করোনা সুরক্ষা সামগ্রীর বাণিজ্যিক উৎপাদনে ওয়ালটন

২৯ জুলাই ২০২০

সমকাল :মহামারির এ সময়ে ইলেকট্রনিক্স খাতের পরিস্থিতি কেমন ছিল?

গোলাম মুর্শেদ :করোনার কারণে বিশ্ববাজারের মতো স্থবিরতা দেশেও বিরাজমান। এপ্রিল ও মে মাসে দেশে কারও ব্যবসা ভালো যায়নি। তবে জুন ও জুলাইয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কিছুটা গতি এসেছে। তবুও তা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে অর্ধেক। বছরে যে পরিমাণ ইলেকট্রনিক্স পণ্য বেচাকেনা হয়, এর ৬০ শতাংশ হয় ঈদুল আজহার সময়। করোনার কারণে এবার আগের মতো বিক্রি হবে না। তবে ঈদের কারণে এখন নতুন গতি এসেছে। এ কারণে ওয়ালটন আশা করছে, এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বেশি বিক্রির। করোনাকালীন সময়ে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) নিয়ে অনেকের মাঝে ভ্রান্ত ধারণা ছিল। এসির কারণে করোনা সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ নেই। এ ভুল ধারণা কাটতে শুরু করায় বিক্রি এখন বাড়ছে।

সমকাল :মন্দায় আপনাদের ব্যবসা

কেমন যাচ্ছে?

গোলাম মুর্শেদ :আমরা কেউই করোনার প্রভাবমুক্ত নই। পরিস্থিতি বিবেচনায় এরপরও ওয়ালটনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বেশ ভালো চলছে। গত এপ্রিল-মের তুলনায় জুন-জুলাইয়ে তিনগুণ বিক্রি বেড়েছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করোনায় বহু জটিলতার মধ্যেও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ঠিক রাখা হয়েছে। ঈদুল আজহাকে লক্ষ্য রেখে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন পণ্য বাজারে আনা হচ্ছে।

সমকাল :ঈদ বাজারে বেচাকেনা কেমন হচ্ছে?

গোলাম মুর্শেদ :ফ্রিজ ও টেলিভিশনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী যথেষ্ট সরবরাহ করা হচ্ছে। বিক্রির হারে আমরা সন্তুষ্ট। যদিও এখন ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজার প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও ওয়ালটন শীর্ষস্থানের পাশাপাশি বাজার হিস্যা ধরে রেখেছে। গত বছর ঈদুল আজহায় ওয়ালটন ব্র্যান্ডের ১০ লাখ ফ্রিজ বিক্রি হয়েছে। এবার তা ছয় লাখ হবে বলে আশা করছি। টিভি ও অন্যান্য পণ্য বাজারের অংশও ধরে রাখা সম্ভব হবে।

সমকাল :ঈদে ফ্রিজের নতুন মডেল এসেছে? নতুন প্রযুক্তির ফ্রিজ নিয়ে কী কাজ চলছে আপনাদের।

গোলাম মুর্শেদ :ঈদ উপলক্ষে বেশ কিছু নতুন মডেলের রেফ্রিজারেটর এবং ফ্রিজার এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন নকশার গ্লাস ডোর ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তির ডিজিটাল ডিসপ্লে ফ্রিজ। সাশ্রয়ী মূল্যের এ ফ্রিজ বিএসটিআইর 'ফাইভ স্টার'এনার্জি রেটিং পেয়েছে। ডিইসিএস টেকনোলজি, থ্যালেট মুক্ত গ্যাসকেট, শতভাগ কপার কনডেনসার ও ওয়াইড ভোল্টেজ ডিজাইনে ওয়ালটনের ফ্রিজ তৈরি হয়। এ ব্র্যান্ডের ফ্রিজে ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া ইনভার্টার প্রযুক্তির ৫৬৩ লিটারের সাইড বাই সাইড গ্লাস ডোরের নন-ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটর ক্রেতাদের ভালো সাড়া মিলেছে। সম্প্রতি কুল প্যাকসহ ডিপ ফ্রিজ বাজারে আনা হয়েছে। দেশে প্রথম এ প্রযুক্তির ফ্রিজার বাজারে এনেছে ওয়ালটন। মূলত ঈদ উপলক্ষে করোনা দুর্যোগের মধ্যেও এতে বিশেষ ফিচার যুক্ত করেছে ওয়ালটন। এ ছাড়া শিগগির আনা হচ্ছে আইওটি বেজড স্মার্ট রেফ্রিজারেটর। এ স্মার্ট ফ্রিজ বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

