সিদ্ধান্ত কে নিল জানেন না পাপন

২৯ জানুয়ারি ২০২০ | আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০ সিরিজে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে হতাশ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। স্লো অ্যান্ড লো পিচে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া এবং এলোমেলো ব্যাটিং অর্ডার দেখে রীতিমতো বিস্মিত তিনি। খেলোয়াড়, কোচের সঙ্গে বসে তিনি জানার চেষ্টা করবেন এলেবেলে সিদ্ধান্ত কার কাছ থেকে এসেছে। দলের ভেতরের সমস্যাও খতিয়ে দেখবেন বোর্ড সভাপতি।

বুধবার ধানমন্ডির ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সাংবাদিকদের নাজমুল হাসান পাপন আক্ষেপ করে বলেন, টি২০-তে ১৩০-১৪০ রান করলে কোনো দিনই ম্যাচ জেতা যাবে না।

পাকিস্তানের বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, 'অনেকদিন পর খেলা দেখে মনে হয়েছে, এটি বাংলাদেশের খেলা নয়। সাধারণত টি২০-তে আমরা যেভাবে খেলি, এবার তার উল্টোটাই দেখলাম। বিনা উইকেটে ৯৬ রানের পরও ওই অবস্থা? ১২-১৪ ওভারের পর আমরা এত রক্ষণাত্মক খেলেছি, যেটা সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা।'

এমন পরিস্থিতি কেন হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'খেলোয়াড়, কোচ, টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে নিবিড়ভাবে বসতে হবে। আমার কয়েকটি প্রশ্ন আছে। রিয়াদ ও তামিমের সঙ্গে বসেছিলাম। প্রথম ম্যাচের পর জানতে চেয়েছিলাম, এত বছর পর পাকিস্তানের অপরিচিত কন্ডিশনে খেলতে এসে ব্যাটিং নিলাম কেন? আমরা তো চেজ ভালোই করি। ওরা বলছিল ব্যাটিং পিচ, সে জন্য। খুব ভালো পিচই যদি হবে, তাহলে ব্যাটিংয়ের ধরন মিলবে না কেন? দ্বিতীয় ম্যাচে জিজ্ঞেস করলাম- টার্গেট কী, আবারও বলল ১৫০। আমি বললাম, ১৬০-এর নিচে টি২০-তে কোনো স্কোরই হয় না। ১৮০-কে ন্যূনতম রান ধরা হয়। ২০০ করেও এখন সহজে জেতা যায় না। আমাদের টার্গেট এত লো কেন?'

এ প্রসঙ্গে পাপন আরও বলেন, 'ভারতের সঙ্গে দিবারাত্রির টেস্টেও দেখলাম টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে। অথচ গোলাপি বলে আমরা আগে কখনও খেলিনি। এগুলো নতুন দেখছি। তারা আগে বলছে ব্যাটিং পিচ, খেলা শেষে বলছে ব্যাট করা কঠিন। বুঝলাম না। তার মানে কি পিচ বুঝতে পারছি না? ওরা যদি বলে পিচ বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে, তাহলে তো আমরা সাহায্য করতে পারি। আমি মনে করি, এটা নিয়ে আলাপ করা দরকার।'

তিনি বলেন, 'সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তামিম না থাকায় ভারতের বিপক্ষে ওপেন করেছে লিটন আর নাঈম। সৌম্যও ওপেন করতে পারে। দ্বিতীয় ম্যাচে যখন নাঈম আউট হয়ে গেল, তখন লিটন বা সৌম্যকে না নামিয়ে হঠাৎ করে মেহেদীকে খেলানো হলো। আর আফিফের খেলার কথা তো ছয়ে। ওরা কেন তিন-চারে। এ প্রশ্ন করলে এক্সপেরিমেন্ট না কি যেন বলল। আমার মনে হয়, এটা যৌক্তিক নয়। মানে লিটন, তামিম ও নাঈমের মধ্যে দু'জন ওপেন করবে, একজন তিনে খেলবে। চারে যেহেতু মুশফিক নেই, রিয়াদ আসতে পারে। কারণ রিয়াদের খুব শখ ওপরে খেলার। আমি এ জিনিসগুলোই জিজ্ঞেস করেছিলাম। সব আপনাদের বলা যাবে না। কোচের সঙ্গেও বসতে হবে। একটা জিনিস স্পষ্ট, ১৩০-১৪০ করে কারও সঙ্গে জেতা যাবে না। আমার মনে হয়, বিষয়টি খুবই গুরুতর।'

