কবীর সুমনের গান গাওয়া জীবনের পরম প্রাপ্তি: আসিফ

২৪ জুলাই ২০২০ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২০

বিনোদন প্রতিবেদক

আসিফ আকবর। তারকা কণ্ঠশিল্পী। পশ্চিমবঙ্গের নন্দিত গীতিকার, সুরকার ও গায়ক কবীর সুমনের কথা ও সুরে 'সিরিয়ার ছেলে' শিরোনামে একটি গান গাইলেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত হয় এ গান। বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে-

আপনার নতুন গান 'সিরিয়ার ছেলে' নিয়ে বলুন...

আমার ২০ বছরের পেশাদার সংগীত জীবনের অন্যতম একটি গান 'সিরিয়ার ছেলে'। গত ২০ বছরে অনেক গানে কণ্ঠ দিয়েছি, বাংলাদেশ আর ভারতের অনেক সুরকার ও সংগীত পরিচালকের সঙ্গে কাজও করেছি। কিন্তু সেগুলোর চেয়ে কবীর সুমনের কথা ও সুরের এই গানটি একটু অন্যরকম। কবীর সুমন আমার জন্য গান করছেন, আমার কাজের প্রশংসা করেছেন, যা ভীষণ আনন্দ দিয়েছে। আশা করছি আমাদের আরও কাজ হবে।

কবীর সুমনের কথা ও সুরে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা...

আমি কবীর সুমনের গায়কি, লেখার ভক্ত অনেক আগে থেকেই। এই গানটি নিয়ে যখন তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়, তখন তিনি গানটি নিজেই গেয়ে বলে দেন, কীভাবে গাইতে হবে। কীভাবে বাজাতে হবে। এ রকম একজন মানুষের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। সাধারণত আমাদের দেশে এমনটা হয় না। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তার প্রতি আরও ভালো লাগা তৈরি হয়েছে। আমার কাছে অনুভূতির সর্বোচ্চ জায়গা মানবপ্রেম। শ্রদ্ধেয় কবীর সুমন সে রকম একটি অনুভূতির গান লিখলেন আমার জন্য। একটা ভালো গানের অংশীদার হয়েছি। তার মতো বড়মাপের গীতিকার, সুরকারের সঙ্গে কাজ যে কারও জন্য আনন্দের। আমার গায়কি নিয়ে তিনি মুগ্ধতার কথাও জানিয়েছেন। তার মতো গুণী শিল্পীর কাছ থেকে এমন প্রশংসা পেয়ে ভালো লাগছে। তিনি আমায় পছন্দ করেছেন, এটাই অনেক বড় পাওয়া।

গানটি প্রকাশের পর কেমন সাড়া ফেলেছে...

মাত্র দুদিন আগে গানটির লিরিক্যাল ভিডিও প্রকাশ করেছি। এত অল্প সময়ে শ্রোতাদের কাছ থেকে যতটুকু সাড়া পেয়েছি, তাতে ভীষণ খুশি। গানটি সামাজিক মাধ্যমে বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। অনেকেই গানটি শেয়ার করে তাদের মুগ্ধতার কথা জানাচ্ছেন। কবীর সুমনের কথা ও সুরের প্রশংসাও করেছেন।

ক'দিন আগে একটি রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছেন...

রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি ভালোলাগা ছোটবেলা থেকেই। যখন ছোট ছিলাম তখন স্কুলের বার্ষিক প্রতিযোগিতায় 'আলো আমার আলো' গানটি কণ্ঠে তুলেছিলাম। এরপর কেটে গেল অনেক বছর। এবার সাহস করে রবীন্দ্রসংগীত গাইলাম। সংগীতায়োজন করেছেন আহমেদ কিসলু। আমি চেষ্টা করেছি। শ্রোতাদের ভালো লাগলে আয়োজন স্বার্থক হয়ে উঠবে।

অনেকেই বলেন, সংগীতশিল্পীদের মধ্যে ঐক্য নেই। এ নিয়ে আপনার কী অভিমত?

সংগীতশিল্পীদের মধ্যে কখনই ঐক্য ছিল না। শিল্পীরা এখন গানের চেয়ে দলাদলিতে ব্যস্ত। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ কিন্তু গান গাওয়া ও কথা বলা। কথা বলতে বলতে কথার বিষবৃক্ষ বড় হয়ে যায়। তার পরেই ফ্যাসাদ শুরু হয়। যে জন্য সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না গানের মানুষেরা।

আপনি তো তরুণ শিল্পীদের এক করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন...

নিয়েছিলাম, কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারিনি। ছোটবেলা থেকেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলার প্রতি আমার আগ্রহ। কিন্তু আমাদের দেশে সবচেয়ে অসম্ভব কাজ হলো একতাবদ্ধ হয়ে থাকা। সংগীতে আসার পরপরই চেষ্টা করেছি শিল্পীদের মাঝে ঐক্য গড়ে তুলতে। একশ্রেণির তারকাদের মধ্যরাতের গোপন সংলাপের জন্য তা আর হয়ে ওঠেনি। এমনকি ওই শিল্পীদের লেজুড়বৃত্তি করতে গিয়ে যন্ত্রশিল্পীরাও এক হতে পারেনি। এই জেদ থেকে তরুণদের নিয়ে সংগঠন করতে চেয়েছিলাম। নেতৃত্ব তাদের হাতেই ছিল। কাজের কাজ কিছুই হয়নি, মাঝে অনেকটা সময় নষ্ট হলো। আমি আমার মতো ভালো আছি। সংগঠন নিয়ে আর মাথা ঘামাতে চাই না।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)