সাক্ষাৎকারে মোহা. শফিকুল ইসলাম

সহকর্মীর দুস্কর্মের দায় নেব না

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- সাহাদাত হোসেন পরশ

মোহা. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে ডিএমপিতে চাকরি করা যাবে না। দুস্কর্মে জড়িত সহকর্মীর দায় তিনি নেবেন না। ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত পুলিশ সদস্যদের তালিকা দুদককে দেওয়া হয়েছে। যানজটকে নগরীর প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজে না বদলালে ট্রাফিক পুলিশের সাধ্য নেই ঢাকায় শৃঙ্খলা ফেরাবে। কমিশনার বলেন, শান্তিপূর্ণ থাকলে পুলিশ বিএনপিসহ কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে না। ডিএমপির ৪৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ঢাকার পুলিশি কার্যক্রম, নাগরিকদের ভাবনা, যানজট সমস্যাসহ নানা বিষয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন ডিএমপি কমিশনার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- সাহাদাত হোসেন পরশ

সমকাল: জনমুখী পুলিশিং নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কী উদ্যোগ নিয়েছে?

শফিকুল ইসলাম: সেবা প্রদানে সরকারের যে কয়েকটি সংস্থা রয়েছে, তার মধ্যে পুলিশ সবচেয়ে দৃশ্যমান। মানুষের প্রত্যাশার কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা সবসময় করে আসছি আমরা। কোনো মানুষ কিন্তু বলবে না, পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, ডিসি বা এডিসির কাছে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পায়নি। পুলিশের মূল সমস্যা তৃণমূল পর্যায়ে; থানা, ফাঁড়ি বা ট্রাফিকে। এটা রাতারাতি আমূল পরিবর্তন করা যায়, তা নয়। তবে কীভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব, তা সচেতনভাবে আমরা শুরু করেছি। এর মধ্যে একটা হলো, তাদের মানসিকভাবে মোটিভেট করা। তবে আমাদের পরামর্শ বা সৎ উপদেশ শুনে সবাই কাজ করবে- এর জন্য আমরা বসে নেই। তাদের কাজ নিবিড় মনিটর করছি। প্রতিটি থানায় যে মামলা বা জিডি হচ্ছে, তার বাদীর সঙ্গে কথা বলে সেখানে তারা কী ধরনের সেবা পেয়েছেন, তা জানতে আমার অফিস থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যখনই মনে করছি থানার একটি বিষয়ে আলাদা নজর দেওয়া দরকার, তখনই তাদের ডেকে আনা হচ্ছে। তাদের সংশোধনের জন্য একটা বার্তা দেওয়া হয়। পরিস্কার বলে দিয়েছি- মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে, কাজ না করে, শুধু তেলবাজি ও ওয়্যারলেসবাজি করে ডিএমপিতে চাকরি করতে পারবে না।

সমকাল: আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বলেছেন, সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ওসির চেয়ারে বসবেন। এই বার্তার তাৎপর্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের কাছে পৌঁছেছে কি?

শফিকুল ইসলাম: প্রকৃতপক্ষে পুলিশ কমিশনারের পক্ষে থানায় গিয়ে বসা একটি দুরূহ কাজ। মেসেজ দিতে চেয়েছিলাম- হয় তুমি চেঞ্জ হও, নইলে আমরা তোমাকে ক্ষমতাশূন্য করে দেব। এখন কিন্তু ডিসি ও এডিসিরা সপ্তাহে দু'দিন থানায় গিয়ে বসছেন। সাধারণ মানুষের কথা শুনছেন। আমরা এখান থেকে মামলা ও জিডির যেসব বাদীর সঙ্গে কথা বলছি, তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ পুলিশি সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করছে। তবে এটা ধরে রাখার জন্য আমরা কাজ করছি। আমি চাপ দিয়েছি বলে হয়তো কচ্ছপের মতো মুখটা লুকিয়ে রেখেছে কেউ। মুখটা যাতে খোলস থেকে বের করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে বিশাল বাহিনী কাজ করছে। প্রতিদিন থানার সামনে ও আশপাশে তারা ছদ্মবেশে বসে থাকে। কোথায় কে কী করছে, এই তথ্যগুলো আমরা পাচ্ছি।

সমকাল: থানায় সেবার মান বাড়াতে বিশেষ কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি?

