ফাস্ট ট্র্যাকে গতি কম

করোনার প্রভাবে অগ্রাধিকার প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যাহত

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

আবু হেনা মুহিব

অগ্রাধিকার প্রকল্পের অগ্রগতি থামিয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাস। গত মার্চে দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। কিন্তু এর আগে থেকেই ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত বা অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কিছুটা শ্নথ হয়ে পড়ে। এসব প্রকল্পের ঠিকাদার, পরামর্শক, প্রকৌশলীসহ শীর্ষ পর্যায়ের সংশ্নিষ্টরা অধিকাংশ বিদেশি। তারা বিশেষ করে চীন, জাপান এবং রাশিয়ার নাগরিক। তাদের অনেকেই নিজ দেশে আটকা পড়েন। বড়দিনের ছুটি কাটাতে দেশে যাওয়া বেশিরভাগ চীনা নাগরিক লকডাউনের কারণে বাংলাদেশে আসতে পারেননি। বিশেষ বিমানে জাপানসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকরা ঢাকা ছাড়েন। সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রীর বড় অংশ আসে চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে। বিভিন্ন দেশে লকডাউনের কারণে এসব সামগ্রী আটকা পড়ে। লকডাউনের কারণে সাধারণ ছুটির মধ্যে স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কাজ করতে পারেননি। করোনার এই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রভাবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ গত ডিসেম্বর থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত গড়ে ৩০ শতাংশ কম হয়েছে। এতে প্রকল্পগুলোর নির্মাণ ব্যয় বাড়ছে। বাড়ছে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ। বিশ্নেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়। বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার ফলে নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি হবে না। তারা মনে করেন, কভিডের মধ্যেও অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সমকালকে বলেছেন, দ্বিগুণ গতিতে কাজ করে সময়মতোই এসব প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। করোনাকালের ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া হবে- জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, সংশ্নিষ্টদের নিয়ে এ ব্যাপারে বৈঠক হয়েছে। রাতদিন কাজ করে সময়মতো কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তারা কাজ করছে।

করোনায় পদ্মা সেতুর কাজ ব্যাহত হয়েছে: করোনায় পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম হয়েছে। করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যু লক্ষণীয় হারে কমে এলেও এখনও পুরোদমে কাজ শুরু হয়নি। এ কারণে নির্ধারিত ২০২১ সালের মধ্যে কাজ শেষ হবে না। অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন, পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে ২০২২ সালে। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্মাণকাজ এগিয়েছে ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ। জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, করোনার কারণে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম হয়েছে। এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন করে কাজের পরিকল্পনা করা হবে। যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বহু কাঙ্ক্ষিত এই সেতু জনগণের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে তিনি নিজেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। নিজস্ব অর্থায়নেই সেতুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সমকালকে জানান, বৈশ্বিক কভিডের কঠিনকালেও ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকল্প এলাকার মধ্যেই কোয়ারেন্টাইন অবস্থা বজায় রেখে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল। বিদেশি যে প্রকৌশলী, পরামর্শকরা করোনার মধ্যে বাংলাদেশে আসতে পারেননি, তাদের কাজটাও অনলাইনের মাধ্যমে আদায় করে নেওয়া যেত। ওয়েব ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো প্রকল্পই কম্পিউটারের মনিটরে এনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া কোনো কঠিন কাজ ছিল না। সময়মতো সেই ভাবনাটি না থাকায় করোনায় সব প্রকল্পের নির্মাণকাজই ব্যাহত হয়েছে। এতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় বাড়ল। যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত সময়ে সেই সেবা থেকেও বঞ্চিত হলো জনগণ।

সূত্র বলছে, করোনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ায় অর্থসংকট তৈরি হয়। সরকারি ব্যয়ে মিতব্যয়িতার কৌশল নেওয়া হয়। তবে অগ্রাধিকার প্রকল্পের অগ্রাধিকার অব্যাহত রেখেছে সরকার। করোনায় অর্থ সংকটের কারণে প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে ব্যাপারে বাজেটে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প সংশোধনীতে (আরএডিপি) ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। নতুন অর্থবছরেও উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্তত ৫০০ প্রকল্পের বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যেও অগ্রাধিকার প্রকল্পে চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। অগ্রাধিকার প্রকল্পের বাস্তবায়ন তদারক ও সমন্বয় করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। আগে থেকেই এই দায়িত্বে থাকা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ আইএমইডি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে বাস্তবায়ন অগ্রগতি দেখভাল করছে।

