সাক্ষাৎকার: ড. জাহিদ হোসেন

সুবিধা দিয়ে খেলাপি ঋণ কমানো যাবে না

০৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: জাকির হোসেন ও শেখ রোকন

ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করেন। তিনি
বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট। বিশ্বব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগে
দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। বাংলাদেশের
অর্থনীতির বিভিন্ন দিক, বিশেষত ব্যাংক খাত নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেন সমকালের
সঙ্গে



সমকাল :ইদানীং অর্থনীতি নিয়ে আলোচনায় শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সামষ্টিক
অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় কিছুটা চিড় ধরেছে। আপনার কাছে কী মনে হয়?


জাহিদ হোসেন :এ বিষয়ে আলোচনাকে দু'ভাগে ভাগ করতে হবে। একটা হলো-
মূল্যস্ম্ফীতি, বহিস্থ খাত, রাজস্ব খাত মিলিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতির
স্থিতিশীলতা। দ্বিতীয় ভাগ হলো, ওই স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে
বাড়াতে, টেকসই করতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে কতটুকু সহায়ক। বাংলাদেশের
অতীত রেকর্ড যদি দেখি তাহলে মূল্যস্ম্ফীতি, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য,
মুদ্রা বিনিময় হার, বাজেট ঘাটতি ও তার অর্থায়ন এবং সেই অর্থায়নের ফলে
পূঞ্জীভূত ঋণের পরিস্থিতি অনেক দেশের তুলনায় ভালো ছিল। ইদানীং মানে গত
দু'এক বছরে কিছু চিড়ের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যেমন- বৈদেশিক লেনদেনের
ভারসাম্যে অনেকদিন উদ্বৃত্ত ছিল। সেই উদ্বৃত্ত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ
ব্যাংক বাজার থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
বেড়ে ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। এটা না করা হলে মুদ্রা বিনিময় হার আরও
অতিমূল্যায়িত হতে পারত। তারপর আমরা দেখলাম, বছর দুই আগে রেমিট্যান্সে একটা
ধস এলো। আবার আমদানি অনেক বেড়ে গেল। রপ্তানি ওঠানামা করল। ফলে গত দুই বছর
ধরে চলতি হিসাবে ঘাটতি দেখা গেছে। এখনও ঘাটতিটা রয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক
এখন রিজার্ভ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করছে। গত দুই বছরে ৪৬০ কোটি ডলারের
বেশি বিক্রি করেছে। এটাই সঠিক উপায় কিনা, তা নীতির বিষয়। ব্যবস্থাপনা
কীভাবে হচ্ছে, যেভাবে হচ্ছে তা কতদিন চালানো যেতে পারে, তা নিয়ে বিতর্ক
থাকতে পারে। তবে এখানে একটু সতর্ক হওয়ার ব্যাপার আছে।


সমকাল :বাজেটের ঘাটতি অর্থায়নে সরকারের নীতি আপনার কাছে যথার্থ মনে হয়?
বিশেষত সঞ্চয়পত্রের ওপর আমরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশি নির্ভরশীলতা
দেখেছি, যা সরকারের সুদ বাবদ ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা কি সামষ্টিক
অর্থনীতির স্থিতিশীলতার পথে বাধার সৃষ্টি করেছে?


জাহিদ হোসেন : বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা সরকারের লক্ষ্য।
অনেক সময় এটি ৪ শতাংশের নিচে ছিল। কিন্তু ইদানীংকালে বাড়ছে। এখন সাড়ে ৪ বা ৫
শতাংশের কাছাকাছি যাচ্ছে। ঘাটতিটা বড় কিছু নয়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে
আমরা অর্থায়নের যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছি, তাতে বাজেটের ওপর সুদের বোঝা
অনেক বেড়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে
অনেক বেশি ঋণ নিয়েছে। সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে আমাদের নীতি হলো, 'চাহিবা মাত্র
বিক্রি করব।' ফলে সরকারকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। ঋণ-জিডিপি অনুপাত না
বাড়লেও সুদের বোঝা বেড়েছে। ঘাটতি অর্থায়ন অধিকতর ব্যয়বহুল হয়েছে। এর ফলে
'ফিসক্যাল স্পেস' সংকুচিত হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, যা
সরকারের ব্যয় আরও বাড়িয়েছে। তবে সার্বিকভাবে বাজেট ঘাটতি অর্থনীতির
স্থিতিশীলতার জন্য এখনও বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি তৈরি করেনি। আমরা যে চিড়ের কথা
বলছি, তা অনেকটা আর্থিক খাত থেকে আসছে। সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়ে
যাওয়ায় মূলধন ঘাটতি হচ্ছে। বাজেট থেকে সেখানে টাকা দিতে হচ্ছে। বছরের পর
বছর হাজার হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কারণে একটা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।