শফিকুল ইসলাম: সরাসরি মানুষকে সেবা করার সুযোগ রয়েছে থানার অফিসারদের। এটাও ঠিক থানায় যারা পুলিশের সেবা নিতে যান, তাদের মধ্যে অনেকের মানসিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এমনও দেখা যায়- থানায় গিয়ে কেউ দাবি করলেন, তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করছে। তবে ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ দেখল, সেটা ছিল প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝামেলার বিষয়। অন্য একটা দিক হলো, প্রত্যেক নাগরিকের মধ্যে এই বোধ আসা উচিত- তাকে সেবা করতে থানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাই থানা-পুলিশ কোনো সুবিধা চাইলে দিয়ে দিলাম- এটা থেকে বিরত থাকতে হবে। থানা থেকে অবৈধ প্রস্তাব দেওয়া হলে তা জানানোর জন্য কর্তৃপক্ষ রয়েছে। সব থানার সামনে টেলিফোন নম্বর সংবলিত বোর্ড বসানো আছে। হয়রানির শিকার হলে ওই নম্বরে জানাতে বলা হয়। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই সাড়া কম পাচ্ছি। তারা হয়তো মনে করছে, অভিযোগ দিয়ে লাভ হবে না। সবাই এটা মনে করলে পরিবর্তনটা আসবে কীভাবে?

সমকাল: ঢাকায় যানজট সমস্যা দীর্ঘদিনের। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশের কি কোনো পরিকল্পনা আছে?

শফিকুল ইসলাম: যোগদান করার পর থেকে যে বিষয়টির দিকে জোর দিয়েছি তা হলো, সড়কে মামলা করার চেয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। একজন ট্রাফিক অফিসার সারাদিন দাঁড়িয়ে একটি গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষার করার চেয়ে ওই পরিবহনের চালক বা সংশ্নিষ্টরা কী কী অপরাধ করেছে, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। চালকদের এ ধরনের আচরণগত সমস্যার দিকে জোর দিচ্ছি। তবে এটা ঠিক- প্রত্যেককে আগে নিজে না বদলালে ট্রাফিক পুলিশের সাধ্য নেই এই শহরে শৃঙ্খলা ফেরাবে।

সমকাল: নতুন সড়ক আইন প্রয়োগে শিথিলতা কেন?

শফিকুল ইসলাম: যে পস মেশিন দিয়ে মামলা করা হতো, সেটার সফটওয়্যার আপডেটে পিছিয়ে ছিলাম। সফটওয়্যার আপডেটের কাজ চলছে। যে আইন করা হয়েছে, সেটি আসলে কাউকে জরিমানা আদায় করার জন্য নয়। ২০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে-এই ভয়টা যাতে সবার মধ্যে থাকে। নতুন আইন হওয়ার পরও কেউ না বদলালে ঢাকায় শৃঙ্খলা আসবে না। তবে এটাও ঠিক, অনির্দিষ্টকাল দুই হাজার টাকা জরিমানা আদায় করব না। অব্যাহতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে সর্বোচ্চ জরিমানা গুনতে হবে।

সমকাল: ডিএমপির কিছু পদে ঘুরেফিরে একই মুখ। বিশেষ করে থানার ওসি ও পরিদর্শক পদে। এখানে এক ধরনের বৃত্তবন্দি অবস্থা বিদ্যমান?

