করোনা আতঙ্ক কাটছে না শেয়ারবাজারে

১৬ মার্চ ২০২০ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

অস্থিরতা কাটছে না দেশের শেয়ারবাজারের। সোমবার দিনের লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা পার হতেই বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৩ হাজার ৮৮০ পয়েন্টে নেমেছে। সূচক পতনের হার সোয়া ২ শতাংশ। এমন পতনে সূচকটি এরই মধ্যে ফিরে গেছে ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবরের আগের অবস্থানে।

অবশ্য সকাল সাড়ে ১০টায় দিনের লেনদেন শুরু হয়েছিল ঊর্ধ্বমুখী ধারায়। মাত্র ১৩ মিনিটেই সূচকের ৬০ পয়েন্ট বা দেড় শতাংশ বেড়ে আশা জাগিয়েছিল বিনিয়োগকারীদের মাঝে। কিন্তু এ আশা ১৫ মিনিটও স্থায়ী হয়নি। আবারও শুরু হয় সূচকের পতন।

বাজার সংশ্লিষ্ট ও শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, করোনো আতঙ্কই শেয়ারবাজারে দরপতনের মূল কারণ।

গত বৃহস্পতিবার ও রোববার মিলে ডিএসইএক্স সূচকটি হারিয়েছিল ২৭১ পয়েন্ট। গত চার সপ্তাহে হারিয়েছে ৮০০ পয়েন্ট।

গত কিছুদিনের মত আজও সরকারি প্রতিষ্ঠান শেয়ার কিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক দিনের দরপতনে অনেক শেয়ারের দর ব্যাপকভাবে কমায়, সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার কিনছেন। যদিও তাদের সংখ্যা কম। দরপতন বাড়তে থাকায় বিভিন্ন শেয়ারে ক্রেতা সংখ্যা কমছে। যারা শেয়ার কিনছেন, তারাও চাচ্ছেন কম দামে শেয়ার কিনতে। ফলে দরপতন ক্রমে বাড়ছে।

বেলা সাড়ে ১১টায় দিনের লেনদেনের প্রথম ঘণ্টার শেষে দেখা গেছে, প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩৩৪ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হচ্ছিল। এর মধ্যে দর বেড়ে কেনাবেচা হয় ১১৬টি বা ৩৫ শতাংশ শেয়ার। বিপরীতে দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায় ১৪৯টি, যা লেনদেন হওয়া শেয়ার ও ফান্ডের ৪৫ শতাংশ।

লেনদেনে আসা বেশিরভাগ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হলেও প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৯ পয়েন্ট হারিয়ে ৩ হাজার ৯২৯ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। সূচকের এ অবস্থান ২০১৩ সালের ২৭ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন।

লেনদেন শুরু দুই ঘণ্টা পর দুপুর সাড়ে ১২টায় দেখা যায়, মাত্র ৪৪টি শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছে। বিপরীতে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ২৬৪ শেয়ার। অপরিবর্তিত ছিল ৪০টির দর। এ সময় ডিএসইএক্স রোববারের তুলনায় ৮৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৩ হাজার ৮৮০ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। সূচক পতনের হার সোয় ২ শতাংশ।

তবে এমন নেতিবাচক ধারার পুরো উল্টো চিত্র ছিল লেনদেন শুরুর প্রথম ১৫ মিনিটে। আগের দুইদিনের আড়াই শত পয়েন্ট হারানোর পর সকাল সাড়ে ১০টায় বেশ ঊর্ধ্বমুখী ধারায় শেয়ারবাজারের লেনদেন শুরু হয়। লেনদেন শুরুর মাত্র ১৩ মিনিটে লেনদেনের আসা ৯০ শতাংশেরও বেশি শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। এ সময় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স রোববারের তুলনায় প্রায় ৬০ পয়েন্ট বা দেড় শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ২৯ পয়েন্টে ওঠে।

এর পরই স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোসহ বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারের দর কমা শুরু করলে সূচক নিম্নমুখী হয়। বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে সূচকটি দিনের সর্বোচ্চ অবস্থানে ওঠার পর মাত্র ১৬ মিনিটে ৭৯ পয়েন্ট হারিয়ে ৩ হাজার ৯৪৯ পয়েন্টে নেমে আসে।

এর আগে ১০টা ৫২ মিনিটে যখন দিনের বৃদ্ধি পাওয়া ৬০ পয়েন্ট নিচে নামছিল, তখনও ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮০ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, বিপরীতে ৭৬টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

এদিকে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে প্রথম দুই ঘণ্টার লেনদেন শেষে ৪৫টি কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৪৮টির দর কমে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। এ সময় সিএসসিএক্স সূচকটিকে ১১৩ পয়েন্ট হারিয়ে ৭২৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে এমন কোম্পানিগুলোর দরপতনই পুরো বাজারকে নেতিবাচক ধারায় ফেলে দিচ্ছে। বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির কারণেই হয়তো এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)