রিজেন্ট চুক্তি: সাহেদ ও স্বাস্থ্যের ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০ । ২১:২২

সমকাল প্রতিবেদক

সাহেদ করিম -ফাইল ছবি

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিতে স্বাক্ষর করা ও স্বাস্থ্য খাতের অরাজকতায় চাপের মুখে পদত্যাগ করা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের নাম আসামির তালিকায় নেই।

বুধবার দুদক উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি করেন।

এজাহারে করোনা রোগীর নমুনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে ও সংশ্নিষ্ট ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের খাবার খরচ বাবদ ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারের ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৬ হাজার পাঁচশ' টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করার সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বিতর্কিত হয়েছেন সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদ।

দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্‌ত বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রমাণযোগ্য দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদেরকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদকে কেন আসামি করা হয়নি- এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, অনুসন্ধান কর্মকর্তা যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ পেয়েছেন তাদের আসামি করা হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, মামলা তদন্তে যদি আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাদেরকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জানা যায়, রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি অনুসন্ধান করছিলেন দুদক উপপরিচালক মো. আবুবকর সিদ্দিক। তিনি করোনা চিকিৎসায় রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির নথি সংগ্রহ করতে তাগিদ দিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরে গিয়েছিলেন। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলে তাকে এই অনুসন্ধান থেকে সরিয়ে দিয়ে দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সাহেদসহ অন্যদেরকে জিজ্ঞাসাবাদও করেন। পরে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে। এই অনুসন্ধানে দুদকের আরও এক কর্মকর্তা কাজ করেছেন। এই সময়ে অনুসন্ধান তদারক করেছেন পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যাহ। এরপর করেনা চিকিৎসায় রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরকারী সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদের নাম বাদ দিয়ে মামলা করা হলো।

অন্য আসামিরা হলেন উপ-পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা: মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. শফিউর রহমান ও গবেষণা কর্মকর্তা ডা. মো. দিদারুল ইসলাম।

এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক সম্পাদন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করিয়েছেন। অথচ প্রতি রোগীর কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা অবৈধভাবে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বিষয়ে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরে সমঝোতা স্মারক সংশোধনের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। পরে ওই পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিররোধ আইন-১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

এছাড়াও সাহেদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা আত্মসাত, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, আয়কর ফাঁকি, ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংক ঋণ নিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত, অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। রিজেন্ট হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনার নামে জালিয়াতি করে এনআরবি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দেড় কোটি টাকা ও ফারমার্স ব্যাংক থেকে ১ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা করা হয়েছে। দুর্নীতির অন্যান্য অভিযোগে আরও মামলা করা হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com