উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা

টিএসসি ভাঙলে সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট হবে

১৬ জানুয়ারি ২০২১

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

শুক্রবার টিএসসি চত্বরে 'ইতিহাস-ঐতিহ্যের পাঁজর ভেঙে টিএসসির উন্নয়ন চাই না' শীর্ষক আলোচনা সভা আয়োজন করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমকাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভেঙে ২০ তলা ভবন নির্মাণ নিঃসন্দেহে এর মূল অবকাঠামো নষ্ট ও জনপরিসরকে ধ্বংস করবে। মূল কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সর্বোচ্চ চারতলা ভবন এখানে নির্মাণ করা যেতে পারে। গতকাল শুক্রবার ঢাবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন।

বিকেলে টিএসসি চত্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ইতিহাস ঐতিহ্যের পাঁজর ভেঙে টিএসসির উন্নয়ন চাই না' শীর্ষক এ

আলোচনার আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- ঢাবির বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার, শিশু ও শিক্ষারক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক রাখাল রাহা, সাবেক ছাত্রনেতা ও গল্পকার মাহমুদুল হক আরিফ, ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেক্টস ডেভেলপমেন্টের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল রাজি, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ঢাকা মহানগর ইনচার্জ সুস্মিতা রায় সুপ্তি ও ডাকসু আন্দোলনকারী ওয়ালিদ আশরাফ।

আলোচনায় উপস্থিত না থাকলেও সংহতি জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজিম উদ্দিন খান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফা, প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক দীপ্তি রানী দত্ত, সমগীতের বীথি ঘোষ, শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চের নুর বাহাদুর ও মওদুদ মিষ্ট।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, টিএসসি ভেঙে ফেলে সেখানে ২০ তলা আধুনিক ভবন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর নকশা কেমন হবে, সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ কোনো ধারণা দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এত বড় একটি সিদ্ধান্ত অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনসহ বিশেষজ্ঞদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনের অগণতান্ত্রিক আচরণেরই পরিচায়ক। এ সম্পর্কে স্থপতিবিদদের অনেকেই গণমাধ্যমে তাদের মতামত জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য- টিএসসির স্থাপত্যরীতি ও গঠনশৈলী অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। ফলে ২০তলা ভবন নির্মাণ নিঃসন্দেহে এর মূল অবকাঠামো নষ্ট ও জনপরিসরকে ধ্বংস করবে। এর মূল কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রেখে সর্বোচ্চ চারতলা ভবন এখানে নির্মাণ করা যেতে পারে।

তারা বলেন, টিএসসি শুধু কতগুলো ইটের স্থাপনা নয়। গ্রিক স্থপতিবিদ কনস্ট্যান্টিন ডক্সিয়াডিস টিএসসির নকশা দেন ১৯৬১ সালে এবং ১৯৬৪ সালে টিএসসির নির্মাণকাজ শেষ হয়। এর পর থেকে টিএসসি যে কোনো সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তান আমলে এবং মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে টিএসসির অবদান গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণীয়।

গত কয়েক বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের বিভিন্ন জনপরিসরগুলোকে সংকুচিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বক্তারা আরও বলেন, মতবিনিময় ও চর্চার জায়গাগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন টিএসসির জনপরিসরকে সংকুচিত করে সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক পরিবেশকে নষ্ট করতে চায়। বহুতল ভবন তৈরির মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক আদলে টিএসসিকে গড়ে তুলতে চায়। ছাত্র-শিক্ষকের স্বার্থে তা কতটুকু ব্যবহার হবে তা নিয়ে তারা সন্দিহান।

তারা বলেন, বইমেলা, বৈশাখ উদযাপন থেকে শুরু করে যে কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজনের কেন্দ্রে থাকে টিএসসি। তাই টিএসসি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। এর সঙ্গে দেশের ইতিহাস-জাতির লড়াইয়ের ইতিহাস জড়িত। ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্বের তোয়াক্কা না করে টিএসসির বর্তমান অবকাঠামো ভেঙে ফেলার বা বিকৃত করার বা এর জনপরিসরকে সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত ইতিহাসকে মুছে ফেলার শামিল।



© সমকাল ২০০৫ - ২০২১

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)