সমকাল :ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমাত্রায় খেলাপি ঋণ রয়েছে। ইদানীংকালে
আমরা দেখছি, খেলাপিদের সুবিধা দিয়ে ঋণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে; কিন্তু
তাতেও কাজ হচ্ছে না কেন?


জাহিদ হোসেন :প্রথম বিষয় হচ্ছে, খেলাপি ঋণ কেন বাড়ছে? একটা কারণ হতে পারত,
অর্থনীতি ভালো করছে না, ব্যবসায়ীরা লোকসান দিচ্ছেন এবং ঋণ ফেরত দিতে পারছেন
না। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তো বেড়েই চলেছে। যেসব খাতে আমরা খেলাপি ঋণ
বেশি দেখি, সেসব খাতেই জিডিপি বাড়ছে। উৎপাদন কিংবা সেবা খাতে উচ্চ
প্রবৃদ্ধি দেখছি। ব্যবসায় মন্দার কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে, তা বলা খুব কঠিন।
আমার মনে হয়, ইচ্ছা করে ঋণ ফেরত না দেওয়ার সংস্কৃতিটাই এখানে মুখ্য। ফলে
বারবার পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের সুবিধা দিয়ে লাভ হবে না। সর্বশেষ ২ শতাংশ
এককালীন জমা এবং ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই
সুবিধা দেওয়ার ফলে ভালো গ্রহীতা যারা নিয়মিত ঋণ ফেরত দিতেন, তারা যদি এমন
একটা সংকেত পান যে, খেলাপি তালিকায় গেলে ঋণের শর্তাবলি শিথিল হয়ে যাবে,
তাহলে তাদের মধ্যেও খেলাপি হওয়ার প্রবণতা তৈরি হবে।


সমকাল :এই প্রবণতা আরেকটু ব্যাখ্যা করে বলবেন?


জাহিদ হোসেন :নিশ্চয়ই। কেউ কেউ ব্যবস্থাপনা কৌশল এমনভাবে সাজাবেন যে, আমি
ঋণ নিয়ে খেলাপি হবো, তারপর সুবিধা নিয়ে ফেরত দেব। তাহলে তো এই ২ শতাংশের
সুবিধা দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যাবে না। এই সংকেতটা কখন যায়? যখন বাজার
মনে করে যে, এ ধরনের সুবিধা বারবার দেওয়া হবে। এর আগে ২০১৫ সালেও কয়েকটি
শিল্পগ্রুপকে ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা দেওয়া হয়। বলা হলো, পরবর্তীকালে এ
সুবিধা আরও দেওয়া হবে না। কিন্তু আমরা দেখলাম, ওই প্রক্রিয়া সফল হয়নি।
তাদের কেউ কেউ আবার খেলাপি হয়েছে এবং আবার পুনঃতফসিল সুবিধা নিচ্ছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, এই সুবিধা বারবার দেওয়া হবে না। কিন্তু যখনি খেলাপি
ঋণ বেড়ে যায়, তখন আবার সুবিধা দেওয়া হয়। এখান থেকে বাজারে ভালো বার্তা
যাচ্ছে না।


সমকাল :অনিচ্ছাকৃত কারণেও অনেকে খেলাপি হয়ে যান। তাদের ক্ষেত্রে করণীয় কী?


