ছিনতাইয়ের টাকায় প্রমোদ ভ্রমণ

৩২৫ সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্নেষণ করে জড়িতরা শনাক্ত

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০ । ০৩:২৯ | আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০ । ০৩:৪৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাহাদাত হোসেন পরশ

ছয় মাসের বেশি সময় ধরে পরিকল্পনার পর রাজধানীর কারওয়ান বাজারে 'মেসার্স কমান্ডার এ এ চৌধুরী' নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি বড় ধরনের ছিনতাই অপারেশন চালানো হয়। ওই দিন সকাল ১০টার দিকে মোবাইল এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসায়ী মামুন উর রশিদ তার ভাগ্নে কামরুল হাসান সবুজের মাধ্যমে ৩৫ লাখ টাকা বুথে জমা দিতে পাঠান। সবুজ কারওয়ানবাজারে উত্তরা ব্যাংকের সামনে পৌঁছার পরপরই হঠাৎ এক তরুণ মোটরসাইকেল থেকে নেমে দ্রুত হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় সজোরে কয়েকটি আঘাত করে। মুহূর্তে অচেতন হয়ে রাস্তায় পড়ে যান সবুজ। এরপর তার কাছ থেকে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারী। রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকায় প্রকাশ্যে এত বড় অঙ্কের ছিনতাইয়ের খবর জানার পরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। টানা সাত দিন ছিনতাইয়ের স্পট ও আশপাশ এলাকার ৩২৫টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ বিশ্নেষণ শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। এরপর প্রথমে বেরিয়ে আসে ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই অপারেশন শেষে হাতিরঝিল মধুবাগ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এরপর আর সিসি ক্যামেরা না থাকায় মোটরসাইকেলের সর্বশেষ গন্তব্য নিরূপণ করা যায়নি।

সন্দেহভাজন ওই মোটরসাইকেলের সূত্র ধরেই পুলিশ কারওয়ান বাজারে সংঘটিত ছিনতাই রহস্য উন্মোচন করে। এখন পর্যন্ত এই ছিনতাইয়ে অন্তত ১০ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।

যাদের অধিকাংশ বয়সে তরুণ ও কিশোর। তাদের মধ্যে কয়েকজন ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান ও কলেজছাত্র। চমকপ্রদ তথ্য হলো, ছিনিয়ে নেওয়া ওই অর্থ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা তাদের প্রেমিকাদের পেছনে খরচ করে ফেলে। ওই চক্রের সদস্যরা রাজধানীর মধুবাগ ও আমবাগান এলাকায় গ্যাং গ্রুপের সদস্য। ছিনতাইয়ের পরপরই টানা ১১ দিন কক্সবাজারের একটি থ্রি স্টার মানের হোটেলে কলেজপড়ূয়া তিন প্রেমিকাসহ অবস্থান করে ১০ জন। সেখানে নামিদামি হোটেলে প্রতিদিন ভূরিভোজ করা ছাড়াও প্রেমিকাদের জন্য দেদার কেনাকাটা করেছে ছিনতাইকারীরা। একজন ছিনতাইকারী তার প্রেমিকাকে ১২ জোড়া দামি জুতা ও মোবাইল ফোন সেট কিনে দেয়। এমনকি কক্সবাজারে যাওয়ার আগে সিলেট ও চাঁদপুরেও তিন দিন ভালো মানের হোটেলে রাতযাপন করে তারা। এরা প্রমোদ ভ্রমণে যাওয়ার আগে নিউমার্কেট এলাকা থেকে দামি জামাকাপড় আইফোনসহ একাধিক মোবাইল ফোন সেট কেনে। প্রেমিকাদের জন্য সেখান থেকে কেনে অর্ধলাখ টাকার বেশি দামের থ্রিপিস। টাকার গরমে কোনো জিনিস কেনার সময় দামাদামি করত না ওরা। ছিনতাইয়ের টাকায় ঘুরতে ঘুরতে যখন কয়েকজনের পকেট ফতুর, তখন কক্সবাজার থেকে ফেরার অর্থ বাসার লোকজনের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চেয়ে নেয় তারা।

