ফ্যাশনে ঘড়ি

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

তৌহিদুল ইসলাম তুষার

সময় দেখানোই ছিল একসময় ঘড়ির কাজ। এখনও আছে। তবে পকেটের স্মার্টফোনই এখন মেটাচ্ছে সেই প্রয়োজন। ঘড়ি কিন্তু এখন আর শুধুই সময় দেখার জন্য নয়। এটি বর্তমানে স্টাইল ও ব্যক্তিত্বের নিদর্শন। ভালো মানের ঘড়ি আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করতে পারে। সময় দেখার পাশাপাশি ঘড়ি এখন ফ্যাশনের উপকরণ। আবিস্কারের পর থেকে বার বার রূপ বদলেছে ঘড়ির। সেই চেইনসহ পকেটঘড়ি থেকে হাতঘড়ি, টেবিলঘড়ি, দেয়ালঘড়ি থেকে হালের ফ্যাশন এখন স্মার্টওয়াচ। এক সময় আভিজাত্যের প্রতীক ঘড়ি এখন নিতান্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

স্মার্ট ফ্যাশনে চাই স্টাইলিশ হাতঘড়ি। সময় ঠিক থাক আর না থাক স্টাইলিশ ফ্যাশনের জন্য হাতে ঘড়ি থাকা চাই-ই চাই। বসুন্ধরা সিটিতে ঘড়ি কিনতে এসেছেন তামান্না। তিনি একটি আইটি ফার্মে চাকরি করছেন। তিনি বলেন, ঘড়ির দোকানগুলোতে এসেছে অনেক নতুন নতুন ডিজাইন। আরও এক বছর আগে যে ঘড়িগুলো আধুনিক ছিল, এখন তা সেকেলে। সেসব ঘড়ি এখনও দোকানে মিলছে। তাই একটু দেখেশুনে ঘড়ি কিনতে হবে। তবে এবার কিনেছি স্মার্টঘড়ি। অবশেষে নিয়েছি স্যামসাংয়ের স্মার্টওয়াচ। পিংক রঙের ঘড়িটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমন সময়ের সঙ্গীও বটে। বর্তমানে তরুণদের পছন্দের তুঙ্গে রয়েছে মোটা চেইন ডায়ালের ঘড়ি। কিশোরেরা বরাবরই স্পোর্টস ঘরানার ঘড়ি বেশি পছন্দ করে। কেউ আবার পছন্দের তারকার অনুকরণে ঘড়ি কিনে থাকে। হাতের সঙ্গে মানানসই ঘড়িই সব সময় পরতে হবে, ব্যাপারটা ঠিক তেমন নয়। চিকন হাতেও খুব ভারী ঘড়ি বা বেল্টের ঘড়ি স্থান করে নিতে পারে। চাকরিজীবীদের জন্য ঘড়িটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অফিসিয়াল পোশাকে সাজের পূর্ণতা আনতে পছন্দের একটি ঘড়ি থাকা চাই-ই চাই। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের চেহারা, সাজ, দৈহিক গঠনকে প্রাধান্য দেওয়া চাই। সবকিছুর মধ্যে আবার বাছাই করা ব্র্যান্ড নিয়েও চলে সহকর্মীদের ভেতর নীরব প্রতিযোগিতা।

