বর্তমানে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের মুখোমুখি

 সমাজ

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০ । ০২:০৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

না, মন্টু মণ্ডলকে আমরা চিনি না। চিনবার উপায় নেই। চিনবার প্রয়োজনও নেই। অতি সাধারণ মানুষ একজন তিনি, নিজেই নিজেকে চেনেন না, অন্যরা কোন ছার। মন্টু মণ্ডল নিজেকে নিরীহ মানুষ বলেই জানতেন; তিনি যে খুনি একজন তা তার জানবার কথা নয়। কারণ কাউকে তিনি খুন করেননি; কিন্তু আসামি হয়েছেন খুনের মামলার, জেল খেটেছেন সাড়ে তিন বছর, জামিনে ছিলেন; জীবন্ত আতঙ্ক চেপে বসে ছিল কাঁধের ওপর, সার্বক্ষণিকভাবে। না জানি কখন ডাক পড়ে, ফাঁসি না হোক যাবজ্জীবন হতে অসুবিধা কোথায়? সাক্ষী হিসেবে যাদের হাজির করা হয়েছিল, একবাক্যে তারা সবাই বলেছে, কেউ তাকে চেনে না, তবু পুলিশ যেহেতু বলেছে সে-ই একমাত্র আসামি, আদালত তা মেনে নিয়েছেন, মন্টু মণ্ডল চলে গেছেন জেলে। সেখানেই থাকতেন, যদি না প্রাণপাত চেষ্টায় কোনোমতে জামিনের ব্যবস্থাটা করতে পারতেন। ৩০ বছর পরে মন্টু মণ্ডল হঠাৎ করেই আতঙ্কের গ্রাস থেকে মুক্তি পেয়েছেন। কারণ ৩০ বছর পরে আসল খুনিরা ধরা পড়েছে। খুনিরা একজন নয়, চার চারজন। স্বামী-স্ত্রী, স্ত্রীর ভাই ও একজন ভাড়া করা লোক। যারা খুনের জন্য দায়ী দেখাই যাচ্ছে, তাদের তিনজন পরস্পরের নিকটাত্মীয়। এরা আবার নিহত সাগিরা মোর্শেদেরও ঘনিষ্ঠজন। প্রথমজন সাগিরার ভাশুর, দ্বিতীয়জন তার জা, তৃতীয়জন ভাশুরের শ্যালক অর্থাৎ জায়ের আপন ভাই। চতুর্থজনও যে একেবারে পেশাদার খুনি তা নয়, যদিও সে পাড়ার দাপুটে মাস্তান বটে। ভাশুর একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক, মানুষ মারা নয়, মানুষকে বাঁচানোই যার পেশা; খুনি মাস্তানটি তার রোগী। মাস্তানকে বলা হয়েছিল সাগিরার বড় দেমাক, তাকে সাইজ করা দরকার। সাইজ করতে গিয়ে একেবারে নিকেশ করেই ছেড়েছে। মাস্তানটির নাম মারুফ রেজা, নামেই বোঝা যায় আলতু-ফালতু ঘরের ছেলে নয় এবং তার পরিচয়ও প্রকাশ পেয়েছে। সে ব্যক্তি ওই সময়ে অর্থাৎ এরশাদ আমলে ক্ষমতাবান এক নেতার নিকটাত্মীয়। মারুফকে বলা হয়েছিল ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। ১৫ হাজার অ্যাডভান্স, বাকি ১০ হাজার কাজ শেষ হওয়ার পরে। ওই বাকিটা নাকি সে আর পায়নি।

মন্টু মণ্ডলের কথা অবশ্য আলাদা। তার বয়স তখন ছিল ৩২; এখন ৬২; যৌবন গেছে চলে, প্রৌঢ়ত্ব জেঁকে বসেছে শরীরে; জীবন ও জীবিকা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। কার অপরাধে? পুলিশের? আদালতের? নাকি উভয়েরই। বলব কি, দোষ গোটা আর্থসামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার? শেষেরটাই বোধহয় সঠিক, দায়ী গোটা আর্থসামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাই, অন্য সবকিছু যার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। তা না হলে নিকটজনরা নিজেদের পরিবারেরই একজন নিরপরাধ সদস্যকে খুন করাতে যাবে কেন, কেনই-বা সেই খুনের সব দায়ভার গিয়ে পড়বে এমন একজন মানুষের কাঁধে, যিনি ঘটনার ত্রিসীমানাতেও ছিলেন না; যিনি একেবারেই নির্দোষ? বাংলা চলচ্চিত্রের বিখ্যাত অভিনেতা ছবি বিশ্বাস একবার ১২ বছর জেল খেটেছিলেন, বিনা অপরাধে। জীবনে নয়, চলচ্চিত্রে। আদালত যখন তাকে মুক্তির আদেশ দিলেন, ছবি বিশ্বাস তখন চিৎকার করে বলেছিলেন, ফিরিয়ে দাও আমার ১২টি বছর। মর্মান্তিক সেই দৃশ্যে দর্শকদের পক্ষে অশ্রু সংবরণ করা সহজ ছিল না। কিন্তু বাস্তবের মন্টু মণ্ডল কার কাছে গিয়ে বলবেন, 'আমার ৩০টি বছর ফিরিয়ে দাও?' কেউ কি শুনবে? কাতর হবে শুনে? মন্টু মণ্ডল তো আর ছবি বিশ্বাস নন, তার ঘটনা তো চলচ্চিত্রের নয়, স্থূল বাস্তবের।