জাহিদ হোসেন :প্রথমত ঋণগ্রহীতা কেমন তা জানতে হবে। যারা ব্যবসা জানেন না বা
বোঝেন না, তাদেরকে ঋণ দিলে বুঝতে হবে, ব্যাংকার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো
করেননি। এখানে হয়তো গ্রাহক অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি। কিন্তু তার অদক্ষতাকে
বিবেচনায় আনা উচিত ছিল। দ্বিতীয়ত, জেনেশুনেই এমন গ্রাহককে ঋণ দেওয়া যেখানে
ব্যাংকারও জানেন, সেই ঋণ আদায় করা কঠিন হবে। আমাদের যে আইনি কাঠামো আছে,
তার জটিলতার সুযোগ নিয়ে, করপোরেট সুশাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে, নিয়ন্ত্রক
সংস্থার নীতিকে প্রভাবিত করে কিংবা তদবির করে অনেকে ঋণ ফেরত দিচ্ছেন না।
এসবই ঋণখেলাপি বৃদ্ধির মূল কারণ।


সমকাল : বর্তমান পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণ আদায়ে কী করা যেতে পারে? সম্প্রতি
এক কর্মশালায় সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠনের পরামর্শ এসেছে।


জাহিদ হোসেন :খেলাপি ঋণ আদায়ে দুটি উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। প্রথমত,
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে।
আইএমএফের হিসাবে এর পরিমাণ দ্বিগুণ। নতুন করে এর পরিমাণ যাতে না বাড়ে,
নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যারা বারবার ঋণখেলাপি হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে যেসব বাধা আছে, তা ঠিক না করে
সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি করে লাভ হবে না।


সমকাল :নতুন করে যাতে খেলাপি ঋণ তৈরি না হয়, সে জন্য কী করতে হবে?


জাহিদ হোসেন :নতুন ঋণখেলাপি বন্ধ করার জন্য সঠিক নীতি দিতে হবে।
বিশ্বাসযোগ্য একটি রেগুলেটরি অবস্থান নিতে হবে। যারা সুবিধা নিয়েও বারবার
খেলাপি হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে।
তাদেরকে বিচারিক ব্যবস্থার মধ্যে আনতে হবে। তাছাড়া অন্যরা বিশ্বাস করবেন
না। অর্থঋণ আদালতে গিয়ে যদি দশ বছর মামলা আটকে থাকে, আইনে যদি ফাঁকফোকর
থাকে, তাহলে এ ধরনের কোম্পানি গঠন করে লাভ হবে না। এক আদালত থেকে যে রিট
খারিজ হয়ে গেছে, অন্য আদালতে সে রিট আবার করা হচ্ছে। এখানে তথ্য লুকিয়ে
রাখা হয়েছে। এটা একটা অপরাধ। আপনি বিচার ব্যবস্থাকে 'মিসলিড' করেছেন। এগুলো
যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, তাহলে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করে
লাভ হবে না। এটা আরেকটা 'সাদা হাতি' তৈরি করবে।


সমকাল :আমাদের ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদে আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেয়।
অন্যান্য দেশে পুঁজিবাজার থেকেই দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়। আমরা কেন পারছি
না?


জাহিদ হোসেন :ব্যাংক ছাড়া মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদি ঋণের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা
এখানে করা কঠিন। পুঁজিবাজারে নতুন শেয়ার ইস্যু করতে অনেক সময় লেগে যায়।
আইপিও অনুমোদনের জন্য দেনদরবার করতে হয়। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে দর
নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনিয়মের কথা শোনা যায়। আর্থিক প্রতিবেদন সঠিক কিনা তা
নিয়ে সন্দেহ থাকে। সব মিলিয়ে এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এখানে মূলত
সুশাসনের সমস্যা। এগুলোকে সমাধান করতে পারলে পুঁজিবাজার যথাযথভাবে কাজ করবে
না। আবার বন্ডের সেকেন্ডারি বাজারের উন্নয়ন হচ্ছে না। তবে সাম্প্রতিককালে
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বাংলা বন্ড ইস্যু একটা শুভ সূচনা।


সমকাল :বেসরকারি খাতে ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অনেক কমে গেছে। অন্যদিকে
সরকার ব্যাংক থেকে প্রচুর ঋণ নিচ্ছে। এর ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত
হবে বলে মনে করেন?


