মার্শাল ‘ল’ জারি করতে পারেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০ । ১৫:৩৭ | আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০ । ১৬:০১

লস্কর আল মামুন, লস অ্যাঞ্জেলেস (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি

ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্শাল ‘ল’ জারি করে মার্কিন মসনদ আঁকড়ে ধরে রাখার শেষ চেষ্টা করছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শেষ মুহূর্তে ক্ষমতায় টিকে থাকতে যেকোন কিছু করতে পারেন ট্রাম্প। একদিকে যেমন সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করছেন একের পর এক, অন্যদিকে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার বেপরোয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন এখনও।

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্প নিজ বেয়াইসহ মোট ৪১ জন অপরাধীদের সাধারণ ক্ষমা করে তাদের দণ্ড মওকুফ করেছেন। মওকুফের তালিকায় ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বাবা চার্লস কুশনারসহ প্রায় সকলেই তার নিজের লোক। প্রেসিডেন্টের এ ধরনের নিজস্ব লোকদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই পুরো বিশ্বেই নজিরবিহীন। 

নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে জনমনে ততই বাড়ছে শঙ্কা।  

নির্বাচনে পরাজয় না মানা ট্রাম্প ক্ষমতার শেষ প্রান্তে এসে ক্ষমতায় বহাল থাকতে কোন পথে হাঁটছেন এ প্রশ্ন এখন সবার। শেষ পর্যন্ত সামরিক আইন জারি করতে পারেন এমন আশঙ্কাও করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ আশঙ্কাকে আরও  বিশ্বাসযাগ্য করেছে সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লেনের বক্তব্য। 

নিউজ ম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্লিন বলেছেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন। ভোটিং মেশিন বাজেয়াপ্ত করে ঝুলন্ত অঙ্গরাজ্যেগুলি সামরিক বাহিনীর ক্ষমতায় নিয়ে অর্থাৎ মার্শাল ল দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও নির্বাচন করতে পারেন। মাইকেল ফ্লিনের সামরিক আইন জারির পরামর্শের প্রতিবাদ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল লরেন্স উইলকারসনসহ অনেক সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা। এর প্রতিবাদে এমএসএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল মেম্বার অবসরপ্রাপ্ত ফোর স্টার জেনারেল ব্যারি ম্যাক ক্যাফ্রে বলেন, সামরিক বাহিনীকে বেআইনি কোন নির্দেশ দেওয়া হলে তা তারা মানবে না। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ১৫ জনকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন সাবেক আইনপ্রণেতা। 

দুইজন ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একজন তার নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক সহকারী। নিজের দীর্ঘ তালিকা থেকে অপরাধ ও দণ্ড থেকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, সবদিক খোলা রাখছেন ট্রাম্প। ভোটের ফলাফল পাল্টে দিয়ে ক্ষমতায় আরও চার বছরের জন্য থেকে যাওয়ার কথাও ট্রাম্প চালু রাখছেন জোরালোভাবে। বুধবার একযোগে আরও ২৬ জনকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। 

সাধারণত এসব সাধারণ ক্ষমার তালিকা বিচার বিভাগের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রাম্প কতজনকে ক্ষমা করেন, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই। এমনকি নিজের জন্যও তিনি ক্ষমাপত্রে স্বাক্ষর করতে পারেন বলে একসময় বলেছেন। শেষ মুহূর্তে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের কাছে ক্ষমতা দিয়ে ট্রাম্প নিজের জন্য সাধারণ ক্ষমা গ্রহণ করতে পরেন, এমন কথাও বলা হচ্ছে।

২০ জানুয়ারির আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টি এখন ৬ জানুয়ারির দিকে। ইলেক্টোরাল কলেজ থেকে প্রাপ্ত ভোট কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে গ্রহণ করার সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে এদিনটিতে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে এসব সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতায় কখনও বড় ধরনের অঘটন ঘটেনি। এবারের পরিস্থিতি ট্রাম্পের কারণে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের যৌথ সভায় পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com