বিশেষ লেখা

এই বিল বাতিল করাই সঙ্গত

২৫ জুন ২০২০ | আপডেট: ২৫ জুন ২০২০

সৈয়দ আবুল মকসুদ

একটা অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অতি কষ্টে রয়েছে তিনটি মাস। আয় রোজগার নেই। অথবা কমে গেছে অধিকাংশ মানুষের আয়। সীমিত আয়ের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত টিকে থাকার জন্য হিমশিম খাচ্ছে। এরকম একটি পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও পানির ভূতুড়ে বিল যখন তাদের কাছে এসেছে, এটি একটি আঘাতের মতো। অনুমানপ্রসূত বিল পাঠানোর সপক্ষে কর্তৃপক্ষ যে অজুহাত দিয়েছে, তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং  কর্তৃপক্ষের তাতে অদক্ষতা অথবা দায়িত্ব পালনের গাফিলতি প্রমাণিত হয়েছে। করোনার প্রাথমিক পর্যায়েই যদি বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রাহকের মিটার রিডিং সম্ভব না হয়ে থাকে এবং এরপর যদি কয়েক মাস এই অবস্থা অব্যাহত থাকে, তাহলে তখন কী হবে? কত দিন তথাকথিত বা অনুমানপ্রসূত গড় বিল দিতে বাধ্য থাকবে গ্রাহকরা? যেভাবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের নির্দেশ এসেছে, এ যেন সেই জমিদারি প্রথার খাজনা পরিশোধের মতো। ফসল হোক বা না হোক, প্রজাকে খাজনা দিতেই হতো। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে যদি বিদ্যুতের কর্মচারীরা মিটার রিডিং করতে না পারেন, গ্রাহকরা বিল পরিশোধের জন্য তাহলে বিদ্যুৎ অফিসে কীভাবে যাবেন? সেখানে তো ভীষণ ভিড় হবে। করোনা সংক্রমণের জন্য তা আরও বেশি ক্ষতিকর। বিদ্যুতের অফিসে দৌড়াদৌড়িতে যাতায়াতের খরচ কে দেবে? অর্থবছরের শেষ দিকে নিজেদের সফলতা ফলানোর জন্য লম্বা বিল করে আদায় করে। এবারও তাই হয়েছে। এতে তারা নানা ধরনের মুনাফাও পায়।

এই বিলের কারণে আবাসিক ও কলকারখানার মালিকরা বিল নিয়ে যে বিপদে পড়েছেন, তাই নয়। খুব বেশি বিপদে পড়েছেন কৃষি খামারের গ্রাহকরা। কোনো কোনো কৃষি খামারে এমন বড় অঙ্কের বিল দেওয়া হয়েছে, যা অবিশ্বাস্য। অনেক জায়গায় কৃষকরা আন্দোলনও শুরু করেছেন। শুধু বিদ্যুতের বিল নয়, পানির বিলের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটেছে। ভোক্তা নাগরিকদের ওপর এ এক বড় রকমের অবিচার। সামগ্রিক বিবেচনায় ভোক্তা নাগরিক সমাজ থেকে আমাদের দাবি, এই বিল বাতিল করাই সঙ্গত। আমাদের দাবি, মিটার রিডিংয়ের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নির্ভুল বিল করা হোক এবং গ্রাহকদের বিল পরিশোধের জন্য সময় বাড়ানো হোক।

লেখক ও কলামিস্ট

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)