ছিনতাই পরিকল্পনা : পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত ৩৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। ছিনতাইয়ে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে ওই ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী হাসানুজ্জামান জনি (১৯)। সে এক সময় মোবাইল এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসায়ী মামুন উর রশিদের প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স কমান্ডার এ এ চৌধুরী'র কর্মচারী ছিল। এর কার্যালয় কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনের নিচতলায়। পরে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

সারাদিনের টাকা জমিয়ে রাখার পর প্রতি শনিবার সকালে কারওয়ান বাজারে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের বুথে ভাগ্নে সবুজের মাধ্যমে জমা দেন ব্যবসায়ী মামুন- এ তথ্য পুরোনো কর্মী হিসেবে জানা ছিল জনির। তাই একবারের চালান ছিনতাই করতে পরিকল্পনা করতে থাকে সে। বড় অঙ্কের ভাগ দেওয়ার কথা বলে জনি তার পরিকল্পনায় আরও কয়েকজনকে যুক্ত করে। তাদের মধ্যে ছিল ব্যবসায়ী মামুনের শ্যালক নাহিদ, জনির ঘনিষ্ঠ সহচর সাদমান রাফিদ শিহাব (২০), মো. সাগর (১৮), তালহা ইসলাম (১৯), হাসান ফরাজি (১৯), শাকিল কাজী (২২) ও অনিক (২০)। অন্তত ছয় মাস আগে থেকে ছিনতাই অপারেশন সফল করার পরিকল্পনা করতে থাকে জনি। পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ ছাড়াও তারা ইমোর মাধ্যমে যোগাযোগ করে নিজেদের মধ্যে এ ব্যাপারে কথা চালিয়ে যেত।

প্রথমে ভুল টার্গেটের মাথায় আঘাত : ছিনতাই অপারেশনের জন্য পরপর তিন সপ্তাহের শনিবার সকালে টার্গেট করে সফল হয়নি ওরা। সর্বশেষ দফায় জনিসহ তিনজন মোটরসাইকেল চালিয়ে কারওয়ান বাজারে যাওয়ার আগে ট্রাফিক পুলিশ তাদের গাড়ি থামায়। তিনজন মোটরসাইকেলে চড়ায় গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই ঝামেলা সেরে মোটরসাইকেল মুক্ত করার আগেই টাকা জমা দিয়ে দেন সবুজ। তাই চতুর্থ সপ্তাহের শনিবার সকালে অপারেশনে যাওয়ার আগের দিন সবাইকে 'শপথ' পড়ায় জনি। সেখানে সে অন্যদের উদ্দেশ করে বলে- 'হয় সদায় না হয় বিদায়'। এরপর ঘটনার দিন ভোর থেকে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকে জনি। সবাইকে হাতিরঝিলে জড়ো হওয়ার কথা জানায়। এর পরই সাগর ও শিহাব মোটরসাইকেল নিয়ে হাতিরঝিল চলে আসে। তবে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ছিনতাই অপারেশনে ব্যবহার করার জন্য 'সুইস গিয়ার' নামে একধরনের চাকু আনার কথা ছিল পাঠাওয়ের চালক শাকিলের। তবে সময় মতো শাকিল পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ায় সুইস গিয়ারের বদলে হাতুড়ি ব্যবহার করার পরামর্শ দেয় শিহাব। বাইক ঠিকঠাক করার কথা বলে মধুবাগ এলাকার একটি ওয়ার্কশপ থেকে তারা হাতুড়ি সংগ্রহ করে কারওয়ান বাজারের দিকে যাত্রা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী টিসিবি ভবনের অদূরে মামুনের প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে টাকার ব্যাগসহ সবুজের বের হওয়ার ব্যাপারে তথ্য দেওয়ার কথা ছিল জনির। সেই পরিকল্পনা মতে সকাল ১০টার দিকে শিহাব ও সাগরকে ফোনে সে জানায়- কালো রঙের শার্ট ও হাতে নীল ব্যাগ নিয়ে সবুজ টাকার ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। টিসিবি ভবন থেকে একটু দূরে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়ানো শিহাব কালো শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তির মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। তবে আঘাত করার পর ওই ব্যক্তির কাছে কোনো ব্যাগ না দেখে অবাক হয় তারা। এক মিনিট পরই কালো শার্ট পরিহিত আরেক ব্যক্তি হাতে ব্যাগ নিয়ে ওই সড়ক ধরে এগিয়ে আসতে থাকে। তখন আবার দৌড়ে গিয়ে হঠাৎ তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে শিহাব। এরপর টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। তখন মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল সাগর। আর পেছনে বসা ছিল শিহাব। দু'জন নিজেদের চেহারা আড়াল করতে মুখোশ পরে অপারেশনে অংশ নেয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাদে শিহাব জানায়, ভুলে ঘটনার দিন চশমা না নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সে। তাই জনি আগাম তথ্য দিলেও চোখে চশমা না থাকায় ভুল লোকের মাথায় আঘাত করে সে।