মন্টু মণ্ডল ঢাকার কাছেই এক গ্রামে থাকেন, বাড়ি সেখানেই। ছোটখাটো একটা দোকান ছিল তার। সন্তুষ্ট ছিলেন না দোকানদারির সেই বাস্তবতাকে নিয়ে; নতি স্বীকার করতে চাননি, ভেবেছেন বিদেশে যাবেন, আশা ছিল গতর খাটিয়ে কপাল ফেরাবেন। তা কপাল ফিরল ঠিকই; তবে উল্টো দিকে। মন্টু মণ্ডল সেদিন বিকেলবেলা রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য যে লোকটিকে তিনি টাকা দিয়েছেন পাসপোর্ট করে দেওয়ার জন্য তাকে ধরবেন। গিয়ে ধরা পড়লেন নিজেই। কিছুক্ষণ আগে ওই এলাকায় একটি খুনের ঘটনা ঘটে, খুন হয়েছেন এক নারী। তিনি রিকশায় করে যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা একজন তাকে গুলি করেছে। তিনি মারা গেছেন। ধারণা করা হয়েছিল, ঘটনাটা ছিনতাইয়ের; প্রচারও পেয়েছিল সেই রকমেরই; কিন্তু এখন যথার্থ তদন্তে ধরা পড়েছে ব্যাপার মোটেই ছিনতাইয়ের নয়, ব্যাপার নির্ভেজাল খুনের। যারা বলতে চান যে, গোটা আর্থসামাজিক-রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাটাই ভেঙে গেছে, তাদের সেই খেদোক্তির প্রতিবাদ করাটা কঠিন। ভাঙনটা মর্মান্তিক; কিন্তু আরও বেশি মর্মান্তিক হচ্ছে এই সত্য যে, এই ভাঙনে নিহত ও আহত হচ্ছেন নিরীহ, নিরপরাধ মানুষ। ভগ্ন ইট-পাথর, লোহালক্কড় সবকিছু গিয়ে পড়ছে তাদের ঘাড়ে। সাগিরা মোর্শেদের ঘাড়ে, মন্টু মণ্ডলের ঘাড়ে। সাগিরা মোর্শেদ হয়তো বেঁচে যেতেন, যদি তার ভাশুর ও জায়ের কাছাকাছি না থাকতেন। কাগজে যা পড়েছি তাতে বোঝা যায়, তারা প্রায়-একান্নবর্তীই ছিলেন। ওপরতলা ও নিচের তলায় বসবাস। বাড়িটা পারিবারিক। পুরোনো ধরনের; ২৩ কাঠার মতো এলাকাজুড়ে। শাশুড়ি থাকেন দুই বাসাতেই। একান্নবর্তী পরিবারের বহুরকমের গুণগান আমরা শুনে এসেছি, বিশেষ করে সাহিত্যে; কিন্তু ওই পারিবারিক প্রতিষ্ঠানটি যে ছিল ভয়াবহ রকমের নির্যাতক, সে বাস্তবতাটা কিন্তু চাপা পড়ে থাকত তার আপাত দৃশ্যমান সৌন্দর্যের নিচে। ব্যবস্থাটা ছিল পুরোপুরি পিতৃতান্ত্রিক। ভাশুরের চোখে কনিষ্ঠ ভ্রাতৃবধূ সাগিরা নিশ্চয়ই অহংকারী ছিলেন। কারণ সাগিরা উচ্চশিক্ষিত, সাগিরার স্বামী সাগিরার সহপাঠী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাগিরা পড়েছেন অর্থনীতি, স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই চাকরি করেন, তাদের কর্মস্থল পরস্পরের কাছাকাছি। সাগিরার পেশাগত কাজ উচ্চ খ্যাতিসম্পন্ন এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। তার জায়ের পড়াশোনা স্কুলেই শেষ; তিনি নিতান্ত গৃহবধূ। তদুপরি শাশুড়ির টানটা সাগিরার দিকেই বেশি, জায়ের তুলনায়। আর জায়ের দিক থেকে তো মনে না করার কোনো কারণই নেই যে, মেয়েটি দেমাগি। ফটফট করে, মুরব্বি মানে না, নত হতে জানে না। সাগিরার জা নারী ঠিকই; কিন্তু তিনিও পিতৃতান্ত্রিক নিশ্চয়ই, আবার হীনমন্যও। ঈর্ষা হয়েছে। ঘন ঘন তিনি নালিশ করেছেন বাড়ির কর্তাপুরুষের কাছে অর্থাৎ নিজের স্বামীর কাছে। শলাপরামর্শ শেষে তারা ঠিক করেছেন, বড় বাড় বেড়েছে মেয়েটির, তাকে মাত্রামাফিক না করলে চলে না।