বগুড়ায় শিশু ধর্ষণকারীকে সহায়তার অভিযোগে স্বাস্থ্যকর্মী সাসপেন্ড

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০ । ২২:৩২

বগুড়া ব্যুরো ও শেরপুর প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

বগুড়ার শেরপুরে ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী শিশুকে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়া এবং অভিযুক্তকে সহায়তায় জড়িত অভিযোগে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ সার্ভিস প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) হিসেবে কর্মরত সেই মনিরুজ্জামান ওরফে প্লাবনকে অবশেষে সাসপেন্ড করা হয়েছে।  শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. আব্দুল জানান, মনিরুজ্জামান প্লাবনের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদফতরের কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ারের (সিবিএইচসি) প্রধান কার্যালয়ের লাইন ডাইরেক্টর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি বুধবার হাতে পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান প্লাবন জানিয়েছেন, তাকে বৃহস্পতিবার সাসপেন্ডের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আলোচিত ওই ঘটনায় গত ২২ সেপ্টেম্বর সমকালে ‘শিশু ধর্ষণে অভিযুক্তকে সহায়তাকারী স্বাস্থ্যকর্মী, কারাগারে থেকেও সাসপেন্ড হলেন না, বেতনও পেলেন’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হলে স্বাস্থ্য প্রশাসনের টনক নড়ে। আর পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের দহপাড়া গ্রামে ঈমান আলী (৩৬) নামে এক ব্যক্তি গত ৫ আগস্ট বিকেলে বাকপ্রতিবন্ধী ১৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই শিশুর বাবা রক্তাক্ত মেয়েটিকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে চাইলে খানপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপি হিসেবে কর্মরত মনিরুজ্জামান প্লাবনসহ তার সহযোগীরা ঈমান আলীর পক্ষ নিয়ে তাতে বাধা দেন। এমনকি তারা বিষয়টি আপসের জন্য চাপও দেন। পরদিন পুলিশ ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলায় স্বাস্থ্যকর্মী মনিরুজ্জামান প্লাবন ও তার দুই ভাইকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে ঈমান আলীও আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সরকারি কোন কর্মচারী গ্রেফতার কিংবা কারাগারে গেলে তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিধান থাকলেও মনিরুজ্জামান প্লাবনের ব্যাপারে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ নীরব ভূমিকা পালন করে। এমনকি ১৮দিন কারাভোগ শেষে ২৪ আগস্ট জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর কারাবাসের দিনগুলোকে ‘কর্তব্য পালন’ হিসেবে ধরে নিয়ে তাকে পুরো আগস্ট মাসের বেতনও দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মনিরুজ্জামান প্লাবন এবং শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদের একই ইউনিয়নের পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দা। যে কারণে সবকিছু অবহিত হয়েও ডা. আব্দুল কাদের মনিরুজ্জামান প্লাবনকে অনৈতিক সুবিধা দেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com