করোনাকাল

সুদিন ফিরছে হালদার

২৬ জুন ২০২০

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

হালদায় মাছ ধরছেন জেলেরা - ফাইল ফটো

সুদিন ফিরছে হালদা নদীর। ফের নদীতে খেলা করছে ডলফিনের দল। মা মাছেরাও রেকর্ড ভেঙে ডিম ছাড়ছে হালদায়। এক যুগের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক মা মাছ ডিম ছাড়তে এসেছে হালদায়। প্রথম দফায় প্রায় ২৫ হাজার কেজি ডিম ছাড়ার পর শুক্রবার রাতে ফের ডিম ছাড়তে হালদা নদীতে আসে মা মাছেরা। দ্বিতীয় দফাতে জেলেরা পেয়েছেন প্রায় দেড়শ' কেজি ডিম। পর পর দু'বার এত বেশি ডিম পাওয়ার রেকর্ড নেই গত ২০ বছরে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নানা পদক্ষেপের ফলেই বদলে যাচ্ছে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা। এই নদী রক্ষায় সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন উচ্চ আদালতও।

পাঁচ কারণে হালদায় সুদিন ফিরছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই নদী দূষণে যুক্ত পিকিং পাওয়ার প্লান্ট ও এশিয়ান পেপার মিল বন্ধ করে দেওয়া, ১৭টি বালুমহাল বিলুপ্ত করা, এক ডজনেরও বেশি ড্রেজার জব্দ করা, ইঞ্জিনচালিত নৌকার ৮০ শতাংশ বন্ধ হওয়া এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভাসা জাল ও ঘেরা জাল জব্দ করায় আগের চেয়ে অনেক ভালো আছে হালদার পরিবেশ।

হালদা দেশের একমাত্র নদী, যেখানে কার্প-জাতীয় মা মাছ প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে এসে ডিম ছাড়ে। আবার বিপন্ন প্রজাতির ডলফিন সর্বোচ্চ সংখ্যক আছে এই নদীতে। এই নদীতে চলতি বছরে পর পর তিনটি ডলফিন হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন আদালত। ডলফিন রক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপের কথা প্রশাসনকে তিন দিনের মধ্যে জানাতে বলেন আদালত। এ পরিপ্রেক্ষিতেই গত মাসে নয় পদক্ষেপের কথা লিখিতভাবে আদালতকে জানায় উপজেলা প্রশাসন। হালদাকে পুরোনো রূপে ফেরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও জোরদার করা হয়।

জানতে চাইলে নদী গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, 'গত ২০ বছরের মধ্যে পর পর দু'বার নদীতে এসে এত বেশি সংখ্যক ডিম ছাড়েনি মা মাছেরা। ২০১৫ সালে এভাবে দু'বার জেলেরা ডিম পেলেও পরিমাণ ছিল খুবই কম। এবার প্রথম দফায় ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়ার পর শনিবার দ্বিতীয় দফায় প্রায় দেড়শ' কেজি ডিম পেয়েছেন জেলেরা। আবার ডলফিনরাও খেলা করতে যাচ্ছে এখন। এটা খুবই ভালো লক্ষণ।' হাটহাজারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, 'হালদাকে দূষণমুক্ত করতে বড় দুটি শিল্পকারখানা বন্ধ করার পাশাপাশি গত দেড় বছরে ১১৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি। এক লাখ ১৫ হাজার ঘনফুট বালু, দুই লাখ ২৩ হাজার মিটার ঘেরাজাল ও ৯টি ড্রেজার জব্দ করেছি। আদালতের নির্দেশনার পর নদীতে নৌপুলিশের ক্যাম্প করার চিন্তাভাবনাও চলছে।'

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় থাকা অতি বিপন্ন প্রজাতির ১৭০টি ডলফিন ছিল হালদা নদীতে। এদের মধ্যে এখন বেঁচে আছে ১৪৫টি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ডলফিন হত্যার ঘটনায় এবার প্রথমবারের মতো মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

রাউজানের ইন্দিরাঘাট এলাকায় গত সপ্তাহে বেশকিছু ডলফিনকে খেলা করতে দেখেন স্থানীয়রা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও এ সময় ডলফিনের ছবি মুঠোফোনে ধারণ করেন। অনেক বছর পর এভাবে হালদাতে ডলফিনকে বিচরণ করতে দেখেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)