ঢাকা সিটি নির্বাচন

একাধিক ওয়ার্ডের ফল পাল্টানোর অভিযোগ ইসিতে

দক্ষিণের ৩১নম্বর ওয়ার্ড স্থগিত

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতীকী ছবি

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্রের ফল ঘোষণায় গিয়ে পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী।

তারা বলছেন, এর সঙ্গে ইসির দায়িত্বপ্রাপ্তরাও জড়িত রয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকা দক্ষিণের ৩১ নং ওয়ার্ডের প্রার্থীর অভিযোগ আমলে নিয়ে ফল ঘোষণা স্থগিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার এই দুই সিটি ভোটে নির্বাচনের পর ওই দিন রাতেই ফল ঘোষণা করা হয়।

এদিকে দুই সিটির মেয়র পদে নয়টি রাজনৈতিক দলের ১৩ জন প্রার্থী লড়াইয়ে থাকলেও তাদের মধ্যে চারজন ছাড়া বাকি সবাই জামনাত হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনীত দুই বিজয়ী প্রার্থীর বাইরে বিএনপির দুই প্রার্থীই শুধু জামানাত রক্ষা করতে পেরেছেন। বাকি সাত রাজনৈতিক দলের ৯ জনই জামানাত হারিয়েছেন।

ইসি সংশিতষ্টরা জানান, ফল জালিয়াতি করে ভোটে হারিয়ে দেয়ার অভিযোগ ইসিতে জমা দিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আলমগীর। একটি কেন্দ্রে ভোটের সংখ্যা উল্টে দিয়ে প্রতিপক্ষকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ছিল তার। প্রথমদিকে তার অভিযোগ আমলে না নিলেও দ্বিতীয় দফায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোটের ফলাফল স্থগিত করেন রির্টার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

এই ওয়ার্ডে পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া হিসাবে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী জিতেছেন ২৭ ভোটে। কিন্তু রাতে প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে টিফিন ক্যারিয়ার মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী জুবায়েদ আদেলকে ২১০ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত (ঝুড়ি মার্কা) প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, সব কটি কেন্দ্রের ফল যোগ করে তিনি জয়ী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তবে রাতে সেগুন বাগিচায় শিল্পকলা একাডেমীতে ফল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে তার পরিবর্তে অন্য জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্র থেকে পাওয়া প্রিন্টেড কপির হিসেবে আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-২ পুরষ কেন্দ্রে তিনি পান ৪৪৯ ভোট। কিন্তু ঘোষণায় দেখানো হয়েছে ২০২ ভোট। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইরোজ আহমেদের ঘুড়িতে পড়েছে ৪৩৯ ভোট। আর বিজয়ী ঘোষণা করা স্বতন্ত্র প্রার্থী জুবায়েদ আদেলের টিফিন ক্যারিয়ার মার্কায় পড়ে ২২৬ ভোট।

তিনি বলেন, সব সেন্টার মিলিয়ে টিফিন ক্যারিয়ারে দেখানো হয় ২৪৪৫ ভোট। আর তাকে দেখানো হয় ২২৩৫ ভোট। একটি কেন্দ্রের ফল যোগ না করায় ২০০-এর বেশি ভোটের ব্যবধানে তাকে পরাজয় দেখানো হয়। পরে তিনি এটা লিখিতভাবে চ্যালেঞ্জ করলে ফল স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

একইভাবে দক্ষিণের ৩২ নং ওয়ার্ডের সঠিক ফল ঘোষণা এবং ভোট পুনরায় গণনার জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করেন ঠেলাগাড়ী প্রতীকের সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী মো. বিলতাল শাহ। তিনিও অভিযোগ করেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনা না করে মৌখিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। অর্থের বিনিময়ে ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটির ৬ নং সাধারণ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মো. সালাউদ্দিন রবিন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগে রবিন (টিফিন ক্যারিয়ার মার্কা) উল্লেখ করেন, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ভোট গণনার সময় তার এজেন্টদের মৌখিকভাবে বিজয়ী বলে কেন্দ্র থেকে জেরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। রিটার্নিং অফিসের বরাতে বিভিন্ন টেলিভিশন এবং অনলাইনে সালাউদ্দিন রবিনকে বিজয়ী করে সংবাদ পরিবেশন হয়। কিন্তু রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে নাম পরিবর্তন করে বিদ্রোহী প্রার্থী তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভয়ংকর জালিয়াতি।

সালাউদ্দিন রবিন বলেন, দ্বিগুণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলুদ্বী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এবং পলতবী মাজেদুল ইসলাম মডেল হাইস্কুল কেন্দ্রে তার এজেন্ট কাছে ফলাফল ঘোষণার লিখিত কপি সরবরাহ করা হয়নি। এই তিন কেন্দ্রের ফলাফল পরিবর্তন করে তাকে হারানো হয়েছে। ইসির সংশিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ প্রার্থীর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর রিটার্নিং অফিসার মো. আবুল কাশেম বলেন, মৌখিক ফলকে চূড়ান্ত বলে গণ্য করার সুযোগ নেই। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার যে ফল পাঠিয়েছেন তার ভিত্তিতেই ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে কোন ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কমিশন অথবা ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন। তবে ঘোষণার পর ইভিএম লক করা হয়েছে। এটি একমাত্র ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে পুনঃগণনা সম্ভব বলেন তিনি।

৯ মেয়র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত: সদ্য শেষ হওয়া ঢাকার দুই সিটির জাতীয় পার্টি-জাপার প্রার্থীসহ ৯ জন মেয়র প্রার্থীই তাদের জামানত খুইয়েছেন। নির্বাচনে ৯টি রাজনৈতিক দলের মেয়রপ্রার্থী ছিল ১৩ জন। নিয়ম অনুযায়ী, উপস্থিত ভোটারদের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএপির প্রার্থী ছাড়া সবারই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী নৌকায় পেয়েছেন ৫৯ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট। আর ধানের শীষের দুই প্রার্থী পেয়েছেন ৩৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট।

৭টি রাজনৈতিক দলের জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উত্তরের প্রার্থী শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, দক্ষিণের প্রার্থী মো. আবদুর রহমান, উত্তরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আহাম্মদ সাজেদুল হক, দক্ষিণে গণফ্রন্ট প্রার্থী আব্দুস সামাদ সুজন, ন্যাশনাল পিপল পার্টির উত্তরের প্রার্থী মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান, দক্ষিণের মো. বাহারানে সুলতান বাহার, দক্ষিণে জাপার প্রার্থী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দক্ষিণে মো. আকতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুলতাহ এবং গ্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির উত্তরের প্রার্থী শাহীন খান।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)