শফিকুল ইসলাম: কোন অফিসারকে দিয়ে কোন পরিস্থিতি কীভাবে কন্ট্রোল করা যায়, এটা কিন্তু স্বতন্ত্র ওই অফিসারের যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। হয়তো দেখা যায়, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মতো ঘটনা যে দায়িত্বশীল ব্যক্তিটি সফলভাবে দমন করতে পারবেন, তিনি হয়তো ক্রাইম ওয়ার্কে ততটা পারদর্শী না-ও হতে পারেন। সব দিক বিবেচনা করে যখন যে রকম পরিস্থিতি হয়, সেভাবে অফিসারদের নিয়োগ করা হয়। কার ওপর কমিশনারের বা ডিসির আস্থা রয়েছে, সেটাও একটা বড় ব্যাপার। এখানে এত পরিদর্শক রয়েছেন, কাউকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই ওসি থেকে ডিসি পর্যন্ত বদলি বা পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপযুক্তকে সঠিক পদে দেওয়ার চেষ্টা করি।

সমকাল: ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সংশ্নিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। পরে কয়েকজনকে বদলি করা হয়। অভিযোগ বিবেচনায় বদলিই কি যথেষ্ট?

শফিকুল ইসলাম: অভিযোগ তো উঠতেই পারে। তবে এটা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তিনি যদি উৎকোচ নিয়ে থাকেন, তা নিজে স্বীকার করবেন না। আবার যিনি উৎকোচ দিয়েছেন বলা হচ্ছে, কাগজে-কলমে যখন গিয়েছি, তখন তিনিও কিছু বলছেন না। তবে সাধারণভাবে আমরা যেহেতু বিশ্বাস করেছি, এই অফিসার এ ধরনের দুস্কর্মে জড়িত থাকতে পারেন, তাই তাকে কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করার চেষ্টা করেছি। আরেকটি বিষয় হলো, এ ধরনের তথ্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সংগ্রহ করেছে। যেহেতু এটা দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয় এবং বড় ধরনের অভিযোগ, তাই এটার তদন্ত করার এখতিয়ার আমার নেই। এখান থেকে যে তথ্য পেয়েছি, তা যথাযথভাবে দুদকে দেওয়া হয়েছে। আশা করব, এটার বাকি কাজ দুদক থেকে করা হবে।

সমকাল: পুলিশে শাস্তি-বদলি ও প্রত্যাহারে সীমাবদ্ধতা থাকে। শাস্তির ক্ষেত্রে ডিএমপি কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে?

শফিকুল ইসলাম: যখন ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি তখনই বলেছি, কোনো খারাপ সহকর্মীর দুস্কর্ম লুকানোর চেষ্টা করব না। কারণ, আমি তার দুস্কর্মের সহযোগী না। তার দুস্কর্মের কারণে কোনোভাবে আমি লাভবান না। সুতরাং তাকে রক্ষা করার কোনো দায় বা চেষ্টা আমার থাকবে না। তবে আবারও বলি, অভিযোগ প্রমাণের আগে তার বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো ব্যবস্থা নিলে বাহিনীর শৃঙ্খলার জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে অভিযোগের ধরন বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আপনারা দেখেছেন, নারী সংক্রান্ত অভিযোগের পর এক থানার ওসিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

সমকাল: অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ভালো কাজ করলেও সাধারণ মানুষ তা সহজে বিশ্বাস বা আস্থায় নিতে চায় না। এ ক্ষেত্রে সমস্যাটা কোথায়?

