তাৎক্ষণিক মন্তব্য

বিবেকই যেন বিবস্ত্র হয়েছে

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০ । ০০:০০ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০ । ১৬:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

নাছিমা বেগম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একজন অসহায় নারীর ওপর যে দুর্বৃত্তরা হামলে পড়েছিল, তাদের পশুর সঙ্গে তুলনা করলেও যেন পশুরই অমর্যাদা হয়। এই অঘটনের নিন্দা জানানোর উপযুক্ত ভাষা আমার জানা নেই। এর সঙ্গে জড়িতরা যে রক্ত-মাংসে অপরাধী, তা বোঝা যায় অপরাধ সংঘটনের ধরন দেখে। তারা কেবল ওই নারীকে বীভৎস নির্যাতন ও সল্ফ্ভ্রমহানিই করেনি, এর ভিডিওচিত্র ধারণ করেছে। এমনিতেই শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ওই নারীকে পরবর্তী এক মাসের বেশি সময় ধরে ওই ভিডিওচিত্র অনলাইনে ছাড়ার  হুমকি দিয়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে গেছে। তাদের ভয়ে নির্যাতিত নারী নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপন করেছে; কিন্তু তারা হায়েনার মতো পিছু ছাড়েনি। শেষ পর্যন্ত কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভিডিওটি অনলাইনে ছেড়ে দিয়েছে। কতটা জঘন্য মানসিকতার হলে তারা এই কাজ করতে পারে?

বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ঘটনাটি এক মাস আগের হলেও স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন টের পেল না এবং কেউ কেউ টের পেলেও কেন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করল না, এ প্রশ্নও এখন বড় হয়ে উঠেছে। রোববার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পরপরই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে একজন পরিচালকের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। তারা সরেজমিনে গিয়ে নির্যাতিত নারীসহ সবার সঙ্গে কথা বলবেন এবং প্রয়োজনীয় সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ ঘটনায় আমার মনে হয়- শুধু একজন নারী নয়, আমাদের বিবেকই যেন বিবস্ত্র হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই- এই নরাধমদের ক্ষমা নেই। তারা বিন্দুমাত্র অনুকম্পা পাওয়ার যোগ্য নয়। আমরা জানি, ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে নির্যাতিত নারী যদি প্রাণ না হারান, তাহলে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন। কিন্তু এক্ষেত্রে অপরাধীরা সমাজ ও সভ্যতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘনের যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, তাদের একমাত্র শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড। সভ্য সমাজের আলো-বাতাসে তাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই।

বিষয়টি নিয়ে তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যেও আমি খানিকটা আশাবাদী যে, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিকমাধ্যমে সবাই এর বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিসহ অভিযুক্ত ও তাদের মদদদাতা কয়েকজন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু সমাজ থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল করতে হলে দল-মত-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এই নরঘাতকদের এখনই থামাতে হবে, যে কোনো মূল্যে। সরকার, প্রশাসন, অধিকার কর্মী, জনসাধারণ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে আমাদের সমাজকে নিরাপদ করা অবশ্যই সম্ভব। এর বিকল্পও নেই, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাচ্ছে।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com