প্রণোদনা বাস্তবায়নে অনীহা

ব্যাংকের আমানত প্রত্যাহার চায় এফবিসিসিআই

২৮ জুন ২০২০ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

করোনা দুর্যোগ মোকাবিলা করে অর্থনীতিতে গতি আনতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা প্যাকেজের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ প্যাকেজ বাস্তবায়নে কিছু ব্যাংক সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় প্রণোদনা বাস্তবায়ন না করা ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের আমানত তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। একই সঙ্গে যেসব ব্যাংক ভালোভাবে প্রণোদনা বাস্তবায়ন করছে সেখানে সরকারের আমানত আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

সংগঠনটি আরও জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কিছু কর্মকর্তার কারণে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে নেওয়া প্রকল্প কাজে আসেনি। তারা এখনও আবার নতুন নতুন জটিলতার সৃষ্টি করছেন। অতীতের ভ্যাট আইন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এফবিসিসিআইর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। তিনি বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পেতে কোনো ঋণখেলাপির পক্ষে সুপারিশ করা হবে না। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, প্রণোদনা বিষয়ে একটি শ্রেণি বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বাধা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেন। আর যেসব ব্যাংক মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, সেসব ব্যাংকে সরকারি আমানত বাড়ানো প্রয়োজন। যেসব ব্যাংক মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে না, সেসব ব্যাংকের সরকারি আমানত তুলে নেওয়ার সুপারিশ করেন।

তিনি বলেন, ব্যাংকে তারল্য বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে ঈদের আগেই ব্যাংকগুলোতে ৭০ হাজার কোটি টাকা নতুন তারল্য সৃষ্টি হয়েছে। এফবিসিসিআইর সঙ্গে সভায় ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, কোনো তারল্য সংকট নেই। তিনি আরও বলেন, প্রণোদনা বাস্তবায়ন কেবল ব্যবসায়ীদের স্বার্থে নয়, সার্বিকভাবে সমাজের ওপর এর প্রভাব পড়বে। এসএমই খাতের জন্য প্রণোদনার আওতায় বরাদ্দ হওয়া ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে গত দুই মাসে মাত্র ৫০ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে বলে জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

সংগঠনের পক্ষ থেকে সভাপতি অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট আইনে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। যারা ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেয় তাদের ক্ষেত্রে নেতিবাচক তালিকা অনুযায়ী সুবিধা তুলে নেওয়া হয়েছে। যেমন আগাম কর (ভ্যাট) কাঁচামালের রেয়াতি সুবিধা ৪ মাস পর আর পাবে না। কাঁচামালের মজুদ কয়েক মাসের থাকে, কোন কোন ক্ষেত্রে বছরের বিশেষ সময়ে দাম কম থাকার কারণে বেশি কেনা হয় যা সারা বছরে পণ্য উৎপাদন করা হয়। তাছাড়া মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছায় ঢুকে কাগজ রেকর্ড জব্দ করছে। এ ক্ষেত্রে আগে সিনিয়র অফিসারদের ক্লিয়ারেন্স লাগত। ভ্যাট ক্লেইম করলে ১০ শতাংশের স্থানে ২০ শতাংশ জমা দিতে হবে। টেলিকমের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ দিয়ে আরবিট্রেশন করতে হবে। এর ৩০ শতাংশ ক্লেইম করা কর্মকর্তা প্রণোদনা পাবে। এ ধরনের আরও ধারা আছে যেগুলো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ব্যাহত করবে ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে।

ভ্যাট আইনকে ব্যবসাবান্ধব করার চেয়ে তারা এখনও নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়ায় আগ্রহী। এটি নিয়ে নিজেদের অসন্তোষের কথা জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট মানবিক, সামাজিক ও অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর বাজেট মনে করেন এফবিসিসিআই সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি আয়কর ও ভ্যাটের বিভিন প্রস্তাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তির কথা তুলে ধরেন। বাজেট পাসের সময় এসব বিষয়ে সংশোধনের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনলাইনেও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা ও সাংবাদিক যুক্ত হন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)