মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা ঈদে

পানি বাড়ছে ঢাকাসহ ১৫ জেলায়

২৭ জুলাই ২০২০

জয়নাল আবেদীন

যমুনার পানি বাড়ছেই। নদীভাঙনের ঝুঁকিতে চরাঞ্চলের মানুষ। অনেক পরিবারই সহায়-সম্বল বাঁচাতে ঠাঁই নিয়েছে অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে। সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের ঢেকুরিয়া এলাকার রোববারের ছবি ফোকাস বাংলা

ঢাকাসহ ১৫ জেলার নদনদীর পানি প্রতিমুহূর্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঈদের আগে চার দিনে পানি আরও বাড়বে। পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, আত্রাই, ধলেশ্বরীর দু'কূল উপচে প্লাবিত হতে পারে নতুন নতুন এলাকা। এতে ঘরছাড়া মানুষের তালিকাও বড় হতে পারে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসল, বাঁধ ও সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ঈদযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বন্যার পূর্বাভাস বিশ্নেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় ঈদের সময় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঈদের আনন্দের পরিবর্তে বাঁচার লড়াই করতে হচ্ছে বন্যার্তদের।

এরই মধ্যে এক মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হওয়া এবারের বন্যাকে ১৯৮৮ সালের বন্যার সঙ্গে তুলনা করছেন কেউ কেউ। তারা বলেছেন, করোনাভাইরাস দুর্যোগের মধ্যে বন্যায় চরম দুর্দশা সন্নিকটে। সরকার ঢাকা থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ জরুরি সহায়তা পাঠালেও মাঠপর্যায়ে সুষম বণ্টন হচ্ছে না। দুর্গম এলাকার বানভাসিদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার উদ্যোগ যেমন নেই, তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোরও তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে না। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে। বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা মাথায় রেখে দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বলেছে, রোববার পর্যন্ত বন্যাদুর্গত হয়েছে দেশের ৩১টি জেলা। এসব জেলায় আট লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ পরিবারের অন্তত ৫০ লাখ মানুষ পানিবন্দি। বন্যার ছোবল বেশি পড়েছে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও জামালপুরে। এ তিন জেলায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ পরিবারের অন্তত ১৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি। ইউনিসেফের আশঙ্কা, চলতি বন্যায় ১৩ লাখ শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, বন্যাকবলিত ৩১ জেলায় করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। উত্তরের জেলাগুলোতে এই হার কিছুটা কম হলেও সামগ্রিকভাবে দুর্গত জেলাগুলো করোনার প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে বন্যার দুর্যোগ প্রশমনে হিমশিম অবস্থা বিরাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ

কেন্দ্রের পাঁচ ও ১০ দিনের পূর্বাভাসের তথ্য বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, ঈদের আগে-পরে অন্তত ২৫টি পয়েন্টে নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকবে। ১৫টি নদনদীর দু'কূল উপচে ভেসে যেতে পারে বিস্তীর্ণ জনপদ। ওই সময় সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় নেমে আসতে পারে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, লালমনিরহাট, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইলে। ঢাকার চারপাশে টঙ্গী, তুরাগ ও বালু নদীর পানিও বিপৎসীমার অনেক ওপরে থাকবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন সমকালকে বলেন, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও বগুড়ার সারিয়াকান্দির দিকে পরিস্থিতি খারাপ। তবে ঈদের সময় ত্রাণ তৎপরতা যেন ব্যাহত না হয়, এ জন্য সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ত্রাণের যেন ঘাটতি না হয়, সেদিকে নজর রয়েছে। পরিবহন ব্যয় মেটাতে ত্রাণ বিতরণে যে জটিলতা ছিল, তা কেটে গেছে। বানভাসিরা জরুরি সহায়তার পাশাপাশি ঈদের সময়কার ভিজিএফ চালও পাচ্ছেন।

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা সমকালকে বলেন, দুর্গত মানুষের কোনো ঈদ নেই। তাদের কাছে বেঁচে থাকাই বড় বিষয়। গ্রামে করোনার কারণে ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থাপনা বন্ধ রয়েছে। এ সুযোগে বন্যাদুর্গতরা মহাজনের ফাঁদে পড়ছেন। বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গরিব মানুষের সম্পদ রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বানভাসিদের গবাদিপশু, পাট থেকে শুরু করে সব ধরনের ফসল বিক্রির দায়িত্ব সরকারের নেওয়া উচিত ছিল। জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে রোগবালাই হ্রাস করতে হবে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ সালেহ উদ্দিন জানান, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ১১টি ইউনিট মাঠপর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে।



© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)