বিশ্বকাপের পর থেকেই বাংলাদেশের খেলায় ধারাবাহিকতার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিবি সভাপতি বলেন, 'কিছু বিষয় আমরা মোকাবিলা করছি। টিম ম্যানেজমেন্ট বলেন, বোর্ড বলেন, আমরা স্ট্রাগল করছি। যেমন ধরুন, ভারত সিরিজের ঠিক আগমুহূর্তে অর্থাৎ ঠিক তিন দিন আগে যখন শুনলাম সাকিব খেলতে পারবে না, এটা তো বড় ধাক্কা। হঠাৎ করে সাকিবের বিকল্প পাওয়া কঠিন। সাকিবের বিকল্প আমাদের হাতে নেই। তামিম বলল, ও যাবে না- এটাও একটা ধাক্কা। আমরা ভারত সিরিজে নাঈমকে প্রথম নামালাম। তামিম ফিরে এলো ওপেনিংয়ে, আবার চেঞ্জ হলো। তার ওপর মুশফিকও যায়নি। চারের পজিশন নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। আমরা যদি আগেভাগে জানতে পারি, তাহলে একটা পরিকল্পনা করা যায়; কিন্তু জানতে পারছি ঠিক সিরিজের আগে। মুশফিকের চেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান আমাদের নেই। এখন ধরুন চারে নতুন একটি ছেলেকে নিলাম, সে কী করবে। যদি ভালো করেও, তার পরও পরের সিরিজে সুযোগ পাবে না। আর খারাপ করলে ক্যারিয়ারই শেষ। এই টেনশন নিয়ে তো খেলা যায় না। অন্তত তিন ম্যাচ খেলতে দিতে হবে। এর পরে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে খেলা, তখন মুশফিক খেলবে, আবার পাকিস্তানে যাব অন্য একজনকে নিয়ে।'

বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের বিষয়ে পাপন বলেন, 'তামিম, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদদের রুলস শেখাতে আসেন না কোচরা। ওদের শেখানোর দরকারও নেই। এমকি সৌম্য, লিটনকেও রুলস বলার প্রয়োজন দেখি না। যদি বলে দিতে হয় ক্রিজে গিয়ে কীভাবে খেলবে, তা দুঃখজনক। নতুন ছেলেদের বলা যেতে পারে; কিন্তু যারা মূল খেলোয়াড়, তাদের রুলস শেখানোর কিছু নেই। দ্বিতীয়ত কোচও নতুন। কোচ যেমন বলছেন, এই প্রথম তিনি তামিমের খেলা দেখলেন। নতুন কোচ বলেই বেশি সময় নিচ্ছেন। আর কোচটা দীর্ঘমেয়াদে বেশি চিন্তা করছেন, যেটা ভালো। সেজন্য এপপেরিমেন্টও হচ্ছে। তবে সেটা কোচের জন্য হচ্ছে না অধিনায়কের জন্য, জানতে হবে।'

দলে সংকট রয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আসলে বলা মুশকিল। কোচের সঙ্গে বসতে হবে। আমি তো বসেছি খেলোয়াড়দের সঙ্গে। তাদের কেউ বলেনি কোচ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, বা কোচ বলেছেন। এখন কোচকে জিজ্ঞেস করতে হবে, কে সিদ্ধান্তগুলো দিচ্ছিল। আমার কাছে যেটা মনে হচ্ছে, আমাদের দল মনে করেছিল কম করলেও জিততে পারবে।'

দলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কে নিচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে বোর্ড সভাপতি বলেন, 'আমি কোচের সঙ্গে বসিনি। আমি বসেছি রিয়াদ আর তামিমের সঙ্গে। টসের কথা জিজ্ঞেস করেছি, জিজ্ঞেস করেছি কেন ব্যাটিং নিল। বুঝলাম প্রথম ম্যাচে হয়নি। দ্বিতীয় ম্যাচেও দেখলাম ব্যাটিং নিল। রান তো নিলই না, অত্যাধিক ডিফেন্সিভ মনে হয়েছে খেলাটাকে। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাটিং অর্ডার আমার কাছে আশ্চর্য মনে হয়েছে, যেটার মধ্যে যুক্তি খুঁজে পাইনি। সৌম্য, রিয়াদ, লিটনের মতো ব্যাটসম্যান কেন পরে এসে ব্যাট করবে। ওদের সঙ্গে যা বলার বলেছি।'

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)