আইপিএলে তারা হয়ে এসে খসে গেছেন যারা

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০ । ১৮:২৭

অনলাইন ডেস্ক

ছবি: ফাইল

সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং আর্থিক দিক থেকে শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-২০ লিগের নাম ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বাঘা বাঘা ক্রিকেটাররা ডাক পান এই লিগে। উঠে আসেন ভারতের তরুণরা। বড় ওই তারকাদের সঙ্গে খেলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে আসার স্বপ্ন বোনেন তারা। আইপিএল তেমনই সাড়া জাগিয়ে এসেছেন বেশি কিছু ক্রিকেটার। আবার তারা হারিয়েও গেছেন।

সিদ্ধার্থ ত্রিবেদী

আইপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ে সম্ভাবনার ক্যারিয়ার শেষ করেন সিদ্ধান্ত ত্রিবেদী। এক বছর সব ধরণের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হন তিনি। আর ফিরে আসতে পারেননি। অথছ ওই সিদ্ধার্থই রাজস্থান রয়্যালসকে ২০০৮ সালে আইপিএল জিততে বড় অবদান রাখেন। গুজরাটের এই মিডিয়াম পেসারকে শেন ওয়ার্ন ভারতীয় ক্রিকেটের পরবর্তী তারকা ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখন সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে সঙ্গে তিনি।

​কামরান খান

উত্তরপ্রদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ২০০৯ সালে ১২ লাখ রুপিতে আইপিএলে আসেন কামরান খান। খেলেন রাজস্থান রয়্যালসে। অদ্ভূত বোলিং অ্যাকশনের সঙ্গে ১৪০ কিমি গতিতে বল করতেন তিনি। ভক্তরা তাকে 'টর্নেডো' বলে ডাকতো। শেন ওয়ার্নের নেতৃত্বে ওই তরুণ কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে সুপার ওভারে ক্রিস গেইলকে আউট করে ম্যাচও জেতান। পরের বছরই কামরান অচেনা হয়ে যান। এরপর ক্রিকেট থেকেই হারিয়ে যান। শোনা যায়, গ্রামে গিয়ে চাষবাস করছেন তিনি।

​স্বপ্নিল আসনোদকর ও পল ভ্যালথাটি

খুব দ্রুতই পল ভ্যালথাটি ও স্বপ্নিল আসনোদকর  ভারতের জার্সি পরতে যাচ্ছেন এমনই মনে হচ্ছিল। কিন্তু দু'জনই হারিয়ে গেছেন। ২০০৮ সালে ওপেনার স্বপ্নিল অভিষেক ম্যাচে ২৯ বলে ৬০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন।  ওই মৌসুমে ২১ ম্যাচ ৪৬৪ রান করেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ১২২.৪২। কিন্তু পরের মৌসুমগুলোতে আর জ্বলেনি তার ব্যাট। এখন তিনি গোয়া অনূর্ধ্ব ২৩ দলের কোচ। আর ​পল ভ্যালথ্যাটি খেলোয়াড় কোটায় ইয়ার ইন্ডিয়ায় চাকরি করেন। তিনি ২০১১ সালে ১৪ ম্যাচ ৪৬৩ রান করেন। একটি সেঞ্চুরি ও দুটি অর্ধ শত করেন।

​শাদাব জাকাতি

বাঁ-হাতি অফ স্পিনার ছিলেন শাদাব জাকাতি। চেন্নাই সুপার কিংস অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির তুরুপের তাস। ২০১০ এবং ২০১১ মৌসুমে চেন্নাইয়ের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে তার ঝলকের অবদান আছে। প্রথম মৌসুমে নয় ম্যাচে ১৩ উইকেট নেন। ৩৯ বছর বয়সে আইপিএল শুরু করায় ক্যারিয়ার এগোয়নি তার।

​মনপ্রীত গোনি

আইপিএল নিলামে কেউ কিনতে চাচ্ছিল না গোনিকে। চেন্নাই তাকে দলে নেয়। ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট পান গোনি। আইপিএলে পেসের ঝড় তুলে জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। তবে পারফরম্যান্স স্থায়ী হয়নি।

​মনবিন্দর বিসলা

বিসলা ২০১২ সালে কলকাতাকে আইপিএল খেতাব জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন। ফাইনালে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ৪৮ বলে ৮৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। পরের মৌসুমে ১৪ ম্যাচ মাত্র ২৩৬ রান করতে পারেন। ক্যারিয়ার আর বেশি এগোয়নি তার।

রাহুল শর্মা

রাহুল শর্মা ২০১১ আইপিএলে পুণের হয়ে চমক দেখান। ১১ ম্যাচে ১৬ উইকেট নেন। জাতীয় দলে ডাকও পান। চারটি একদিনের ম্যাচ এবং দুটি টি২০ খেলেছেন তিনি। কিন্তু চোটে তার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে।

সৌরভ তিওয়ারি

দেখতে মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো। চুলের স্টাইলও ধোনির মতো। ছক্কাও হাঁকাতেন মাহির স্টাইলে। সৌরভ তিওয়ারি খেলেন আবার উইকেটরক্ষক হিসেবেই। অনূর্ধ্ব- ১৯ বিশ্বকাপ জিতেই আলোচনায় আসেন তিনি। প্রথম আইপিএলে দাম পান ৩০ লাখ রুপি। ৪১৯ রান করে পত্যাশাও পূরণ করেন।কিন্তু সেই শুরু সেই শেষ। পরের ক'মৌসুমে দল পেলেও রান পাননি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com