নারী ফুটবলারদের প্রেরণা শেখ হাসিনা

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

আব্দুস সালাম মুর্শেদী

একজন প্রধানমন্ত্রী যখন রাষ্ট্রের শত ব্যস্ততার মধ্যেও ভালো কোনো ফুটবল খেলার আয়োজন হলে মাঠে ছুটে আসেন, তখন বুঝতে হয়, সত্যিই তিনি ফুটবলপ্রেমী। সেই টুর্নামেন্ট যদি মেয়েদের হয় তবে তো কোনো কথাই নেই, খেলা উপভোগ করার জন্য তারিখ পরিবর্তন করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। মেয়েদের বিজয় হলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। তিনি আর কেউ নন, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ইতিহাসের নির্মাতা আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। যিনি উন্নত সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার রূপকার। বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার এক বিশ্বস্ত ঠিকানা, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্নসারথি।

৭৪তম জন্মদিনে প্রধামন্ত্রীকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা দিয়ে ফুটবল ও ক্রীড়াঙ্গনে তার কিছু স্মৃতির কথা তুলে ধরছি।

ক্রীড়াবিশ্বে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আপন মহিমায় জায়গা করে নিয়েছে। এ সবই সম্ভব হয়েছে একজন ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর কারণে। পৃথিবী নামক এ গ্রহে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত এবং সদস্য ছাড়া দেশের সংখ্যা ২০৮-এর বেশি। কয়েকটি দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ দেশের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে মাঠে গিয়ে হাজির হন। স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ক্রীড়াবান্ধব, তা তিনি বহুবার প্রমাণ করেছেন। ফুটবলের টানে অনেকবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ছুটে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ফাইনালে ম্যাচে শেষ মিনিটের গোলে বাংলাদেশ ৩-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়। ওই ম্যাচে ৬৫ মিনিটে মাঠে উপস্থিত হয়ে হাইভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্রিকেটারদের যেমন গণভবনে ডেকেছেন, রানার্সআপ বাংলাদেশ ফুটবল দলকে গণভবনে ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

গত বছর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ৪৩তম গ্রীষ্ফ্মকালীন জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না। সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করে দেশের জনগণ সামনে এগিয়ে যাবেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা একদিন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে।

কীভাবে খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করতে হয় তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে ভালো অন্য কেউ জানেন কিনা সন্দেহ? ২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় গেমসে বাংলাদেশ দল যাতে ভালো ফল করতে পারে, তার জন্য খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে এগিয়ে এসেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বহরের তিনশর ওপরে খেলোয়াড়-কর্মকর্তার সঙ্গে কথাও বলেছেন।

খেলাধুলায় উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে পুরোনো স্টেডিয়ামের সংস্কারের পাশাপাশি নিত্যনতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ করা অপরিহার্য। ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিকেও রেখেছেন তীক্ষষ্ট দৃষ্টি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর রাজধানীতে আরেকটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। ওই সময় কয়েকজন মন্ত্রী পূর্বাচলে স্টেডিয়াম না করে মিরপুর স্টেডিয়ামকে আধুনিক করার পরামর্শ দেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্বাচল প্রকল্প এলাকায় স্টেডিয়ামের জায়গা রাখা হয়েছে। সেখানে বাসের পাশাপাশি ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী বলেই আমার মতো ক্ষুদ্র এই সালাম মুর্শেদীসহ অনেককেই আজ জাতীয় সংসদে স্থান করে দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন অনেকেই।

আমার মনে হয়, প্রধানমন্ত্রী কারও কাছে মায়ের ভূমিকায় এবং কারও কাছে বড় বোনের ভূমিকায় অবতীর্ণ। খেলোয়াড়, সংগঠক, ব্যবসায়ী ও সংসদ সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনেক মধুর স্মৃতি রয়েছে আমার। যে কোনো বিষয়ে আমি বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। তিনি আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো আদেশ-উপদেশ দিয়ে থাকেন, যা আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়া পথ প্রসারিত করছে।