জাহিদ হোসেন :আমরা বলছি, সঞ্চয়পত্রের প্রতি নির্ভরশীলতা কমাতে হবে এবং
বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশে রাখতে হবে। এর মধ্যে ৩ শতাংশ আগে সঞ্চয়পত্র
থেকে আসত। সেটা ঠিক ছিল না। তাহলে এই ৩ শতাংশ কোথা থেকে আসবে। এটা তো
ব্যাংক ব্যবস্থা থেকেই আসতে হবে। তবে প্রশ্নটা হচ্ছে সময় নিয়ে। এই
পরিস্থিতি যদি তিন বছর আগে হতো, তাহলে কোনো ঝুঁকি ছিল না। প্রচুর তারল্য
ছিল, ব্যাংকাররাও তাদের টাকা রাখার জায়গা পাচ্ছিলেন না। কিন্তু এখন এমন
একটা সময় যখন খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। বহিস্থ খাতে উদ্বৃত্ত আর নেই। এ অবস্থায়
সরকার যখন বেশি ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ গ্রহণ করছে, তখন তারল্যের ওপর, বিশেষ
করে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তির ওপর একটা প্রভাব আসছে। এছাড়া এ বছর রাজস্ব
আয়ে খুবই কম প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে ৩ শতাংশের নিচে।
রাজস্ব আদায়ের গতি এমন থাকলে অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে সরকারকে আরও বেশি ঋণ
নিতে হবে। তখন বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তি আরও সংকুচিত হতে পারে।


সমকাল :ভারতে কিছু ব্যাংক একত্রীকরণ করা হচ্ছে। বলা হয়, আমাদের দেশে ব্যাংক বেশি। বাংলাদেশ কি এমন চিন্তা করতে পারে?


জাহিদ হোসেন :ব্যাংকের সংখ্যা আমাদের অর্থনীতির আকারের তুলনায় অনেক বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটা স্বীকার করেও নতুন নতুন ব্যাংককে লাইসেন্স দিয়ে
যাচ্ছে। সংখ্যা বেশি নাকি কম সেটা কিন্তু বাজারেরই নির্ধারণ করে দেওয়ার
কথা। আমি একটা নতুন ব্যাংক নিয়ে এলাম, তার মানে নিজের মূলধন এখানে
খাটাচ্ছি। এখানে প্রতিযোগিতা বেশি। আমি যদি সেখানে নতুন একটি প্রোডাক্ট
নিয়ে আসি যা অন্য ব্যাংক দিচ্ছে না, তাহলে বেশি ব্যাংক থাকা সত্ত্বেও আমি
টিকে যাব। আর আমি যদি নতুন কিছু দিতে না পারি, তাহলে গ্রাহক পাব না।
অর্থনীতিতে এটাকে 'ক্রিয়েটিভ ডিস্ট্রাকশন' বলে। আমাদের দেশে ওভাবে ব্যাংক
এক্সিট কিংবা এন্ট্রি হচ্ছে না। আমি যখন ব্যাংকের অনুমোদন দিচ্ছি, তখন কে
আবেদন করেছে, তার পরিচয় কী, তার আনুগত্য কোথায়- এগুলো দেখছি। আবার ব্যবসায়
এসে খারাপ করলে বা ব্যর্থ হলে তার পরিত্রাণ কী হবে, সে বিষয়টি আমাদের আইনি
প্রক্রিয়াতেও অস্পষ্ট। আবার খারাপ কোনো কোম্পানিকে ভালো কোম্পানির ওপর
চাপিয়ে দিলে দেখা গেল, ভালোটা খারাপ হয়ে গেছে।


সমকাল :আমরা বরং খারাপটাই ভালো দেখতে চাই। ভালোটা খারাপ নয়। আমাদের সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।


জাহিদ হোসেন :সমকালের জন্য শুভেচ্ছা।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)