জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়ান

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

সমকাল ডেস্ক

এফ-২০ ও কিং খালেদ ফাউন্ডেশন আয়োজিত সেমিনারে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- পিআইডি

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অভিযোজন তহবিল গঠনে জোরালো বৈশ্বিক সমর্থন কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, 'আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জি২০ দেশগুলোর কাছ থেকে বিপর্যস্ত দেশগুলোর জন্য আমরা বলিষ্ঠ সমর্থন চাই।' এফ২০ ক্লাইমেট সলিউশন উইক উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সম্মেলনে গতকাল মঙ্গলবার প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গত সোমবার থেকে এ সম্মেলন শুরু হয়। খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৃহত্তর পরিসরে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য সবাই মিলে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ ও সবুজায়ন কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন এফ২০ ও কিং খালিদ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ক্লাইমেট উইক নামে এ সম্মেলনের আয়োজক। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য 'রিসাইলেন্স অ্যান্ড রিকভারি :হাইলাইটিং সলিউশন ফর দি জি২০ অন ক্লাইমেট অ্যান্ড সাসটেইনবিলিটি'।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বকভাবে বাস্তুচ্যুত করা নিরীহ মানুষকে আমরা কীভাবে সামাল দিতে পারব, তা নির্ভর করছে সবার শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের কারণে প্রকৃতি ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এই বাস্তবতা বাংলাদেশের চেয়ে আর কেউ ভালো জানে না।

শেখ হাসিনা বলেন, বাস্তুচ্যুত অথবা জলবায়ু শরণার্থী ইস্যুতে বৈশ্বিক সমর্থন প্রদানে জি২০-কে বৃহত্তর দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এ প্রসঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিনটি বিষয় উল্লেখ করেন তিনি। এগুলো হলো- প্রথমত, ২০৩০ সালের এজেন্ডা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করা মৌলিক বিষয়। কারণ, উভয়ের একে অপরের সঙ্গে সিবিওটিক বা মিথোজীবী সম্পর্ক আছে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী এবং সবুজায়ন কৌশল গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আমাদের বৃহত্তর সহযোগিতা প্রয়োজন। জি২০ দেশগুলোর এখানে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে। তৃতীয়ত, দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং অংশীদারিত্ব বোধ থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থার পুনঃস্থাপন করতে হবে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) এবং স্বল্পোন্নত দেশ তহবিলের (এলডিসিএফ) মতো বৈশ্বিক অর্থায়ন তহবিলে মারাত্মক সম্পদ ঘাটতি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, জলবায়ু এবং টেকসই পরিবেশ হলো পারস্পরিক নির্ভরশীল বিষয়। বিশ্ব পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ, বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ, বিশ্বের জনসংখ্যার দু-তৃতীয়াংশ এবং বিশ্বের মোট আয়তনের প্রায় অর্ধেকই হচ্ছে জি২০ অর্থনীতিভুক্ত। ফলে বৈশ্বিক জলবায়ু এবং টেকসই পরিবেশের যে কোনো ভালো ফলাফলের জন্য জি২০-এর মধ্য দিয়ে যেতে হবে। জি২০ এর আগে দেখিয়েছে, যৌথভাবে তারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের সুবিধার জন্য অনেক উপকারী পদক্ষেপ নিতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনকে আন্তঃসীমান্ত বিরূপ প্রভাবসংবলিত একটি বৈশ্বিক সমস্যা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। টেকসই পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনো জায়গায় টেকসই পরিবেশ ভণ্ডুল হলে সব জায়গার টেকসই চিত্র পুরোপুরি বিঘ্নিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তন অস্তিত্বের জন্যই হুমকি এবং এর পরিণতি নিকট ও দূর ভবিষ্যতে আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সূচনাই হয়েছে মানব কর্মকাণ্ডের ফলে টেকসই পরিবেশ নষ্ট করার জন্য। এর ফলে মানুষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্যা, বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহ, ভূমিধস এবং খরার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেন, এ কারণে একটি সম্মিলিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ এ সময়ের জন্য খুবই জরুরি এবং জি২০-এর সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া আমাদের শিশু ও ভবিষ্যৎকে সুরক্ষা দেওয়া যাবে না। এ কারণেই প্যারিস চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে অর্থনীতিতে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে তাদের উৎপাদন ও ভোগের পুনর্নির্ধারণ করতে সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করি।





© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)