জরিমানায়ও থামছে না অসৎ ব্যবসায়ীরা

আমদানির চেয়ে দ্বিগুণ থেকে পাঁচগুণ বেশি দামে পণ্য কিনছেন ক্রেতা, দুটি আড়ত বন্ধ করেছে ডিএনসিআরপি

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০ । ০০:০০ | আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০ । ০২:১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিরাজ শামস

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে সংকটে পড়ে সাধারণ মানুষ। এই সময়ে সুযোগ নিয়ে অপকৌশলে নেমেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এখন আবার রমজান মাস চলে আসায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। তারা পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে অসৎভাবে মুনাফা করছেন। একের পর এক এসব অপকর্ম ধরা পড়ায় জরিমানাও দিচ্ছে তারা। তবুও বন্ধ হচ্ছে না। উল্টো অযৌক্তিক দাম বাড়িয়ে মুনাফা করে যাচ্ছে তারা।

আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মতে, গত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ- এই তিন মাসে আমদানি করা পণ্য করোনা সংক্রমণ হওয়ার পর থেকে বিক্রি হচ্ছে। রমজান মাস জুড়ে এ পণ্য বিক্রি হবে। আমদানিকারক ও মিল মালিক ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, আমদানি করা পণ্য দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে যৌক্তিক দামে বিক্রি করছেন। সরবরাহ বাড়িয়ে বাজার স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন। এই দাবি করেছেন খোদ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (ডিএনসিআরপি) কাছে। অধিদপ্তরের অভিযানেও অসাধু ব্যবসায়ীদের অতিমুনাফার কারণে জরিমানা করে সতর্ক করার পরেও তা মানছে না।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে আমদানি করা পরিশোধিত চিনির গড় মূল্য প্রতি কেজি ৩০ টাকা। একই সময়ে অপরিশোধিত চিনির গড় মূল্য প্রতি টন ৩০৭ ডলার। এ হিসাবে প্রতি  কেজি ২৬ টাকা। গত তিন মাসে আমদানি করা গড় মূল্য প্রতি কেজি মসুর ডাল ৪৪ টাকা, ছোলা ৫৭ টাকা, পেঁয়াজ ৩৪ টাকা, রসুন ১০৫ টাকা ও আদা ৭১ টাকা। গত মার্চ মাসেও প্রতি কেজি আদার আমদানি মূল্য পড়েছে মাত্র ৭৩ টাকা। আমদানি দামের চেয়ে অযৌক্তিক মুনাফা করতে পাঁচগুণ দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এখন। এ কারণে এ পণ্য কিনতে কেজিতে ৩৫০ টাকা গুনছেন ক্রেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমদানিকারকরা ৭৩ টাকা আমদানি করা আদা পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে ২৬০ টাকায় বিক্রির তাগিদ দেন। পাইকারি আড়তদাররাও ওই দামে বিক্রি করে তাদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের মুনাফায় ভাগ বসান। আমদানিকারক ও পাইকারদের অতিমুনাফা দেখে খুচরা ব্যবসায়ীরাও সুযোগ কম নিচ্ছে না। তারাও ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা কেজিতে কেনা আদা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছে। শুধু আদা নয়, পেঁয়াজ ও রসুনের দামও চড়া। প্রতিকেজি আমদানি করা রসুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এই বাড়তি দামে বিক্রির অপরাধে একবার জরিমানা করার পরও অসৎ মুনাফায় লিপ্ত হয়েছে ব্যবসায়ীরা। এ কারণে গতকাল রোববার নতুন করে জরিমানা ও আড়ত সিলগালা করেছে বলে সমকালকে জানান ডিএনসিআরপি উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, 'গোপনে বেশি দামে আদা বিক্রি করে আসছে রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজরের আয়নাল অ্যান্ড সন্সের ব্যবসায়ী। এর আগেও ওই বাজারে ব্যবসায়ীদের বেশি দামে বিক্রির অপরাধে জরিমানা করা হয়। এর পরও তখন আমদানিকারকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিকেজি আদা ১২০ টাকায় বিক্রির কথা ছিল। তবে গতকাল আবারও ২০০ টাকা দরে বিক্রি করায় আয়নাল অ্যান্ড সন্সের আড়ত সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।' তিনি বলেন, আইন অমান্য করে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করায় প্রতিষ্ঠানটিকে এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তারা কেন এ কাজ করল তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। যথাযথ উত্তর দিতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেওয়া হবে।

গতকাল এ অভিযানে আরও ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফাহমিনা আক্তার ও রজবী নাহার রজনী। এর আগে মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের নেতৃত্বে এ অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে বন্ধ করা হয়। তিনি বলেন, এক কেজি আদা সর্বোচ্চ খরচ পড়ে ৯৭ টাকা। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম গত কয়েক সপ্তাহে হুহু করে বেড়ে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরায় দাম বেড়েছে। তাই আদার দাম নিয়ন্ত্রণে শ্যামবাজারের আড়ত মালিক সমিতি সঙ্গে বসা হয়। ব্যবসায়ীরা আলোচনা করে পাইকারিতে আদার মূল্য ১২০ থেকে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করে দেন। অভিযান চলাকালে চাল, ডাল, রসুন, আদা, পেঁয়াজ, মরিচসহ নিত্যপণ্য যৌক্তিক দামে বিক্রির জন্য সতর্ক করা হয়। এ ছাড়া রাজধানীর বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম তদারকি করা হয়। ডিএনসিআরপি টিম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করেছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com