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর সাগিরার স্বামী সালাম চৌধুরী যথাকর্তব্যে থানায় গেছেন। অভিযুক্ত করেছেন অজ্ঞাতপরিচয় ঘাতকদের। এখন শোনা যায়, ঘটনায় বড় ভাই ও ভাবির হাত থাকতে পারে বলে তার মনের কোণে সন্দেহ যে ছিল না তা নয়; তবে ওই আপনজনই যে ঘটনাটা ঘটিয়েছেন, এতটা ভাবতে সাহস করেননি। তাছাড়া মুরব্বি হিসেবে ভাইও পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে আর ঘাঁটাঘাঁটি না করাই ভালো। সালামের তিনটি মেয়ে আছে নাবালক, তাদের বিপদ হতে পারে। ওই মর্মে টেলিফোন ও চিঠিতে তিনি বার্তাসহ হুমকিও পেয়েছেন। সেসব যে তার আপন বড় ভাইয়ের কাছ থেকেই এসেছে, এ ছিল তার কল্পনাশক্তির বাইরে। সালাম চৌধুরী আর ঘাঁটাঘাঁটি করেননি, চুপচাপ থেকেছেন। ভরসা করেছেন পুলিশ আছে, আদালত রয়েছে, ব্যবস্থা যা নেওয়ার তারাই নেবে। অপরাধীরা অবশ্যই চিহ্নিত হয়ে যেত তদন্তকারী গোয়েন্দারা আর কিছু না করে শুধু যদি ঘটনার একেবারে প্রত্যক্ষ সাক্ষী যে রিকশাওয়ালা সেই আবদুস সালামের কাছে যেতেন। রিকশাতে করে সেদিন বিকেলে সাগিরা যাচ্ছিলেন ভিকারুননিসা স্কুলে, মেয়েকে আনতে, পথিমধ্যে তার রিকশা থামিয়ে ওই আক্রমণ। মোটরসাইকেল আরোহী একজন তার ব্যাগ ধরে টান দিয়েছে, আরেকজন পেছন থেকে গুলি ছুড়েছে। রিকশাওয়ালা আবদুস সালাম ভেবেছেন ছিনতাইয়ের ঘটনা। তিনি রিকশা ফেলে হাতে একটা ইট নিয়ে ধাওয়া করেছেন। চিৎকার করেছেন হাইজ্যাকার হাইজ্যাকার বলে। হাইজ্যাকারদের ধরতে না পেরে রিকশাওয়ালা ছুটে গেছেন রমনা থানায়, খবর জানাতে। থানা থেকে পুলিশ এসেছে, যথারীতি। এসে দেখে সাগিরা মোর্শেদ নেই, রক্তাক্ত অবস্থায় কে একজন, পেশায় তিনি চিকিৎসক, সাগিরাকে নিয়ে গেছেন হাসপাতালে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা সাগিরাকে মৃত বলে ঘোষণা করেছেন। যারা বলেন, ঠগ বাছতে গা উজাড়, তারা দুঃখের বোধ থেকেই বলেন কথাটা; কিন্তু সংসারে ভালো মানুষ যে নেই তা নয়, আসলে ভালো মানুষের সংখ্যাই অধিক, তারাই এগিয়ে আসেন, পথে কেউ আহত হয়ে পড়ে গেলে হাজার রকমের ঝামেলা মাথায় নিয়ে হলেও মানুষটাকে তারা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে রূঢ় সত্য হলো এটা যে, ভালো মানুষেরা ক্ষমতাহীন, তারা সন্ত্রস্ত; কারণ তারা বিচ্ছিন্ন। দুষ্ট লোকের সংখ্যা অল্প, ওই দুষ্টরাই মানুষ মারে।

