শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানির অনুমতি দিল ভারত

বিকল্প দেশের প্রচুর পেঁয়াজ আসবে চলতি সপ্তাহে

১২ অক্টোবর ২০২০ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২০

মিরাজ শামস

গত মাসে হঠাৎ করেই সব ধরনের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এর পর থেকেই দেশের বাজারে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। গত শুক্রবার নতুন করে চেন্নাই সমুদ্রবন্দর দিয়ে নেওয়ারসহ বিভিন্ন শর্ত দিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে ভারত। এই রপ্তানি অনুমতি পাওয়া পেঁয়াজের পরিমাণ মাত্র ২০ হাজার টন। শর্তসাপেক্ষে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ায় এর সুবিধা বাংলাদেশ পাবে না বলে জানান আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, এ পেঁয়াজ সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কায় রপ্তানি হবে। এতদিন ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে স্থলবন্দর দিয়ে। সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানি কখনও হয়নি। গত বছর ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পরে শর্তসাপেক্ষে এমন রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। তখনও বাংলাদেশে পেঁয়াজ আসেনি। তবে বিকল্প দেশ থেকে এবার আমদানি করা পেঁয়াজ চলতি সপ্তাহে দেশে আসবে।

গত ৯ অক্টোবর ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার এক আদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সংশোধন করে এই আদেশ জারি করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সব ধরনের পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। এর পরে এই প্রথম রপ্তানির অনুমতি দিল দেশটি। আদেশে বলা হয়, এবার দেশটির ব্যবসায়ীরা বেঙ্গালুরু রোজ ও কৃষ্ণপুরাম এই দুই জাতের পেঁয়াজ ১০ হাজার টন করে রপ্তানি করতে পারবেন। রপ্তানির ক্ষেত্রে পাঁচটি শর্ত দেওয়া হয়েছে, এসব পেঁয়াজ রপ্তানি করা যাবে প্রতি জাতের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টন এবং জাহাজীকরণ হবে কেবল ভারতের চেন্নাই সমুদ্রবন্দর দিয়ে। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে। এ পেঁয়াজ রপ্তানিতে সনদ দেবেন বেঙ্গালুরু কর্ণাটক হর্টিকালচার কমিশনার ও কৃষ্ণপুরাম হর্টিকালচারের সহকারী পরিচালক। এই পেঁয়াজ রপ্তানি তদারকি করবে দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড।

এমন শর্তের কারণে ভারতীয় পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন আমদানিকারকরা। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মোবারক হোসেন সমকালকে বলেন, চেন্নাই বন্দর দিয়ে রপ্তানির শর্ত দেওয়া হয়েছে। ওই বন্দর দিয়ে মূলত সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কায় পেঁয়াজ রপ্তানি হয়। এখন রপ্তানির অনুমতি দেওয়া পেঁয়াজের সুবিধা বাংলাদেশের কোনো কাজে আসবে না। কারণ দেশের স্থলবন্দর দিয়েই ভারত থেকে সব সময় পেঁয়াজ আমদানি হয়। তা ছাড়া দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার গত শুক্রবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি হবে না বলে ভারতের রপ্তানিকারকরা তাদের জানিয়েছেন। রাজধানীর শ্যামবাজারের পেঁয়াজ আমদনিকারক মো. মাজেদ সমকালকে বলেন, ভারত থেকে শর্তসাপেক্ষে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতির সুবিধা পাবে না বাংলাদেশ। কারণ চেন্নাই বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানির ব্যয় অনেক বেশি। দেশটি থেকে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানির কোনো অনুমতি দেয়নি।

এদিকে আমদানি পেঁয়াজের সরবরাহ তেমন বৃদ্ধি না পাওয়ায় পেঁয়াজের দাম তেমন কমেনি। এখনও দেশের বাজারে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্য। গতকাল রাজধানীর বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্যেও একই দর রয়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে আরও ১০ টাকা বেড়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পরে বিকল্প দেশ থেকে আমদানি শুরু হয়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজ মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে আসতে শুরু করেছে। তবে চীন, তুরস্ক, নেদারল্যান্ডসসহ অন্যান্য দেশের পেঁয়াজ চলতি সপ্তাহের মধ্যে দেশে আসবে বলে জানান শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী হাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, বিকল্প দেশের পেঁয়াজ আমদানি হলে বাজারে দাম কমবে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, এবার ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিলেও গত বছরের মতো খারাপ পরিস্থিতি হয়নি। কারণ, পর্যাপ্ত দেশি পেঁয়াজ মজুদ ছিল। এতে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ ছিল। এখন আমদানি পেঁয়াজ এলে আর ঘাটতি হবে না। তা ছাড়া আগামী মাসের শেষ দিকে আগাম দেশি পেঁয়াজ ওঠা শুরু হবে। ফলে ভারত পেঁয়াজ না দিলেও দেশের বাজারে দাম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)