সমকাল :পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিকল্প কোনো বিনিয়োগ পরিকল্পনা কি রয়েছে? আগামীর পরিকল্পনা জানতে চাই।

গোলাম মুর্শেদ :ওয়ালটন এতদিন সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ভেন্টিলেটর, ফেস শিল্ড, গগলস তৈরি করে বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। সব মিলিয়ে প্রায় এক লাস পিস দেওয়া হয়েছে। এখন এগুলোর বাণিজ্যিক উৎপাদন চলছে। চাহিদার ওপর এ খাতে বিনিয়োগের বিষয়টি নির্ভর করবে।

ওয়ালটন গ্রুপের পণ্য তালিকা এখন বেশ দীর্ঘ। সেগুলোর উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। এর মধ্যে উচ্চ প্রযুক্তির নতুন সিরিজের কম্প্রেসর উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। তবে নতুন কোনো খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেই।

সমকাল :এখন রপ্তানি কেমন হচ্ছে?

গোলাম মুর্শেদ :করোনায় বিদেশে পণ্য সরবরাহ থেমে গেলেও সব ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ আছে। চলতি মাসে তুরস্কে কম্প্রেসর রপ্তানি মাধ্যমে আবার তা শুরু হয়েছে। চলতি বছরে আরও কয়েক দেশে রপ্তানি হবে। জার্মানিতে যাবে টেলিভিশন। সেপ্টেম্বরে কিছু দেশে ফ্রিজ রপ্তানির বিষয়ে আলোচনা চলছে। নতুন বিশ্ব বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামীতে রপ্তানির নতুন গন্তব্যও খোঁজা হবে। এ জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে পণ্য ডেভেলপ করা হচ্ছে।

সমকাল :সংকট মোকাবিলায় ইলেকট্রনিক্স খাতের উন্নয়নে সরকারের করণীয় কী?

গোলাম মুর্শেদ :স্থানীয় চাহিদা মেটাতে দেশি কোম্পানিগুলো অনেক সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন ইলেকট্রনিক্স পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সরকারের সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। করোনার কারণে এ খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। তাই বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা গেলে ইলেকট্রনিক্স খাতের সম্ভাবনা বাড়বে। রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য খাতের মতো সুবিধা দিতে হবে।

সমকাল :করোনায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং বিক্রি বাড়াতে আপনাদের উদ্যোগগুলো কী কী?

গোলাম মুর্শেদ :উৎপাদন থেকে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কারখানায় কর্মীদের সব ধরনের সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। কর্মপরিবেশ আরও নিরাপদ করা হয়েছে। শোরুমগুলোতেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে করোনাকালে বিক্রি বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে করোনায় মেয়াদ শেষ হওয়া ওয়ারেন্টির সময় বাড়ানো হচ্ছে। ছাড় ও অফার আগের মতো চালু রয়েছে। ই-প্লাজায় কেনাকাটায় ১০ শতাংশ ছাড় রয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতাদের আস্থা বাড়াতে নিয়মিত পণ্য ডেভেলপ করা হচ্ছে।

সমকাল :ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারবাজারে আসছে। এ বিষয়ে জানতে চাই।

গোলাম মুর্শেদ :শেয়ারবাজারে আসার প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। কারণ ওয়ালটনের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ও নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) খুবই ভালো। এ ছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কাট-অব প্রাইসে বাড়তি ১০ শতাংশসহ ২০ শতাংশ কম দর ধরে প্রতিটি শেয়ার ২৫২ টাকায় ইস্যু করা হবে। এটি শেয়ারবাজারের সার্বিক উন্নয়নে ওয়ালটনের সদিচ্ছার প্রমাণ।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)