আমার কাছে একটি বিষয় আজও স্বপ্নের মতো মনে হয়- ২০১৮ সালের শেষ দিকে রাজধানীতে ব্যাংকার অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। আমি সেখানে এমন জায়গায় বসেছি অতিথিরা প্রবেশ করলেই আমার সঙ্গে দেখা হয়। প্রধানমন্ত্রী আসবেন শুনে দাঁড়িয়ে তাকে সালাম দিই। ঠিক সেই সময় বড় বোনের মতো আমার হাত ধরে হেঁটে চলেন এবং বলেন, সালাম তুমি নির্বাচন করবা? আমি বললাম, আপা আপনি চাইলে আমি নির্বাচন করব। তখনই তার সিদ্ধান্তে আমার রাজনীতিতে আসা। প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের এ বিষয়টি আজও আমার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়। তার হাত ধরেই আমি আজ সংসদ সদস্য।

খেলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে একটি কথা না বললেই নয়- কোটি টাকার মোহামেডান-আবাহনী সুপারকাপ ম্যাচ চলছিল। কানায় কানায় গ্যালারিভরা দর্শক। আমরা ভাবতে পারিনি প্রধানমন্ত্রী আসবেন। প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ করে খেলা দেখতে এলেন। দু'পক্ষের খেলায় মাঠে দর্শকদের উত্তেজনা। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বললেন, মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমি খুবই খুশি হয়েছি। তিনি নিজে থেকেই সবাইকে প্রাইজমানি দিয়েছেন। আরেকটা স্মৃতি মনে আছে, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফাইনাল খেলা। সেখানে বিভাগ বিভাগ খেলা চলছিল। খুলনা বিভাগ মানেই তো আমার। তখন মেয়েদের বিভাগে খুলনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীকে তখন বললাম, আপা আমি তো খুলনার মানুষ। প্রধানমন্ত্রী তখন বললেন, সালাম তোমার খুলনা জিতেছে। বঙ্গমাতা ও বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ খেলার এ খেলোয়াড়দের ধরে রেখো।

মেয়েদের খেলা দেখে খুবই খুশি হন প্রধানমন্ত্রী। শুধু এটুকুই বলেন, তোদের মেয়েদের ফুটবলের অনেক উন্নতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মাঠে গিয়ে মেয়েদের খেলা দেখেন। বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টের সময় আমি প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকতাম। সেখানেই মেয়েদের খেলা নিয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা বলতেন তিনি। তখন আমাদের বলতেন, মেয়েরা তো ভালো খেলছে, এই মেয়েদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়াবা। আসলে প্রধানমন্ত্রী ফুটবলকে অনেক ভালোবাসেন। যখনই দেখা হয় ফুটবল নিয়ে ভালো-মন্দ কথা জিজ্ঞাসা করেন। ফুটবলের খবর নিয়মিত রাখেন। ফুটবলকে তিনি কতটা ভালোবাসেন তার প্রমাণ আমি পেলাম স্বাধীনতার ৪৯ বছরের মধ্যে এই প্রথম বাজেটে ফুটবলকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে।

যদি বড় কোনো টুর্নামেন্ট হয় কিংবা ফাইনাল খেলা হয়, তখন আমরা বিভিন্ন পরামর্শের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছুটে গেলে তিনি তারিখ জানতে চান। যখন দেখেন রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা বেশি, সময় আগ-পিছ করলে তিনি নিজে মাঠে যেতে পারবেন, তখন সেই পরামর্শ আমাদের দিয়ে থাকেন।

আসলেই তিনি দেশের সাফল্যটা দেখতে ভালোবাসেন। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ছেলেরা হারছে এটা দেখে তিনি কষ্ট পেয়েছেন। মেয়েরা যখন বিভিন্ন টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তখন তিনি অনেক খুশি হন।

তার জন্মদিনে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও আমার নির্বাচনী এলাকা রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়ার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা। যার হাত ধরে উন্নয়নের এক উচ্চশিখরে আজ বাংলাদেশ তিনি সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন এ প্রত্যাশা করছি। আবারও বলছি, শুভ জন্মদিন প্রধানমন্ত্রী আপনাকে।

সংসদ সদস্য ও সিনিয়র সহসভাপতি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)