জড়িতদের পরিচয় : ছিনতাইয়ে জড়িত এ চক্রের সদস্যদের মধ্যে জনি বখাটে হিসেবে পরিচিত। টিসিবি ভবনের উল্টো পাশে তার বাবার চায়ের দোকান রয়েছে। যাতে কেউ সন্দেহ না করে তাই ঘটনার দিন বাবার দোকানের সামনে দাঁড়িয়েই সহযোগীদের তথ্য দেয় সে। ছিনতাইয়ের পাঁচ লাখ টাকা ভাগে পেয়েছিল জনি। শাকিল মাদারীপুরে নাজিম উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ঢাকায় এসে সে পাঠাওয়ের মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। তার মা ঢাকায় একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছে। ছিনতাইয়ের এক লাখ টাকা ভাগে পড়ে তার। তালহা ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। সে তেজগাঁও কলেজের ছাত্র। ইতালি-বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক সে। আমবাগানে তাদের নিজেদের বাসা রয়েছে। মূলত জনির নেতৃত্বে তাদের বাসায় ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনা হয়েছিল। নিয়মিত বখাটে বন্ধুদের নিয়ে ফ্ল্যাটে ইয়াবার আসর বসাত। এক লাখ টাকা পেয়েছিল সে। হাসান মূলত বখাটে বেকার তরুণ। বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। হাসানের পকেটে যায় এক লাখ টাকা। সাগর মোটরসাইকেল গ্যারেজের মেকানিক। ছিনতাইয়ে ব্যবহূত মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল সাগর। সাগর পায় পাঁচ লাখ টাকা। পরিকল্পনায় জড়িত নাহিদ ব্যবসায়ী মামুনের ফুফাতো শ্যালক। নাহিদ পেয়েছিল আট লাখ টাকা। শিহাব গুলশান কমার্স কলেজে ছাত্র। তার ভাগে পড়ে পাঁচ লাখ টাকা। এ ছাড়া ছিনতাই হওয়া অর্থের একটি ভাগ মামুনের আপন ভাই জসীমের পকেটেও গেছে।

প্রমোদ ভ্রমণ :  ছিনতাইয়ের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একটি দল আমবাগান ও মধুবাগ এলাকায় সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ায়। নজরদারির একপর্যায়ে তেজগাঁও থানার এসআই মোশাররফ হোসাইন চৌধুরীর চোখে সিসিটিভির ফুটেজে শনাক্ত হওয়া মোটরসাইকেলটি ধরা পড়ে। তখন মোটরসাইকেল চালক সাজ্জাদকে ধরা হয়। তার মাধ্যমে পুলিশ সাজ্জাদের ভাই সাগরের তথ্য পায়। সাজ্জাদ জানায়, তার ভাই কক্সবাজার রয়েছে। একে একে ধরা পড়ে আটজন। ছিনতাইয়ের এত টাকা কীভাবে খরচ করবে, তা ভেবে পাচ্ছিল না তারা। তখন সিদ্ধান্ত হয়, গ্রেপ্তার এড়াতে ও ছিনতাই করা টাকা খরচ করতে তারা প্রমোদ ভ্রমণে যাবে। এরপর ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা তাদের কলেজপড়ূয়া বান্ধবীদের নিয়ে প্রথমে সদরঘাট থেকে লঞ্চের কেবিন ভাড়া করে চাঁদপুর চলে যায়। এক দিন থাকার পর আবার ঢাকায় ফিরে নিউমার্কেটে কেনাকাটা করে তারা সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়। সিলেটে হোটেলের একই কক্ষে বান্ধবীদের নিয়ে থাকতে তরুণ-কিশোরদের বেগ পেতে হয়। এ কারণে সেখানে এক দিন থাকার পরই দলবেঁধে তারা আবার কক্সবাজারে গিয়ে একটি থ্রি স্টার মানের হোটেলে ওঠে। হাসানের হাতে প্রচুর টাকা এসেছে, এটা জানার পর রাসেল নামে এক তরুণের প্রেমিকা হাসানের হাত ধরে কক্সবাজার চলে যায়। হাসানের সঙ্গে তার বান্ধবী কক্সবাজারে অবস্থান করছে- এটা জানার পর রাসেল কক্সবাজারে চলে যায়। তখন রাসেল ও হাসানের মধ্যে বিরোধ হয়। এরপর ঢাকায় আরেক বান্ধবীকে ডেকে পাঠিয়ে রাসেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে হাসান ও তার বন্ধুরা। এই গ্যাং ১১ দিন বেহিসাবি খরচ করতে থাকে। দামি জিনিসপত্র ও কসমেটিক কেনাকাটা ছাড়াও সারাদিনের জন্য গাড়িও ভাড়া নেয় তারা। ১১ দিনেই পকেটের দৈন্যদশা ফিরে আসার পর ঢাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নেয় ওরা।

