করোনার কালে ১৫ ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও গুলি করে মেরেছে কেনিয়ার পুলিশ

১৬ জুন ২০২০

অনলাইন ডেস্ক

ফাইল ছবি

করোনার ছোবলে বেহাল কেনিয়ায় যত না রোগে ভুগে মরছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ মরছে পুলিশের লাঠি আর গুলির আঘাতে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আফ্রিকার এই দেশটিতে সরকার কারফিউ ঘোষণা করেছে, কিন্তু কারফিউ মানার ব্যাপারে সামান্যতম বেচাল দেখলেই পুলিশ ঝাঁফিয়ে পড়ছে জনগণের ওপর। তাদের নির্মমতায় প্রাণ হারাচ্ছে করোনায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। চলতি মাসের শুরুতে দেশটির পুলিশ করোনা সামাল দেওয়ার নামে ১৫ জনকে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর আনাদোলু নিউজ এজেন্সির।

দেশটির মানুষ করোনার চেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছেন পুলিশের বিধ্বংসী আচরণকে। এ পর্যন্ত করোনার চেয়ে পুলিশের পিটুনিতেই বেশি মানুষ মারা গেছে কেনিয়াতে। মাদারে নামের একটি বিশাল দরিদ্র বস্তির মধ্যে ২৫ মার্চ পর্যন্ত করোনায় কোনো আক্রান্ত ছিল না। তিন বর্গমাইলব্যাপী বিশাল এই বস্তিতে কম করে হলেও পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। কিন্তু এখন সবচেয়ে দরিদ্র এ বস্তিতেও করোনাভাইরাস আঘাত হেনেছে। স্থানীয় বাসিন্দা এলিজা কানি গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এই বস্তির বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রিপোর্টিং করে আসছেন। তার মতে, এই বস্তির মূল চারটি সমস্যার মধ্যে আছে দারিদ্র্য, দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন, অতি জনসংখ্যা ও পুলিশি বর্বরতা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানুষের মধ্যে অন্তত তিন মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে বললেও মাদারেতে এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখাও কষ্টকর। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করেন। কারফিউ ঘোষণায় আতঙ্কিত হয়ে ওঠে মাদারের জনগণ। কারণ, পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘাতের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে।

কেনিয়ার পুলিশের বিরুদ্ধে শুধু ২০১৯ সালের তিন হাজারটি নির্যাতনের অভিযোগ আছে। মাদারেতে করোনাভাইরাস আসার আগেই একে কেন্দ্র করে দেওয়া কারফিউর মধ্যে পুলিশের হাতে ১৩ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়। ইয়াসিন নামের ওই শিশুর মা খাদিজা আবদুল্লাই হুসেইন বলেন, ‘রাস্তায় পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছিল। কয়েক মিনিট পরেই আমি গুলির শব্দ শুনতে পাই। বাচ্চাদের আমি শুয়ে পড়তে বলি। এই কথা বলতে বলতেই খেয়াল করি আমার পেছনে চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়াসিন ঢলে পড়েছে। আমার সন্তান আমাকে বলছিল, ‘মা, আমার গুলি লেগেছে’।’ নিজ সন্তান হত্যার বিচার খোদার কাছে চেয়ে কাঁদতে থাকেন খাদিজা।

ইয়াসিন হত্যাতেই থেমে থাকেনি পুলিশি বর্বরতা। কারফিউর মধ্যেই রাস্তায় অপর এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, পুলিশ পিটিয়ে ওই লোকটিকে হত্যা করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, ‘পুলিশ যখন তাকে তাড়া করছিল তখন আমি সেখানে ছিলাম। তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করার পর সে পড়ে যায়। এরপর পুলিশ তাকে ক্রমাগত মারতে থাকে। তাকে করোনাভাইরাস হত্যা করেনি। তাকে হত্যা করেছে পুলিশ।’ স্থানীয়রা ওই ব্যক্তি হত্যার বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পুলিশ ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার স্বাধীন তদন্ত হওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু এমন ১০ হাজারের বেশি ঘটনা তদন্তাধীন থাকলেও আজ পর্যন্ত একটি তদন্তও শেষ হয়নি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)