বিদেশে চাকরি কমেছে, রেমিট্যান্স বেড়েছে

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০ । ২২:০৪

সমকাল প্রতিবেদক

অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ- সমকাল

গত বছর ৭ লাখ ১ হাজার বাংলাদেশি কর্মী চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন, যা ২০১৮
সালের তুলনায় ৩৩ হাজার কম। তবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, ২০১৯ সালে
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫১ হাজার বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন। গত বছর ১৮ বিলিয়ন
মার্কিন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায়
১৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

২০২০ সালে সাড়ে সাত লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ আশাবাদী, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে
জনশক্তি রপ্তানিতে।

রোববার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসীকল্যাণ ভবনে
'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে এ আশাবাদের কথা জানিয়েছেন তিনি।

জনশক্তি খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশি
মাইগ্রেন্টস (আরবিএম) আয়োজিত এই মিট দ্য প্রেসে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে
বাংলাদেশি নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা কমেছে। গত মাসে অভিযোগ কম
এসেছে। নারীরাও আগের মতো ফিরছেন না। যদিও দুপুরেই ১৫ নারী কর্মী
ফিরেছেন সৌদি আরব থেকে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক বছরে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন,
শিগগির খুলবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাজার খোলার
অগ্রগতি নেই। গত মাসে ঢাকায় দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হওয়ার
কথা থাকলেও তা স্থগিত করে মালয়েশিয়া।

ইমরান আহমদ বলেছেন, নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যাওয়া
নিশ্চিত না করে বাজার খোলার পক্ষে নন তিনি। নতুন করে কোনো চক্র যাতে গড়ে না
ওঠে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য হলো,
শ্রমিকরা যেন সরকার নির্ধারিত ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে
জানিয়েছেন ইমরান আহমদ। তিনি বলেছেন, আগের মতো ৪ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা খরচ
করে কর্মী সে দেশে গিয়ে জঙ্গলে লুকিয়ে বেড়াবেন, এ ধরনের কোনো চুক্তি করা
হবে না। কর্মী বেশি টাকায় বিদেশ গেলে, তা হবে তাদের সঙ্গে বেইমানি।

দক্ষ কর্মীর অভাবেই জনশক্তি রপ্তানি কমেছে বলে স্বীকার করেন প্রবাসীকল্যাণ
মন্ত্রী। ইমরান আহমদ বলেছেন, বিদেশের চাহিদা বদলে গেছে, সবাই দক্ষ কর্মী
চায়। দক্ষতা বাড়াতে ৪৯২ উপজেলার ১৬৪টিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
(টিটিসি) নির্মাণ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল প্রতি
উপজেলা থেকে বছরে এক হাজার দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানো। এ লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
তা পূরণে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইমরান আহমদ বলেন, ২০২০ সালে পাঁচ থেকে ছয়টি দেশের শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের
জন্য খোলার লক্ষ্য রয়েছে। কম্বোডিয়া, সিসেলস, হারজেগোবিনা, রোমানিয়া,
হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, চীনে কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। পূর্ব ইউরোপের
দেশগুলোর শ্রমবাজার বাংলাদেশের লক্ষ্য। জাপান কর্মী নিচ্ছে। কিন্তু তাদের
চাহিদা শতভাগ দক্ষ কর্মী। দক্ষ কর্মী সৃষ্টিই বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, যুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ইরাক ও লিবিয়ায়
নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। কর্মীদের নিরাপত্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে
বৈঠকের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

প্রবাসীকল্যাণ সচিব সেলিম রেজা জানান, ২০১৯ সালে বিদেশগামী কর্মীদের ৪৪
শতাংশ ছিল দক্ষ। আধা-দক্ষ ছিল ২০ শতাংশ। বাকিরা অদক্ষ। গত বছর এক লাখ ১১
হাজার নারী কর্মী বিদেশ গেছেন। তাদের ৫০ শতাংশ বিধবা কিংবা তালাকপ্রাপ্ত।
নারীদের অভিবাসনে অধিকতর সুরক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরবিএমের সভাপতি ফিরোজ মান্নার সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মাসাউদুলের
সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএমইটির মহাপরিচালক শামসুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com