সাক্ষাৎকারে গোলাম রহমান

অপরাধীকে প্রথমবারেই কঠোর শাস্তি দিতে হবে

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০ । ০০:০০ | আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০ । ০৪:০৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিরাজ শামস

গোলাম রহমান, সভাপতি, ক্যাব

নকল পণ্য নীরব ঘাতক। নকল পণ্য মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বড় অঙ্কের রাজস্ব। এ বাস্তবতায় সমকালের উদ্যোগে চলছে 'নকল পণ্য কিনবো না, নকল পণ্য বেচবো না' শিরোনামে প্রচারাভিযান। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এই প্রচারাভিযানের অন্যতম সহযোগী। নকল পণ্য প্রতিরোধে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিরাজ শামস


সমকাল: দীর্ঘদিন ধরে পণ্য নকল হচ্ছে। প্রতিরোধে কিছু উদ্যোগও আছে। এরপরও নকল পণ্য বন্ধ হয় না কেন? করণীয় কী?

গোলাম রহমান: এটা ঠিক, বিভিন্ন পণ্য বহুদিন ধরে নকল হয়ে আসছে। একশ্রেণির ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে নকল ও ভেজাল পণ্য তৈরি করছেন। এর ফলে ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নকল পণ্যের কারণে মানুষের জীবনও বিপন্ন হতে পারে। এই উদ্বেগ আমলে নেন না এসব ব্যবসায়ী। অন্যদিকে নকল পণ্য বন্ধে ক্রেতারাও তেমন সচেতন নয়। ক্রেতাদের অনেকেই পণ্যের মানের দিকে নজর দেন না। মানের চেয়ে দামকে বেশি গুরুত্ব দেন। কম দামে পেলে তারা মনে করেন, লাভ করতে পেরেছেন। আবার নকল পণ্য যারা উৎপাদন ও বাজারজাত করেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কঠোর নয়। প্রতিরোধমূলক আইনগত ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। কম শাস্তির কারণে এর সঙ্গে জড়িতরা একই অপরাধ বারবার করেন। এ কারণে এ অপরাধে ধরা পড়লে প্রথমবারেই কঠোর শাস্তি দিতে হবে। একই অপরাধ বারবার করলে শাস্তির মাত্রাও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মনিটরিং আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নকল পণ্য রোধে সব পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

সমকাল: সমকালের উদ্যোগে নকলবিরোধী যৌথ প্রচারাভিযান চলছে। এ ধরনের আরও কী কী কার্যক্রম নেওয়া যেতে পারে?

গোলাম রহমান: নকল প্রতিরোধে সমকাল মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে।

গণমাধ্যম সমাজ বিবর্তনের জন্য শক্তিশালী মাধ্যম। সমকালের এ উদ্যোগের মতো অন্যান্য গণমাধ্যম ও সংস্থা যৌথভাবে এমন কাজ করতে পারে। সমকাল ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সবাই এভাবে এগিয়ে এলে নকলবিরোধী বিভিন্ন উদ্যোগ একসময় সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে।

সমকাল: বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ অনেক সংস্থা নকলবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রম সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী? আরও কী কী কাজ করা উচিত বলে মনে করেন?

গোলাম রহমান: খাদ্যপণ্যে নকল ও ভেজাল রোধে নিরাপদ খাদ্য আইন করা হয়েছে। এ আইনের আওতায় গঠন করা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) নানা পণ্যের মান সুরক্ষায় কাজ করছে। নির্দিষ্ট কিছু পণ্য বিএসটিআইর বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় আছে। এর বাইরে হাজার হাজার পণ্য রয়েছে। বিএসটিআইর কার্যপরিধি, সক্ষমতা, পণ্য পরীক্ষাগারসহ কর্যক্রম আরও অনেক বাড়ানো প্রয়োজন। খাদ্যপণ্যের বিষয়ে অনেক সংস্থা আছে, যাদের সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করা উচিত। ওষুধ প্রশাসনের তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও র‌্যাবসহ অন্যান্য সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও জোরদার ভূমিকা রাখতে হবে। বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করতে হবে। বিচার দৃষ্টান্তমূলক হওয়া উচিত।

সমকাল: সারাদেশের ভোক্তা বা ক্রেতাদের স্বার্থে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরছে ক্যাব। নকল বন্ধে ক্যাব আগামী দিনে আরও কী কী করবে?

গোলাম রহমান: ক্যাব সবসময় নকল ও ভেজালের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রমে প্রধান কার্যালয় থেকে উপজেলা পর্যন্ত ক্যাব যুক্ত হচ্ছে। ভোক্তা বা ক্রেতাদের পক্ষে সব সময় জোরালো দাবি তুলে ধরে ক্যাব। নকল ও ভেজালের দৌরাত্ম্য যাতে কমে, তার জন্য এই চেষ্টা করছে ক্যাব। আগামী দিনে এই কাজ আরও জোরালোভাবে চলবে।

সমকাল: নকল বন্ধে যেসব আইন ও বিধিমালা আছে, তা কি যথেষ্ট? আইন সংশোধনের বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই?

গোলাম রহমান: আইনের কিছু বিষয় সংশোধন হতে পারে। সংশোধনের পাশাপাশি আইনের কঠোর বাস্তবায়নে জোর দেওয়া দরকার। নকল প্যারাসিটামল ওষুধ সেবনে অনেক শিশু মারা যাওয়ার নজির আছে। কিন্তু তাদের কঠোর শাস্তি হয়নি। এসব বিষয়ে বিচার প্রক্রিয়া জোরদার করা দরকার। বিচার দ্রুত হতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধীকে এমন শাস্তি দিতে হবে, যা উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। শাস্তির ভয়ে যাতে অপরাধ করার সাহস না পায়। বিদ্যমান আইনের ফাঁক বা দুর্বলতা দূর করতে হবে।

সমকাল: নকল রোধে ভোক্তাদের কী কী করণীয়? বিক্রেতাদের করণীয় সম্পর্কে আপনার পরামর্শ কী?

গোলাম রহমান: জেনেশুনে ভোক্তাকে পণ্য কিনতে হবে। গুণগত বিষয় নিশ্চিত হয়ে পণ্য নিতে হবে। আকর্ষণীয় মূল্যে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। মানসম্মত পণ্য দেখে যৌক্তিক দামে কিনতে হবে। এখন নকল রোধে বিভিন্ন কোম্পানি পণ্যের মোড়কে বারকোড ও কিউআর কোড ব্যবহার করছে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে পণ্য কিনে নকল রোধে উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেন ক্রেতারা। আর বিক্রেতাদের দায়িত্ব নিয়ে পণ্য বিক্রি করতে হবে। নকল পণ্যের অনৈতিক ব্যবসা করবেন না- এমন মানসিকতা নিয়ে তাদের ব্যবসা করা উচিত। তাদের নকল পণ্য বর্জন করার মানসিকতা নিয়ে ব্যবসা করতে হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com