মৃত্যুই যেন এক স্থানে টেনে এনেছিল দুই ভাইকে

২৩ মার্চ ২০২০ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২০

আহমদ উল্লাহ, পটিয়া ও মুহাম্মদ এরশাদ, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

জসিম উদ্দিন ও তাওরাত হোসেন বেলাল দুই ভাই। একজনের বয়স ২৮, আরেকজনের ১৮। বয়সের ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ হলেও দু'জনের মধ্যে ছিল দারুণ সখ্য। জসিম লোহাগাড়ায় কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে কাজ করতেন। বেলাল ছিলেন পোস্ট  অফিসের আইসিটি উদ্যোক্তা। অফিসের কাজ শেষ করে বড় ভাইয়ের কাছে এসেছিলেন বেলাল। কম্পিউটার সেন্টার বন্ধ করে একসঙ্গে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগরে বাড়ি ফিরতে তারা লেগুনায় উঠেছিলেন। তার আগে ফোন করে বাড়িতে আসার কথা জানিয়েছিলেন আরেক ভাই কায়সার হামিদকে। কিন্তু বাড়ি আর ফেরা হলো না দুই ভাইয়ের। মাঝপথেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল দুই ভাইয়ের প্রাণ।

শুধু জসিম ও বেলাল নন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একই দুর্ঘটনায় কেড়ে নিয়েছে আরও ১৩ প্রাণ। নিহতদের বাড়িতে চলছে এখন শোকের মাতম। শনিবার রাত ১০টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া বন রেঞ্জ কার্যালয় এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় দায়ী ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

দুই ভাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বড় ভাই কায়সার হামিদ। তিনি বলেন, 'মৃত্যুর একটু আগেই ওদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। তারা কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে এ কথায় যে শেষ কথা হবে, কে জানত।'

লোহাগাড়া থানার ওসি জাকির হোসাইন মাহমুদ বলেন, ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ১২ জন ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন মারা যান। দুর্ঘটনার পরপরই থানা, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। এরপর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুর্ঘটনায় নিহত অন্যরা হলেন- নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে ব্যাংকার মোহাম্মদ বাদশা মিয়া (৩৮), কক্সবাজারের উত্তর হারবাং এলাকার আবদুস সালাম (৭০), লোহাগাড়ার চুনতি মীরখিল এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪০), বড়হাতিয়ার আবদুল মাবুদের ছেলে মো. রুবেল (২০), দিঘিরপাড় এলাকার মৃত জাফর আহমদের ছেলে মো. জহির (২৮), উত্তর কলাউজান এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. এনাম (৪৫), চকরিয়ার কাট্টলী আলীপাড়ার মৃত হামিদুল্লাহর ছেলে রশিদ আহমদ (৬৫), পাহাড়তলীর কাকরা এলাকার ছৈয়দ হাজির ছেলে লেগুনাচালক মো. ফরহাদ (২৫), তার সহকারী খুটাখালীর গর্জনীয়া পাহাড় এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে মো. সুমন (১৫), চকরিয়ার হারবাং এলাকার দলিল আহমদের ছেলে খলিলুর রহমান (২৮), পূর্ব কাট্টলীর আজিজনগর এলাকার আবদুর রশিদ ওরফে রইশ্যা (৫০), উত্তর হারবাংয়ের ইসলাম ট্রেডিং এলাকার মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে জসিম উদ্দীন (৪০) ও একই এলাকার নবী হোসাইন (৪২)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লোহাগাড়া থেকে যাত্রীবোঝাই করে চকরিয়া যাচ্ছিল স্থানীয়ভাবে ম্যাজিক গাড়ি নামে পরিচিত লেগুনাটি। ওই গাড়িতে যাত্রী ছিলেন অন্তত ১৭ জন। লেগুনাটি মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া ঢালার কাছে এসে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের মধ্যে পড়ে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা লবণবোঝাই ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৩৯৪৮) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাণ হারান লেগুনার ১৫ যাত্রী।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)