শফিকুল ইসলাম: আমি বলব, পুলিশের সঙ্গে মানুষের মেশা উচিত। পুলিশের আরও মানুষের কাছে যাওয়া উচিত। আপনি ঢাকার একশ'জনকে পুলিশ সম্পর্কে তার ধারণার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে পারেন। প্রথমেই তিনি বলবেন, পুলিশ ঘুষ খায়। ক্ষমতার দাপট দেখায়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে। তারা বলবেন, এটা একেবারেই সরকারের অনুগত বাহিনী হয়ে গেছে। পরে তাকেও যদি আবার জিজ্ঞেস করেন, আপনি কখনও থানায় গেছেন? তখন দেখা যাবে- ৯০ শতাংশ লোক বলবেন, জীবনে কখনও থানায় যাইনি। জীবনে একবারও থানায় না গিয়ে বা কোনো পুলিশের সঙ্গে না মিশে পুলিশকে খারাপ বলে দিচ্ছেন। তিনি কিন্তু পুলিশ সম্পর্কে শুনতে শুনতে এটা বলছেন। তবে এটা দাবি করব না, পুলিশ বাহিনীর একশ'ভাগ সদস্য ফেরেশতার মতো হয়ে গেছে। আমরা তো সমাজেরই অংশ। ভালোমন্দ সব মিলিয়েই রয়েছি। অবিশ্বাসের যে বিষয়টি হয়েছে তা হলো, তা কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের ধারণাগত। যেমন ধরুন- সাগর-রুনির হত্যার ঘটনা। এই মামলার তদন্তের প্রথম দিকে পুলিশের ওপর এত বেশি চাপ ছিল যে- অনেকেরই ধারণা ছিল, বড় ধরনের কোনো চক্রান্ত করেই তাদের হত্যা করা হয়েছে। হয়তো অনেক ক্ষমতাধর মানুষ তাদের দু'জনকে হত্যা করেছে। এটা খুঁজতে গিয়ে পুলিশ বা র‌্যাব কেউ কিছু খুঁজে পায়নি। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার এক বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মানুষ যদি মনে করে, তাকে ধর্ষণের জন্য একজন সুঠামদেহী ও ক্ষমতাধর লোক হলে তা জাস্টিফাইড; এ ধরনের ধারণা করলে করার কিছু নেই। জজ মিয়ার সঙ্গে তুলনা করে কেউ বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন।

সমকাল: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ডিএমপিকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান?

শফিকুল ইসলাম: '৭৫-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের যেটা বলেছেন তা হলো, 'তোমরা জনতার পুলিশ হও। মানুষ যেন নির্ভয়ে তোমার কাছে যেতে পারে। তোমরা শাসকের পুলিশ না, পাকিস্তানি পুলিশ না, ব্রিটিশ পুলিশ না।' সত্যি এ রকম পুলিশ আমরা তৈরি করতে চাই; যেন মানুষ একেবারেই দুঃসময়ের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে পুলিশকে মনে করে।

সমকাল: আপনার দৃষ্টিতে এই মেগাসিটির প্রধান সমস্যা কী?

শফিকুল ইসলাম: এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট। বাসযোগ্য শহর উপহার দিতে হলে উন্নত গণপরিবহনের বিকল্প নেই। শুধু ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে শহর ভালো রাখা যাবে না। এ ছাড়া এখানে জনসংখ্যার বাড়তি চাপ রয়েছে। একই সঙ্গে মাদক একটি অন্যতম সমস্যা; পুলিশ মাদক কারবারি ধরে এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। যত সংখ্যক নাগরিক মাদকাসক্ত তাদের চিহ্নিত করে সবাইকে চিকিৎসার মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে।

সমকাল: ঢাকার একটি পুরোনো সমস্যা ছিনতাই। ছিনতাইমুক্ত ঢাকা গড়তে কোনো প্ল্যান রয়েছে কি?

শফিকুল ইসলাম: এই শহরে যারা অ্যাপসভিত্তিক যানবাহন, সিএনজি অটোরিকশা বা ট্যাক্সি চালান, তাদের পরিচয় সংরক্ষণ করতে একটি পৃথক ডাটাবেজ তৈরি করব, যাতে কোনো অপরাধে জড়ালে চিহ্নিত করতে সমস্যা না হয়।

সমকাল: ডিজিটাল ডিএমপি গড়তে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

শফিকুল ইসলাম: টেন্ডার থেকে শুরু থেকে অপরাধ শনাক্ত করা সবকিছুতেই এখন টেকনোলজিনির্ভর হয়ে যাচ্ছি। মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। পাইলট ভিত্তিতে ঢাকার তিনটি থানায় নতুনভাবে অনলাইন জিডির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সিটিটিসির পাশাপাশি ডিবিও কাজ করছে।

সমকাল: ঢাকায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে। এই গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধা কোথায়?