পরিবারের উদাসীনতা : উঠতি বয়সের এসব তরুণ-তরুণী এতদিন বাসার বাইরে থাকলেও তাদের পরিবারের কেউ তা আমলে নেয়নি, উঠছে সেই প্রশ্ন। 'নিখোঁজের' বিষয়ে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো জিডি করা হয়নি। শহরকেন্দ্রিক জীবন ব্যবস্থায় শুধু ধনাঢ্য নয়, নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের সঙ্গে মা-বাবার পারিবারিক বন্ধনের যে শৈথিল্য তা আবার সামনে এলো। এমনকি এসব বখাটে ছেলেমেয়ে যেসব প্রতিষ্ঠানে পড়ছে, সেখানে দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকলেও স্কুল বা কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে।

বক্তব্য : মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব বিজয় তালুকদার সমকালকে বলেন, 'এ ছিনতাইয়ের ঘটনায় টাকার অঙ্কের চেয়ে জড়িতদের অন্যান্য কর্মকাণ্ড সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে। কীভাবে নীতিভ্রষ্ট একটি তরুণ সমাজ গড়ে উঠছে- যারা হাতুড়ি বা সুইচ গিয়ার নিয়ে ছিনতাই করতে যেমন দ্বিধা করছে না, আবার ওই অর্থ ব্যয় করছে আরেকটি বাজে পথে। যেসব কলেজপড়ূয়া তরুণী ছিনতাইকারীদের সঙ্গে প্রমোদ ভ্রমণে গিয়েছে, তাদের অভিভাবকদের ডাকা হবে। ছিনতাইয়ে ব্যবহূত মোটরসাইকেল ছাড়াও ছিনতাইয়ের টাকায় কেনা আইফোন, অপো ও রেডমি নোটসহ আরও কিছু মোবাইল সেট জব্দ করা হয়েছে।'

তেজগাঁও বিভাগের এডিসি রুবাইয়াত জামান বলেন, 'স্কুল-কলেজে যাওয়ার পর সন্তানরা কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে তার খবর অনেক অভিভাবকই রাখছেন না। এমনকি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের নিয়মের তোয়াক্কা না করে অনেকে ব্যবসা চালাচ্ছেন। বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনেও তারা পুলিশের সহায়তা নিচ্ছেন না। নিজ কার্যালয়ে এক দিনের বেশি হিসাবের অর্থ জমা রাখার নিয়ম না থাকলেও এজেন্ট ব্যাংকিয়ের সঙ্গে জড়িত অনেকেই সেটা করছেন।'

ব্যবসায়ী মামুন উর রশিদ বলেন, ছিনতাইয়ের পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রথমে এ ঘটনার কোনো ক্লু ছিল না। আমরাই ছিলাম অন্ধকারে। এই পর্যায়ে পুরো বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দেখছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com