তহমিনাকে আর সন্তান বিক্রি করতে হলো না

০১ অক্টোবর ২০২০

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

তহমিনার সন্তানের জন্য এগিয়ে আসেন অনেকে- সমকাল

অন্তঃসত্ত্বা তহমিনা খাতুনকে ফেলে চলে গেছে স্বামী। নিরুপায় হয়ে বাবার বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার আড়পাড়ায় এসে থাকা শুরু করেন তিনি; সঙ্গে ৬ বছর বয়সী মেয়ে।

এদিকে তহমিনার অসুস্থ বাবা আব্দুল মালেকও চার বছর ধরে শয্যাশায়ী। বৃদ্ধ মা শিশুদের কাপড় নিয়ে গ্রাম গ্রাম ঘুরে বিক্রি করেন। এভাবে তিনি যা রোজগার করেন তা দিয়েই অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটে তাদের। 

এমন অভাবের সংসারে গর্ভের সন্তানের জন্মের জন্য তহমিনার সিজার করা জরুরি হয়ে পড়ে। কিন্তু কাছে একটি টাকাও নেই। বাধ্য হয়ে টাকার জন্য শ্বশুরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন তহমিনা। টাকা দেওয়া দূরে থাক, উল্টো তহমিনার গর্ভের সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। উপায়ান্তর না পেয়ে এতে রাজি হয়ে যান তহমিনা। কিন্তু গর্ভের সন্তান বলে কথা। বুকের ধনকে টাকার জন্য আরেকজনকে দিয়ে দিতে হবে- মেনে নিতে না পেরে কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান তিনি। 

এগিয়ে আসেন স্থানীয় সাংবাদিকরা; আশ্বাস দেন ব্যয়ভার বহনের। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তহমিনার যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত সোমবার কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারের মাধ্যমে পুত্রসন্তান জন্ম দেন তিনি। এতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের স্থানীয় সংগঠন 'ফারিয়া' ওষুধ দিয়ে সহযোগিতা করছে। এগিয়ে এসেছেন চিকিৎসকরাও।

তহমিনা জানান, ৯ বছর আগে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পাঠামারা গ্রামের রবিউল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার গর্ভের সন্তানের বয়স দুই মাস হলে স্বামী অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করে তাকে ফেলে চলে যায়। তহমিনার মা আম্বিয়া বেগম এই দুঃসময়ে পাশে এসে দাঁড়ানোয় স্থানীয় সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।

কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হোসেন বলেন, আমরা যা করেছি তা সমাজের একজন মানুষ হিসেবে মানুষের জন্য।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. এমএ কাফি জানান, সিজারের পর মা ও শিশু দু'জনই ভালো আছেন।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)