রাজস্ব আদায় কমেনি: অর্থমন্ত্রী

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল - ফাইল ছবি

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতির অভিযোগ করছেন অর্থনীতিবিদরা। কিন্তু অর্থমন্ত্রী তা মনে করেন না। তিনি বলেছেন, রাজস্ব আদায় বরং বেড়েছে এবং তা গত অর্থবছরের তুলনায় বেশি। বৃহস্পতিবার ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবার লক্ষ্যমাত্রা বেশি প্রাক্কলন করা হয়েছে। যে কারণে প্রাক্কলনের চেয়ে কম আদায় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সাত হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের খসড়া নিয়েও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, এতে বেশ কিছু নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যা কার্যকর করলে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

ক্রয় কমিটির বৈঠকে সার কেনাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের দর প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এতে সভাপতিত্ব করেন।

নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আহরণে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রত্যাশিত আদায় হচ্ছে না। বরং গত অর্থবছরের চেয়ে আদায়ের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে বলে বিশ্লেষকরা দাবি করছেন। জুলাই থেকে ভ্যাট আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে নানা জটিলতা দেখা দেয়। ফলে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

জানা যায়, আলোচ্য অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘাটতি ৩১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আগাম কর ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। আগাম কর বাবদ ছয় হাজার ২০০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ফলে ঘাটতি আরও বেড়ে যাবে। অবশ্য এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, জানুয়ারির পর থেকে রাজস্ব আদায়ের গতি বেড়েছে। এ ছাড়া নতুন চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম দায়িত্ব গ্রহণের পর আদায় বাড়াতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি অনেক কমে আসবে।

সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, 'গত বছর এই সময়ে আমরা কী অর্জন করেছি এবং এ বছর কেমন অর্জন হয়েছে, সেটি বিবেচনা করতে হবে। এ বছর যদি গতবারের চেয়ে কম হয়, তাহলে দ্যাট ইজ নেগেটিভ গ্রোথ। আর যদি গত বছরের তুলনায় বেশি করি, তাহলে পজিটিভ গ্রোথ। আমার জানা মতে, গত বছরের চেয়ে বেশি আদায় হয়েছে। ফলে রাজস্ব আয় কমেনি।'

বেশি ঘাটতি কেন হচ্ছে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয় বড় আকারের, যাতে এটি অর্জন করার জন্য সবাই চেষ্টা করে। আদায় বাড়াতে নানা উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের খসড়ায় ডিএমডি, জিএম নিয়োগসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা কি সম্ভব- জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি ভালো করে পড়িনি। তবে যতদূর জেনেছি, খসড়ায় অনেক নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এ আইনটি ভালো। বাস্তবায়ন করতে পারলে ব্যাংক খাত আরও শক্তিশালী হবে। শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এতে আরও কিছু সংশোধনী আনা হবে। তারপর কেবিনেটে নেওয়া হবে। সেখানে পাস হলে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংসদে উপস্থাপন করা হবে।'

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)