তবে বেশকিছু ঘড়ি রয়েছে, যা আভিজাত্য ও ফ্যাশন আইকন বলে বিবেচিত, যার মধ্যে অন্যতম ফেভার লুইবা। সুইজারল্যান্ডের ঘড়ি নির্মাতা আব্র াহাম ফেভার এটি প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে আব্র াহাম ফেভার ও তার দুই ছেলে ফ্রেডারিক ও হেনরি লুইস ১৭৯২-এ নতুন নাম করেন এ ফেভার অ্যান্ড ফিলস। সেই থেকে তারা মূল কোম্পানির অধীনে ফেভার লুইবা নামে ঘড়ি বাজারজাত করে আসছেন। ঘড়ি শিল্পে আব্র াহাম ফেভার ও তার দুই সন্তানের অবদান অসীম। প্রথম থেকেই তারা ঘড়ির সৌন্দর্য ও নিখুঁত সময় দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। বলা হয়, তাদের হাতেই ঘড়ি নিখুঁত রূপ পায়। ডিজাইনের বৈচিত্র্য, টেকসই আর ঐতিহ্য নিয়ে ফেভার লুইবা ঘড়ি আজ ঘড়িপ্রেমীদের স্বপ্ন। রোলেক্স এসএ আজ সারা বিশ্বে পরিচিত লাক্সারি সুইস ঘড়ি নির্মাতা হিসেবে। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাস্থল কিন্তু লন্ডন, ইংল্যান্ড। রোলেক্স প্রতিদিন ২ হাজার ঘড়ি উৎপাদন করে।



বর্তমানে রোলেক্স সারা বিশ্বে স্ট্যাটাস সিম্বল বলে বিবেচিত। সুইস ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাডো, যার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের লেংগুনাউয়ে। বলা হয়, ঘড়িতে ক্র্যাচপ্রুফ ধাতু ব্যবহারের পথপ্রদর্শক রাডো। প্রতিবছর কোম্পানিটি ৫ লাখের বেশি ঘড়ি উৎপাদন করে থাকে। গুণগত মান নিশ্চিত করেই রাডো আজ ফ্যাশন দুনিয়ায় ঘড়ির অন্যতম আইকন। এত দামি ঘড়ির ভিড়ে এবার জায়গা করে নিয়েছে স্মার্টওয়াচ। ঘড়ি দেখার পাশাপাশি আরও বেশকিছু কাজ চালিয়ে নেওয়া যায় এই ঘড়ির মাধ্যমে। যার মধ্যে রয়েছে, ফোনকল বা মেসেজ আদানপ্রদান, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন সেবা। তাই দিন দিন চাহিদা বাড়ছে এ স্মার্টঘড়িগুলোর। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাই প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব দিচ্ছে হাল ফ্যাশনের দিকটিও। অ্যাপল তাই প্রতি বছরই তাদের ওয়াচে আনছে পরিবর্তন।

হুয়াওয়ে ছেলেদের এবং মেয়েদের জন্য নিয়ে এসেছে আলাদা আলাদা ডিজাইন স্মার্টওয়াচ।

এখনকার হাতঘড়ির বাজারগুলোতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রায় সব হাতঘড়িই পাওয়া যায়। ঘড়ির দাম নির্ভর করে ব্র্যান্ডের ওপর। বাজারে যেসব ব্র্যান্ডের ঘড়ি মেলে তার মধ্যে রয়েছে টাইটান, ফাস্টট্র্যাক, ওমেগা, ওরিয়েন্ট, রোমার, টিসোট, ইয়ার্ডো, প্যারিলাইনার, ট্যাগহয়ার, রোমানসন, ওয়েস্টার, সিটিজেন। ব্র্যান্ডের ঘড়ি ছাড়াও চীন থেকে আমদানি করা নন-ব্র্যান্ড কালারফুল সিলিকন, চেইন ও কাপড়ের বেল্টে তৈরি বিভিন্ন ঘড়ি পাওয়া যায়, যার মধ্যে রয়েছে নেভিফোর্স, কুরিন, স্কেমি, ববোবার্ডসসহ অনেক ধরনের ঘড়ি। এছাড়া মিলবে স্যামসাং, হুয়াওয়ে, অ্যাপল, অনার, জিব্যালেজ, অ্যামেজফিটসহ চায়না বেশকিছু ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচ। এসব ঘড়ি বা স্মার্টওয়াচ মিলবে রাজধানীর নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন মার্কেটে। এ ছাড়া পাবেন ইভ্যালি, দারাজ, আজকের ডিল, প্রিয়শপ, বাগডুম, সহজসহ দেশের সেরা ই-কমার্স সাইটগুলোতে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)