মেট্রোরেল প্রকল্প: পদ্মা সেতুর মতোই স্বপ্নের প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয় মেট্রোরেলকে। করোনায় প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয় সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণার দিন গত ২৬ মার্চ। জানা যায়, সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশি শ্রমিকরা কাজ করতে আগ্রহী হলেও বিদেশিরা সাহস করেননি। বরং বিশেষ বিমানে ঢাকা ত্যাগ করেন এই প্রকল্পের সংশ্নিষ্ট অনেক জাপানি নাগরিক। এখনও প্রকল্পটির কাজ বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়েছে ৫১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এই প্রকল্প সম্পর্কে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, জাপানি কারিগরি সহায়তার এই প্রকল্পটি নিয়ে মানুষের মনে অনেক আগ্রহ। সময়মতো প্রকল্পটির নির্মাণ শেষ হলে সবার মধ্যে এক ধরনের আস্থা সৃষ্টি হতো। করোনার সময় জাপানিরা নিজ দেশে ফিরে গেছেন ভালো কথা। কিন্তু ইন্টারনেটের এই যুগে তাদের সেবা এবং পরামর্শ নেওয়াটা কঠিন কাজ ছিল না। তাহলে কাজ থমকে যেত না। প্রকল্পের আশপাশে যে জনভোগান্তি হচ্ছে, সেটাও দ্রুততম সময়ে কমে আসত। এই প্রকল্পটির ব্যাপারে আইএমইডির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, রাস্তার ওপর মেট্রোরেলের কাজ ও নিরাপত্তার জন্য যে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে, তাতে নির্মাণাধীন এলাকাগুলোতে ট্রাফিক অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া নির্মাণকালে সড়কে যে ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত মেরামত করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে। বাস্তবে এই অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এসব বিষয়ে জানতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও প্রকল্প পরিচালক কোনো কথা বলতে চাননি। এ পর্যন্ত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। মোট প্রকল্প ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ আগামী ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: সূত্র জানায়, করোনার মধ্যে স্বাভাবিক উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হলেও বিশেষ ও মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির কিছু কার্যক্রম চালিয়ে রাখা হয়েছে। প্রকল্পটির বিভিন্ন পর্যায়ে রাশিয়াসহ আট দেশের দুই হাজার বিদেশি কাজ করেন। এর মধ্যে বেলারুশের কয়েকজন কর্মীর মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ ধরা পড়লে মোট ১৭৭ বিদেশিকে ভাড়া করা বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। অন্যদের প্রকল্প এলাকার মধ্যেই একটি মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। কিছু সতর্কতা মেনে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাই পর্যন্ত সার্বিক অগ্রগতি ২৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। আগামী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে কাজ শুরু হয় দেশের প্রথম পারমাণবিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের। অর্থ ব্যয়ের বিবেচনায় এই প্রকল্পটি দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রকল্পটি সম্পর্কে আইএমইডির মন্তব্য, এটি বাস্তবায়নে সমন্ব্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: সূত্র জানায়, করোনায় প্রকল্পটির কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। গত জুলাই মাস পর্যন্ত নির্মাণ অগ্রগতি ৫৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। জুলাই পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে আট হাজার ৭২২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। গত জুনে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে এর কাজ শুরু হয়। আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমি অধিগ্রহণ, বাউন্ডারি ওয়াল, ভূমি উন্নয়ন ও অফিস কাম আবাসিক ভবনের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। তবে সার্বিক অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।

আলোচিত এসব প্রকল্প ছাড়াও ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত অন্যান্য প্রকল্পের অগ্রগতিও করোনায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের মোট অগ্রগতি ৫০ শতাংশেরও কম। প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত জাতীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে এসব প্রকল্পে যে ধরনের গতি থাকা প্রয়োজন, কার্যত তা ব্যাহত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে বাস্তবসম্মত সময়ভিত্তিক একটি কর্মপরিকল্পনার সুপারিশ করেছে আইএমইডি। এ ছাড়া সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হয়েছে। অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল ও গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ।

আর্থসামাজিক উন্নয়ন, বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পদ্মা সেতুসহ মেগা ১০ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ নজর দিতে ফাস্ট ট্র্যাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সূত্র জানিয়েছে, গুরুত্বের বিবেচনায় আরও নতুন প্রকল্প ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)