ফ্যান বন্ধ করা নিয়ে জাবি শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ নেতার মারধর

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০ । ২১:০৬

জাবি প্রতিনিধি

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শামীম শিকদার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মারধরের শিকার ছাত্রের বান্ধবীকে লাঞ্ছনা করার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বান্ধবীর বিরুদ্ধে।

সোমবার দুপুর তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

এরা হলেন- আদনান সাকিব ও ঐশ্বর্য বিনতে নেওয়াজ। তারা দু'জনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের ৪৮ তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। আর অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শামীম শিকদার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪০তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক ছাত্র। তিনি জাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় আদনান সাকিব ও তার বান্ধবী ঐশ্বর্য বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ক্যাফেটেরিয়ায় শামীম শিকদার তার এক বান্ধবীর সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। আড্ডার একপর্যায়ে দূর থেকে ইশারা করে শামীমকে ফ্যানের সুইচ বন্ধ করতে বলেন আদনান। এ সময় আদনানকে নিজে গিয়ে সুইচ বন্ধ করতে বলেন শামীম। আদনান সুইচ বন্ধ করতে গেলে শামীম তার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আদনানকে চড়-থাপ্পড় দেন শামীম।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আদনান বলেন, 'আমি পরিচয় দেওয়ার পরপরই তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি আমাকে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে তিনি আমাকে মারধর শুরু করেন। তখন আমার বান্ধবী আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও লাঞ্ছিত করেন শামীমের সাথে থাকা বান্ধবী।'

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম শিকদার বলেন, 'দূর থেকে ইশারা করার কারণে আমি ঠিক বুঝতে পারিনি তিনি (আদনান) আসলে কি বলতে চেয়েছেন। কিছুক্ষণ পর ওই ছেলে নিজে এসে ফ্যানের সুইচ বন্ধ করে এবং আমার কাছে জানতে চায় আমি কেন সুইচ বন্ধ করিনি। এ সময় সে আমার গায়েও হাত দেয়। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়।'

এ ব্যাপানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, 'লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের কাজ করছি। শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।'

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com