১৩তম এসএ গেমস

ঝলমলে রঙ্গশালায় বর্ণিল উদ্বোধন

০২ ডিসেম্বর ২০১৯ | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯

সাখাওয়াত হোসেন জয়, কাঠমান্ডু থেকে

ছবি: সমকাল

'১৩তম এসএ গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করলাম'- নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী বান্দারির মুখে এ কথা শোনার পরই নিভে যায় কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামের সব আলো। আতশবাজির রোশনাইয়ে আলোকিত রঙ্গশালা স্টেডিয়াম।

গ্যালারিতে আসা দর্শকের মোবাইলের আলো জ্বলে উঠল। দেখে মনে হচ্ছিল, যেন গ্যালারিতে জোনাকির আলো ছড়াচ্ছে। আলোয় ঝলমলে গোটা স্টেডিয়ামকে তখন বড় মায়াবী লাগছিল। সবুজ গালিচার মাঝখানে পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে সাত দেশের ক্রীড়াবিদ ও ডেলিগেটরা।

মনোমুগ্ধকর আতশবাজির পর দশরথ স্টেডিয়ামের বেদিতে গিয়ে মশাল জ্বালান চারবারের স্বর্ণজয়ী সাবেক তায়কোয়ান্দোকা দীপক বিষ্টা। শেষ দিকে লেজার শো, কালারপুল ডিসপ্লে; সাড়ে তিন ঘণ্টার জমকালো উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে গতকাল কাঠমান্ডুতে পর্দা উঠল দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিকখ্যাত আসর এসএ গেমসের। আনুষ্ঠানিক যাত্রায় মিলল সম্প্রীতির বন্ধন।

বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও স্বাগতিক নেপালের প্রায় তিন হাজার অ্যাথলেটের সঙ্গে দেশগুলোর ডেলিগেটদের মিলনমেলায় মুখর ছিল কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামের সন্ধ্যাটা। সবার আগে মার্চপাস্টে বাংলাদেশ। দলকে নেতৃত্ব দেন তিন বছর আগে ভারতের শিলং ও গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা।

বিকেল ৫টার দিকে নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী বান্দারি স্টেডিয়ামের ভেতরে প্রবেশ করার পরই পঞ্চবাদক বাঁশি বাজিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর সেনাবাহিনীর অর্কেস্ট্রা দল বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে নেপালের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। সাউন্ড বক্সে বেজে ওঠা জাতীয় সংগীতের প্রতিধ্বনি পুরো গ্যালারিতে ওঠে। এরপর শুরু হয় মার্চপাস্ট। সবার সামনে মাসকট ও লোগো হাতে স্থানীয় একদল রমণী। তাদের পেছনে সাত দেশের পতাকা ও নেপাল অলিম্পিক কমিটির লোগো হাতে ছিল পতাকাবাহী একটি দল। এরপরই ছিলেন সাত দেশের ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তারা। প্রথমে বাংলাদেশ দল। লাল-সবুজের পতাকা হাতে মার্চপাস্টে সবার সামনে ছিলেন শিলা। তার পেছনে এসএ গেমসে বাংলাদেশের সেফ দ্য মিশন আসাদুজ্জামান কোহিনুর ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা।

ছবি: সমকাল

মার্চপাস্টে শুটিং, ক্রিকেট, ফুটবল, সাঁতারসহ কাঠমান্ডুতে যেসব ইভেন্ট আছে, সেসব ডিসিপ্লিনের কয়েকজন খেলোয়াড় ছিলেন। পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ করার পর মাঠের মাঝখানে গিয়ে থামে বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশের পর মার্চপাস্টে অংশ নেয় ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও স্বাগতিক নেপাল। কয়েকজন শরণার্থীও মার্চপাস্টে অংশ নেন। এরপরই বক্তব্য দেন সাউথ এশিয়ান ও নেপাল অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট জীবন রাম শ্রেষ্ঠা, 'আমরা এ নিয়ে তৃতীয়বার এসএ গেমস আয়োজন করছি। আশা করি, অতীতের মতো এবারও আমরা সফল হব।' দক্ষিণ এশিয়ান দেশগুলো যে একতাবদ্ধ, তা বোঝাতে গিয়ে একটি স্লোগানে বক্তব্য শেষ করেন জীবন রাম, 'আমরা এক, আমরা দক্ষিণ এশিয়া।'

নেপাল অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পরই এসএ গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী। তার ভাষণের পর নেপালের সব অলিম্পিয়ান মশল বহন করে দীপক বিষ্টার হাতে দেন। বেদিতে তিনি মশাল প্রজ্বালন করেন। ১০ ডিসেম্বর গেমসের শেষ দিন পর্যন্ত প্রজ্বলিত থাকবে মশাল। তারপর ক্রীড়াবিদদের পক্ষ থেকে শপথবাক্য পাঠ করান তারকা ক্রিকেটার পরশ খড়কা এবং জুরিদের পক্ষ থেকে রেফারি দীপক থাপা।

এসব আনুষ্ঠানিকতার পর শুরু হয় মিউজিক্যাল পারফরম্যান্স। রঙিন আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ওয়েলকাম নৃত্য। ১০ মিনিটেরও বেশি সময় নেপালের সেনাবাহিনী, আর্মড পুলিশ ফোর্সেস ও নেপাল পুলিশের এক হাজার চৌকস সেনারা সাত দেশের নামের সঙ্গে মাঠেই সংশ্নি ষ্ট দেশের মানচিত্র ফুটিয়ে তোলেন। ছিল নেপালের ঐতিহ্যগত নৃত্যও। তুলে ধরা হয় নেপালের কৃষ্টি-কালচার। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবাইকে মোহিত করে। সবশেষে আতশবাজির মাধ্যমে শেষ হয় এসএ গেমসের জমকালো উদ্বোধনের।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)