করোনা: নতুন স্বাভাবিকতায় করণীয়

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ চলমান রয়েছে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ

সাক্ষাৎকার

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

করোনা মহামারির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। তিনি বলেন, উদ্যোগের অংশ হিসেবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় ১১ মে পর্যন্ত এক লাখ ৯৬ হাজার মানুষকে ত্রাণ হিসেবে খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তিন কোটি টাকা, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ থেকে ২৩ কোটি ৪৭ লাখসহ সর্বমোট ২৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত অনুদান এবং ৫৬ হাজার নিবন্ধিত স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অনুদানেও ত্রাণকার্য পরিচালনা করা হচ্ছে। গতকাল রোববার সমকালকে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজ মন্ত্রণালয়ের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তৃণমূলে বয়স্ক, বিধবা ও অসচ্ছল প্রতিবন্ধী এবং দুস্থ নারী-পুরুষদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার আওতায় ৮০ লাখ ৯ হাজার উপকারভোগীর মধ্যে ভাতা বিতরণ চলমান। মন্ত্রী বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত  লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। সুতরাং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর উন্নয়নে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

করোনাকালে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতায় ভাতা দেওয়ার চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তৃতীয় কিস্তির নিয়মিত ভাতা বিতরণ এবং এপ্রিল-জুন পর্যন্ত চতুর্থ কিস্তির অগ্রিম ভাতা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির ভাতা বিতরণ প্রায় ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং ঈদুল ফিতরের আগেই সব ভাতা বিতরণের কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে প্রায় ১১ লাখ ভাতাভোগী অনলাইনের মাধ্যমে ভাতা পাচ্ছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সব ভাতাভোগীকে এ পদ্ধতির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিস্থিতির কারণে সুদমুক্ত ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঋণ আদায় স্থগিত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্তিসাপেক্ষে অতিরিক্ত ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে অতিরিক্ত এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য অর্থ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে চলমান সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ৮৩ হাজার জন এবং সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ আদায়ের হার গড়ে ৯০ শতাংশ।

সামাজিক পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুসুরক্ষা কার্যক্রমের অধীনে ৮৫টি সরকারি শিশু প, ছয়টি এও প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, তিনটি নারীদের আর্থ-সামাপ্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ছয়টি ছোটমণি নিবাস, একটি ডেকেয়ার সেন্টার, ১৩টি শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং তিনটি দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র আছে। মোট উপকারভোগী রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১৭ হাজার ও তিন হাজার ৯২০টি বেসরকারি এতিমখানায় সাড়ে ৯৭ হাজার শিশু। ৭৯টি প্রতিবন্ধীবিষয়ক প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার ৫৮৭ নিবাসীর স্কুল বন্ধ থাকায় টিভি ও অনলাইনভিত্তিক পাঠদান নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া করোনা মহামারির বিরূপ প্রভাব থেকে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে রক্ষার অংশ হিসেবে ১১২ উপজেলায় শতভাগ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মন্ত্রী অন্যান্য উদ্যোগ সম্পর্কে জানান, ওপরের উদ্যোগের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার আওতায় ৮০ লাখ ৯ হাজার উপকারভোগীর মধ্যে ভাতা বিতরণের কাজ চলছে। এর মধ্যে বয়স্কভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগী ৪৪ লাখ, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারী ভাতা কর্মসূচিতে ১৭ লাখ, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচিতে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচিতে এক লাখ, হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে পাঁচ হাজার ৭৬৭, বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে ১০ হাজার, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৭১ হাজার জন, চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে উপকারভোগী ৫০ হাজার জন এবং ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, জন্মগত হৃদরোগী, প্যারালাইজড, থ্যালাসেমিয়া রোগীদেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, কভিড-১৯ শুরুর পর গত ৫ এপ্রিল ১০০ উপজেলায় শতভাগ ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি বলেন, বয়স্কভাতা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারীদের জন্য ভাতা কর্মসূচি দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় শতভাগে উন্নীত করবে সরকার। দারিদ্র্যের মানচিত্র অনুযায়ী নির্বাচিত ১১২ উপজেলার শতভাগ বয়স্ক মানুষ, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারীরা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। সিলেটের গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ উপজেলা হিসেবে শতভাগ ভাতার আওতায় এসেছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)