সন্ত্রাস সর্বদাই চলমান, অগ্রে যেমন, তেমনি পশ্চাতে। উধাও হওয়ার এবং প্রত্যাবর্তনের রহস্য উন্মোচন কোনো প্রাইভেট ডিটেকটিভের পক্ষে সম্ভব নয়, সম্ভব নয় অনুসন্ধানী কোনো সাংবাদিকের পক্ষেও। কেননা তারা আগেভাগেই জেনে যান যে, এর সঙ্গে এমন সব সংস্থা যুক্ত থাকার সম্ভাবনা, যাদের বিরক্তি উৎপাদন করলে সুবিধা তো হবেই না; উপরন্তু বিস্তর অসুবিধা ঘটতে পারে। বিপন্ন ও আতঙ্কিত মন্টু মণ্ডল অবশ্য নিশ্চল থাকেননি। আমরা সহজেই কল্পনা করতে পারি যে, ওই যুবক কাতর হয়েছেন, হাত-পা জড়িয়ে ধরেছেন পুলিশের, কান্নাকাটি করেছেন। কসম খেয়ে বলেছেন যে, খুনের কাজটি তিনি করেননি। কিন্তু কেউ তার কথা শোনেনি। না শুনুক, তদন্ত তো চলতে পারত। রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলেই ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ পাওয়া যেত; মোটরসাইকেলটি যে লোক চালাচ্ছিল সাগিরা তাকে চিনে ফেলেছিলেন, তার নামও উচ্চারণ করেছিলেন, রিকশাওয়ালা আবদুস সালাম সেসব তথ্য দিতে পারতেন। অপরাধীরা অনতিবিলম্বে ধরা পড়ত। ছিনতাইকারী কেন গুলি করতে যাবে, তাও আবার পায়ে বা হাতে নয়, একেবারে শরীরের মাঝখানে এবং কেনই-বা যে ব্যাগটি ধরে সে টানাটানি করছিল, সেটা অকুস্থলেই ফেলে রেখে যাবে- এসব স্বাভাবিক জিজ্ঞাসা উত্থাপন করলে সত্যের কাছাকাছি পৌঁছতে বিলম্ব ঘটত না। কিন্তু তেমন কিছু করা হয়নি। আসলে তদন্ত আর হয়ইনি। না হওয়ার কারণও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। স্থগিতকরণ চেয়ে আদালতে এক নারী আবেদন করেন এবং আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে স্থগিতাদেশ দিয়ে দেন। যিনি আবেদন করেছিলেন তিনি অন্য কেউ নন, সাগিরা যার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ভাড়া-খাটা সেই ঘাতকটিরই মা বটে। আর্জিতে তিনি কী কী যুক্তি দিয়েছিলেন আমরা জানি না; তবে বিচারব্যবস্থা নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তারা যদি অনুসন্ধান করেন বিদ্যমান ব্যবস্থার বাস্তবতা উন্মোচনকারী কিছু তথ্য-উপাত্ত হয়তো এখানেও পেয়ে যেতে পারেন। মোট কথা, আদালতের নিষেধাজ্ঞায় ২৮ বছর ধরে তদন্ত স্থগিত ছিল। তারপর কী কারণে আমরা জানি না রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে আবেদন করে যে, স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হোক। আদালত এবার পূর্বের আদেশ তুলে নেন এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে নির্দেশ দেন দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণের। ১০ হাজার ৯৫০ দিনে যা হয়নি, ১২০ দিনে তা হয়ে গেছে। পুলিশের লোকেরা আসামিদের চিহ্নিত করে ফেলেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারও করেছে। রিকশাওয়ালা সালামকে তারা খুঁজে বের করেছে, তার সাক্ষ্য নিয়েছে এবং তদন্ত সম্পন্ন করেছে। পুলিশ পারে না এটা মোটেই সত্য নয়। পারে ঠিকই; তবে অনেক ক্ষেত্রে করে না; কারণ নিষেধ থাকে, এ ক্ষেত্রে যেমনটা ছিল। মন্টু মণ্ডলকে আসামি করাটা 'জজ মিয়া'কে আসামি করার মতোই ঘটনা বৈকি। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, জজ মিয়াদের মৃত্যু নেই। তারা অমর। কথা উঠেছে, যারা নিরপরাধী মন্টু মণ্ডলকে খুনি সাজিয়েছে তাদের কি কোনো বিচার হবে না? বিচার হবে কিনা জানি না, তবে হওয়া যে উচিত, সে তো আমরা সবাই জানি ও মানি। তবে বিচার হয় না; না হওয়ার কারণে অপরাধ বাড়ে- গুণে বাড়ে, বাড়ে পরিমাণেও। আর তাই সমাজে বিস্তৃত হয় বিরূপ ছায়া।

লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজ বিশ্নেষক


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com