কিডনি দান করার বিধান রেখে আইন সংশোধনে হাইকোর্টের নির্দেশ

০৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

কিডনি দান করার বিধান রেখে আইন সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৬ মাসের মধ্যে আইন সংশোধনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এ ছড়াও অবৈধ কিডনি ব্যবসা বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। 

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, মানবিক দিক বিবেচনায় বিশেষ পরিস্থিতিতে নিকটাত্মীয়ের বাইরেও যে কোনো ব্যক্তি কিংবা পরিচিতজন স্বেচ্ছায় মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন- এমন বিধান আইনে থাকা উচিত। এ জন্য আইন সংশোধন করা প্রয়োজন। রায়ে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের ক্ষেত্রে প্রত্যয়ন বোর্ড গঠনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বলা হয়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের ক্ষেত্রে ইমোশনাল ডোনেশন হচ্ছে কি-না তা যাচাই-বাছাই করার জন্য প্রত্যেকটি হাসপাতালে একটি করে প্রত্যয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে। ওই প্রত্যয়ন বোর্ড আত্মীয়-স্বজনদের জিজ্ঞাসা করে দাতার সঙ্গে রোগীর পরিচয় নির্ণয় করবেন। দাতা নিজ ইচ্ছায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করছেন কি না; অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনা-বেচা হচ্ছে কি না এবং দাতা মানসিকভাবে সুস্থ্য বা মাদকাসক্ত কি না তা ওই বোর্ড নির্ণয় করবে।

মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করার সুযোগ না রাখার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন ফাতেমা জোহরা নামের এক ব্যক্তি। পরে ওই বছরের ২৪ আগস্ট রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-১৯৯৯ এর অধীনে ১৮ বছরেও বিধি প্রণয়ন না করায় বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এরপর রুলের শুনানিতে কয়েকজন চিকিৎসেরও বক্তব্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। 

গত ৭ নভেম্বর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নিকটাত্মীয় ব্যতীত মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করার সুযোগ না রাখা সংকীর্ণতা। পরে ২১ নভেম্বরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে তাদের বক্তব্য দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও মো. শাহীনুজ্জামান শাহীন।

পরে রাশনা ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিচিত এবং সম্পর্ক আছে এমন ব্যক্তিরা চাইলে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন। এ রায়ের ফলে নিকটাত্মীয় ছাড়া কেউ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবে না- এমন বিধান আর কার্যকর থাকছে না। এ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সংশোধন করতে হবে।

রিট দায়ের প্রসঙ্গে পরে তিনি বলেন, ফাতেমা জোহরা ২০১৫ সালে তার মেয়ে ফাহমিদাকে একটি কিডনি দান করেন। এরপরও মেয়ের কিডনি অকেজো হয়ে গেছে। বর্তমানে ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল। কিন্তু আইনগত বাধার কারণে মেয়েকে দাতার কাছ থেকে কিডনি দিতে পারছেন না তিনি। এ অবস্থায় তিনি হাইাকের্টে রিটটি করেন। তার মতে, আমাদের আইনে দাতাকে ১৮ বছর থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত বয়সের ব্যক্তি হতে হয়। মেডিকেল বোর্ডের ছাড়পত্র নিতে হবে। আইনের এ বাধ্যবাধকতার কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)