জিকিউ বলপেনের দর দুই মাসে ৪ গুণ

১৭ সেপ্টেম্বর ২০ । ০০:০০

সমকাল প্রতিবেদক

একসময়ের ইকোনো নামের জনপ্রিয় বলপয়েন্ট কলম উৎপাদন ও বাজারজাতকারী কোম্পানি জিকিউ বলপেন তিন প্রান্তিক ধরে লোকসানে। এর পরও গত দু'মাসে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির শেয়ারদর প্রায় চারগুণ হয়েছে। এমন অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির নেপথ্যে কারসাজির প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাই করতে গতকাল বুধবার দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কমিটি এ সময়ে শেয়ার কেনাবেচার তথ্য এবং সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির সঙ্গে কোম্পানি-সংশ্নিষ্টদের সম্পৃক্ততা কিংবা কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের যোগসূত্র থাকার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে। কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান সিডিবিএলের কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম।

জিকিউ বলপেনের সাম্প্রতিক শেয়ার লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ৭ জুলাই এটি ফ্লোর প্রাইস ৬৬ টাকা ১০ পয়সায় কেনাবেচা হয়। এরপর অনেকটা ঝড়ের গতিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২৫৩ টাকা ছাড়িয়ে যায়। গত দু'দিনে অবশ্য শেয়ারদর কিছুটা কমে ডিএসইতে সর্বশেষ ২৪০ টাকা ৯০ পয়সা দরে কেনাবেচা হয়।

সংশ্নিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এ শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির ধারা খতিয়ে দেখতে গিয়ে ৯ বিও অ্যাকাউন্টের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন কর্মকর্তারা। অ্যাকাউন্ট ৯টি হলেও এগুলো তিন ব্যক্তির বলে মনে করছেন তারা। শুধু নামের ক্ষেত্রে পেশার অংশ শুরুতে যুক্ত করে বা নামের বানান বদলে পৃথক বিও অ্যাকাউন্ট খুলেছেন তারা। সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির সময়ে এসব অ্যাকাউন্টে আট লাখ শেয়ার কেনা হয়েছে, যা কোম্পানিটির মোট শেয়ারের প্রায় ১০ শতাংশ। তবে এ পরিমাণ শেয়ার কোম্পানিটির সচরাচর লেনদেনযোগ্য বা ফ্রি-ফ্লোট শেয়ারের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ। তদন্তের স্বার্থে এখন এসব ব্যক্তির নাম প্রকাশ করতে চান না কর্মকর্তারা।

তালিকাভুক্ত স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর অন্যতম জিকিউ বলপেনের মোট শেয়ার ৮৯ লাখ ২৮ হাজার ৯১টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ৪১ দশমিক ৮৮ শতাংশ বা ৩৭ লাখ ৩৯ হাজার ৮৫টি। বাকি শেয়ারের ৫৬ দশমিক ৬০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। অন্যদিকে কোম্পানিটির ৮৯ লাখ ২৮ হাজার শেয়ারের মধ্যে ২২ লাখ বা ২৫ শতাংশ শেয়ারের কোনো দাবিদার নেই। এসব শেয়ার জিকিউ বলপেন সাসপেন্ড অ্যাকাউন্ট নামে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। মালিকবিহীন বলে এসব শেয়ারের কোনো লেনদেনও হয় না।

উদ্যোক্তা-পরিচালক ও সাসপেন্ড অ্যাকাউন্টের বাইরে থাকা ৩২ লাখেরও কম শেয়ারের মধ্যে এ তিন ব্যক্তি পৃথক ৯ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আট লাখ কিনে নিয়েছেন। আরও বেশি দাম পাওয়ায় আসায় এসব ব্যক্তি শেয়ার বিক্রি করছেন না। ফলে শেয়ারের সরবরাহ সংকট দেখা দিলে দাম বাড়তে থাকে তরতর করে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com