। স্রোতের মুখে অনন্ত ধাবমান। টু..টুু.. শব্দে জলের প্রবহমানতা হঠাৎ মোড় নেয়। মুঠোফোনে বলি, কেন ফোন করেছ!

-কেমন আছ হানি!

-ফোন করতে লজ্জা করে না!

-হোয়াই!

-পার্কের ঘটনা..ওহ গড তার আগে আমার মৃত্যু দিলে না কেন!

-ওহ নো.. কোনখানকার কোন রাবিশ কাকে মনে করে আমার কাছে টাকা চাইল, তুমি তা-ই বিশ্বাস করলে!

-এখন থেকে আমার বিশ্বাসের স্তর পরখ করার তোমার আর দরকার নাই। নাও আই ওয়ান্ট ফ্রিডম, প্লিজ, লিভ মি অ্যালন!

-লিভ ইট, টুমরো আই ওয়ান্ট টু মিট ইউ ইন মাই ফ্ল্যাট।

নওয়াবের কথাগুলো শেষ না হতেই মোবাইল সজোরে মেঝেতে ছুড়ে মারি। নিজের বাগদত্তাকে রেখে পার্কের মেয়েদের কাছে যেতে যে দ্বিধাবোধ করে না, তার সাথে আবার সম্পর্ক! ইম্পসিবল। চিৎকার করি, টিকটিকি টিকটিকি.. টিকটিক টিকটিক..

টিকটিকি কোথাও নেই। ক্রন্দনরত অবস্থায় ঘুমিয়ে গেলে দেখি রাতের তখন পূর্ণ যৌবন। প্রমত্তা মেঘনার জল ছোটে উদ্ধত গতিতে। ভাসিয়ে দেয় সবকিছু। সাগর থেকে বিপরীত মুখে এসেছে স্রোত। ফোঁস ফোঁস করে ফোলে। বাঁচাও বাঁচাও..। কে ডোবে মেঘনার বুকে! আলিফ! আলিফের সঙ্গে বিয়ের কথা ছিল। ওর না কঠিন ব্যাধি! না! আসিফ ডুবেছে জলে, সাঁতার শিখতে গিয়ে। নাকি আত্মহত্যা! সবাই কানাকানি করে, 'মেঘনাকে না পেয়ে আসিফ মেঘনায় ডুবেছে।' কৌতূহলীরা আসিফকে দেখতে যায়। আমি যাই না। মৃত্যুমুখ দেখে প্রথম প্রেমের স্মৃতি হারাতে চাই না। পাশে কে! আদিত্য! আদিত্য শোন, আমি একা হতে চাই না। সারাদিন কাজের পর ক্লান্ত হয়ে তোদের কাঁধে মাথা রাখতে চাই। ভালোবাসতে চাই। ঘর বাঁধতে চাই। কেননা, একাকিত্ব বড় কষ্টের। আমি তোদের চাই। তোকে চাই।

তোদের ধারণা, পুরুষের রক্ত পান করে আমি অমরত্ব পেতে চাই! ঠিক নয়। সামান্য কেরানির মেয়ে বাইয়িং হাউসে কাজ করি নামেমাত্র বেতনে। বাবার চিকিৎসা, সঙ্গে সংসারের বোঝা! তোরাই বল, একা আমার পক্ষে বহন করা কত কঠিন! সেখানেও পদে পদে অক্ষমতার গঞ্জনা শুনতে হয়। তখনই এই মনটাকে তোদের কাছে বন্ধক রাখি। এটা কি অন্যায়? আদিত্য, যাবি না, প্লিজ! আদিত্য, আলিফ, আমির .. আমাকে ছেড়ে কেউ যাবি না। প্লিজ..

স্বপ্নের ভেতর রাতের প্রবেশ। বন্ধু টিকটিকির কোনো সাড়া নাই। অতিরিক্ত মানসিক যন্ত্রণায় রূপান্তরিত হতে পারছি না কনসেনট্রেইটের অভাবে। কষ্টে-দুঃখে তড়পাই, ছটফট করি। অসহ্য হয়ে এক সময় লাইট অন করি। সঙ্গমরত টিকটিকিরা লজ্জা পায়। টিকিটিকিও শেষমেশ বিট্রে করল। হায়! টিকটিকি, তুইও মানুষের মতো হলি! রাগে ক্ষোভে তাদের দিকে বই ছুড়ে মারি। সঙ্গমরত টিকটিকিরা দৌড়াতে পারে না বলে বইয়ের আঘাতে নিচে পড়ে যায়। উঠতি বয়সী টিকটিকিটা কোনো কিছু বোঝার আগেই দৌড় দেয় টেবিলের নিচে। বন্ধু টিকটিকিটি দৌড়াতে পারে না। বইটা তার মাথায় লেগেছিল বলে স্পট ডেড।

রাতের নিস্তব্ধতায় নিঃশ্বাস বড় হলে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে দেখি টিকটিকি উপুড় হয়ে শুয়ে আছে ঘরের মেঝেতে। বুকে সাহস নিয়ে কাঁপা কাঁপা পায়ে সামনে আগাই। উপুড় হওয়া টিকটিকিকে চিনতে পেরে আতঙ্কিত হই। এটা কী করে সম্ভব! আসিফ না মরে গেছে মেঘনায় সাঁতার কাটতে গিয়ে! কিছু ভাবতে পারি না। ক্রমশ অন্ধকার হয়ে আসে সব।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)