একই মেশিনে টাকা জমা-তোলা

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ওবায়দুল্লাহ রনি

এক মেশিনেই অনেক সেবা। মেশিন চিনে নিচ্ছে কত টাকার নোট। আসল না জাল। এরপর গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিক জমা করে দিচ্ছে। এই মেশিন থেকেই অন্য গ্রাহক চাহিদামতো টাকা উত্তোলন করতে পারছেন। কারও সাহায্য ছাড়া গ্রাহক নিজেই সেখান থেকে টাকা স্থানান্তর বা কার্ডের বিল পরিশোধ করতে পারেন। স্বয়ংক্রিয় টাকা জমা ও উত্তোলনের এ যন্ত্রের নাম ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন বা সিআরএম। গত ডিসেম্বর মাসে তিন লাখ ১২ হাজার লেনদেনের বিপরীতে ২৪৩ কোটি টাকা জমা ও উত্তোলন হয়েছে; যা একক মাসের হিসাবে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ।

বেসরকারি খাতের ৭টি ব্যাংক এখন পর্যন্ত নতুন এ সেবা চালু করেছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব ব্যাংকের সিআরএম বুথের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৪টি। এর মধ্যে শহরে ২২৪টি এবং গ্রামে ৩০টি। আগের বছরের একই মাসে ১২৬টি সিআরএম ছিল, যার মাধ্যমে লেনদেন হয় ১০১ কোটি টাকা। ৬ মাস আগে গত জুনেও ১২৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) ও ক্যাশ ডিপোজিট মেশিনের (সিডিএম) মতোই সিআরএম। প্লাস্টিক কার্ডের মাধ্যমেই এর লেনদেন করতে হয়। তবে এটিএম বুথ থেকে গ্রাহক শুধু টাকা উত্তোলন করতে পারেন। আর সিডিএমে শুধু জমা দিতে পারেন। সিআরএমে জমা, স্থানান্তর ও উত্তোলন সবই করা যায়। আবার এ উপায়ে কেউ টাকা জমা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তা অ্যাকাউন্টে যোগ হয়। সিডিএমে জমা দিলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যোগ হতে সময় লাগে।

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, একই মেশিনে জমা ও উত্তোলনের সুবিধার ফলে ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়ে উপকৃত হচ্ছেন। রিসাইকেলিংয়ের ফলে মেশিনে ব্যাংকের টাকা রাখার খরচ কমেছে। আবার কোনো একজন গ্রাহক হয়তো বেচাকেনা শেষে রাতে টাকা রাখলেন। তাৎক্ষণিকভাবে যা তার অ্যাকাউন্টে যোগ হয়ে গেল। সেখান থেকে আবার আরেকজনকে পরিশোধ করতে পারলেন। এ জন্য তাকে আরেক দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। এসব কারণে এর ব্যবহার বাড়ছে।

বাংলাদেশে সিডিএম মেশিন স্থাপনে এগিয়ে থাকা জারা জামান টেকনোলজির অপারেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান এসএম গিয়াস উদ্দিন সমকালকে বলেন, সিডিএম বুথে নিজের ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড ঢুকিয়ে পিন নাম্বার দিতে হয়। এরপর টাকা জমা বা উত্তোলনের বাটন চাপতে হবে। টাকা জমার বাটন চাপলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেশিনের সামনের একটি অংশ খুলে যাবে। যেখানে টাকা রাখার পর মেশিন গুনে ও নোটের সঠিকতা যাচাই করে একটি রিভিউ দেবে। গ্রাহক 'ওকে' বাটনে চাপ দিলে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)