প্রকৃতি

বৃক্ষের নাম ভেলা

১৬ মার্চ ২০২০ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২০

মোকারম হোসেন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাগানে নান্দনিক বৃক্ষ ভেলা- লেখক

চার বছর ধরে এটিএন নিউজের জন্য 'প্রকৃতিপাঠ' নামে উদ্ভিদ পরিচিতিমূলক একটি অনুষ্ঠান বানাতে গিয়ে দেশের অনেক জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি। ঘুরতে ঘুরতে গেলাম ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে। এটি আমার দেখা অতি সমৃদ্ধ একটি আঞ্চলিক বোটানিক্যাল গার্ডেন। বাগানটি সমৃদ্ধ করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি দেখালেন ভেলা নামের সুদর্শন এই বৃক্ষ। বনের এই গাছ আগে কখনও দেখিনি।

গাছটির প্রচলিত নাম ভেলা হলেও আসলে জলাশয়ে ভেসে বেড়ানো ভেলার সঙ্গে এর কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে শুধু ভেলা নয়, গাছটি স্থানীয়ভাবে বেলা, বেডা এবং ভেলাটুকু নামেও পরিচিত। দেশের বৃহত্তর সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও মধুপুরের বনে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই উদ্ভিদ সমতলে বেশ দুর্লভ।

বড় আকৃতির সুদর্শন পাতা দেখে গাছটি খুব সহজেই চেনা যায়। ভেলা  (Semecarpus anacardium)  মাঝারি আকৃতির পাতাঝরা বৃক্ষ। এই গাছের প্রশাখা, পত্রবৃন্তক এবং পাতা ক্ষুদ্র রোমে আবৃত থাকে। পাতা দীর্ঘ, চওড়া, পুরু এবং আগার দিকে গোলাকার। কচি পাতার রং কাঁচা সবুজ হলেও পরিণত পাতা দেখতে কালচে সবুজ। পাতার বৃন্ত স্থূলকায় এবং আড়াই সেন্টিমিটার লম্বা। ফুল ফোটার মৌসুম বসন্তকাল। ফুলের বিন্যাস অসম, বিক্ষিপ্ত এবং স্থূলকার ধরনের। ফুল মিশ্রবাসী, ছোট ও গুচ্ছিত। দলবৃতির তুলনায় বেশ বড়, আয়তাকার এবং সবুজাভ সাদা রঙের। ফলগুলো ডালের আগায় এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে থাকে।

সাধারণত মে-জুন মাসের দিকে এ গাছের ফল পাকতে শুরু করে। ফল তির্যকভাবে আয়তাকার এবং আড়াই সেন্টিমিটার লম্বা হতে পারে। পাকা ফলের ওপরের অংশ কালচে এবং নিচের দিকটা কমলা রঙের। ফলের নিচের অংশ খাওয়া যায়। ওপরের অংশ থেকে এক ধরনের আঠালো রস পাওয়া যায়। এই রস ধোপারা কাপড় চিহ্নিত করার কালি হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)