ঢাকায় 'নির্ধারিত দরেই' চামড়া বিক্রি হতে দেখেছে ভোক্তা অধিদপ্তর

০১ আগস্ট ২০২০ | আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

এ বছরও চামড়ার ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না উল্লেখ করে বিক্রেতারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ দিলেও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকার নির্ধারিত দরেই চামড়া বিক্রি হতে দেখেছেন।

এ ছাড়া ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিরাও মাঠে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য ট্যানারি মালিকদের কোনো প্রতিনিধিকে সরাসরি চামড়া কিনতে না দেখার কথা জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও।

বিক্রেতাদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা উপ সচিব সেলিম হোসেন সমকালকে জানান, বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ভোলা, যশোর, গাজীপুর, কুমিল্লা, রংপুর, চাঁদপুর, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের নানা জেলা থেকে কন্ট্রোল রুমে ফোন করে কোরবানির পশুর চামড়ার বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তারা চামড়া বিক্রির জন্য সকাল থেকে অপেক্ষা করছেন, কিন্তু কোনো ক্রেতা আসছে না। স্থানীয় পর্যায়ের ক্রেতাদের কেউ কেউ এলেও দাম বলছেন খুবই কম।

সেলিম হোসেন বলেন, এ অবস্থায় চামড়া বিক্রেতাদের লবণ দিয়ে তা সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছি। একটি চামড়ায় ৪-৫ কেজি লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হলে তা এক মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে। অন্যথায় তা ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পরে ক্রেতারা এলে ভালো দামে বিক্রি করা যাবে। কিন্তু লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করার কাজটি অনেকেই করছেন না।

চামড়া ব্যবসায়ী বা ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিদের মাঠে না থাকার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, তারা হয়তো চামড়া কিনছেন, কিন্তু একবারে সব এলাকায় যেতে পারবেন না- এটাই স্বাভাবিক। তারপরও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মাসুম আরেফিন ও বিকাশ চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে বাজার তদারকির একটি দল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে চামড়ার কেনাবেচা পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করছেন। মাসুম আরেফিন সমকালকে জানান, বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তারা দেখেছেন, সরকার নির্ধারিত দরেই চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত দরেই লবণ দেওয়া ছাড়া কাঁচা চামড়া কেনাবেচা হতে দেখেছি। এ বিষয়ে বিক্রেতাদের কাছ থেকে খুব একটা অভিযোগ পাইনি। তবে ট্যানারি মালিকদের কাউকে সরাসরি চামড়া কিনতে দেখিনি। মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরাই মূলত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চামড়া কিনছেন।

সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রেতাদের চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ এখনও পাইনি। এতিমখানা বা মাদ্রাসাগুলো বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোরবানিদাতাদের কাছ থেকে দান হিসেবে চামড়া সংগ্রহ করে। যেহেতু এ চামড়ায় তাদের বিনিয়োগ নেই, সে কারণে তারা কম মূল্যে বিক্রি করে থাকতে পারে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)