শফিকুল ইসলাম: ঢাকায় যে গাড়ি চলছে তার চেহারা দেখলে মনে হবে, তা কোথাও থেকে যুদ্ধ করে উঠে এসেছে। গ্রামের ছাল-চামড়াহীন কুকুরের মতো গাড়ির দশা। এই শহরে যত সংখ্যক গণপরিবহন দরকার, তা নেই। এ ধরনের গাড়ি ধরে ডাম্পিংয়ে পাঠালে ঢাকা গাড়িশন্য হয়ে যাবে। মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকবে না।

সমকাল: ডিএমপির স্লোগান হলো- 'শান্তি শপথে বলীয়ান।' নগরবাসী কতটুকু শান্তিতে রয়েছেন?

শফিকুল ইসলাম: কতটুকু শান্তিতে আছেন, এটা প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ব্যাপার। দেখা গেল, একজন ১৫ বছর ঢাকায় বসবাস করছেন। তবে একবারও কোনো অপরাধের শিকার হননি। অপরাধের শিকার হননি বলেই স্বস্তিতে আছেন কিনা, এটা তার ভেতরের বোধের ব্যাপার। তবে পুলিশ অপরাধ দমনের পাশাপাশি অপরাধভীতি দূর করছে। ঢাকায় কেউ অপরাধ করে আমাদের হাত থেকে বাঁচতে পারছে না। অপরাধের মাত্রা কমেছে আর অপরাধ করার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে সক্ষমতা বেড়েছে। পুলিশের মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে- এ ধারণা তৈরি করতেই সারা বছর সেবা করে যেতে হবে।

সমকাল: সড়ক শৃঙ্খলার দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল। এ থেকে আমরা কী শিক্ষা নিলাম?

শফিকুল ইসলাম: আমাদের সন্তানরা বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই রাস্তায় নেমেছিল। প্রথম দিকে তাদের উদ্যোগের সঙ্গে সবাই ছিল। একটা পর্যায়ে এই কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের দেশে অনেক ভালো কাজকে একটা গোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে রাস্তায় যার কাজ তাকেই করতে দেওয়া উচিত।

সমকাল: নতুন বছরের আগে পুলিশ আতশবাজি না ফোটানোসহ নানা নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে এই আদেশ মানতে খুব একটা দেখা যায় না। তাহলে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার তাৎপর্য কী?

শফিকুল ইসলাম: সবকিছু বন্ধ করে দিলে মানুষ আনন্দ প্রকাশের জন্য একটা পথ তৈরি করে নেয়। এছাড়া ক্ষোভ প্রকাশের রাস্তা বের করে। নির্মল আনন্দ যাতে উপভোগ করতে পারে, এমন কোনো জায়গা থাকা উচিত। সামনে এ ধরনের কিছু করার চেষ্টা করব।

সমকাল: বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, পুলিশের কারণে তারা মুক্তভাবে রাজনীতি বা সমাবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

শফিকুল ইসলাম: আমরা যা কিছু করি সেটা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই করি। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে বিভিন্ন সময় বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করা হয়। বিশৃঙ্খলা রোধ আর জনসাধারণের ভোগান্তি দূর করার জন্য যতটুকু বিধিনিষেধ প্রয়োজন, আইনের ভেতরে থেকে তা-ই করা হয়। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে মাসজুড়ে বিএনপি প্রচার চালিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করেছিল, পুলিশ শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করবে। আমরা কোনো কিছুই করিনি। শান্তিপূর্ণ থাকলে পুলিশ কোনো কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে না।

সমকাল: নগরবাসীর কাছে পুলিশ কমিশনার হিসেবে আপনার প্রত্যাশা কী?

শফিকুল ইসলাম: প্রথমত সবাইকে অনুরোধ করব, নিজে আইন মেনে চলুন। যদি কখনও সমস্যায় পড়েন, নির্ভয়ে পুলিশের কাছে যান। আমরা আপনাদের সহায়তা করতে সবসময় প্রস্তুত। কখনও থানায় না গিয়ে পুলিশের সঙ্গে না মিশে পুলিশ সম্পর্কে ধারণাগত মন্তব্য বা বিশ্বাস নিয়ে বসে থাকবেন না।

সমকাল: সমকালকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

শফিকুল ইসলাম: আপনাকেও ধন্যবাদ। সমকালের সবার প্রতি রইল অশেষ শুভেচ্ছা।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)