বিশেষ মন্তব্য

দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২১ । ০২:১৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুর্নীতি দমন কমিশনের তালিকায় স্বাস্থ্য খাত দুর্নীতির শীর্ষে থাকার ঘটনা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ করোনা মহামারির এই সময়ে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির চিত্র ব্যাপকভাবে দেখা গেছে। অসহায়, দরিদ্র মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণসহ এ খাতে নানা ধরনের কেনাকাটা ও বিতরণেও

দুর্নীতি-অনিয়ম হয়েছে। এসব কারণে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিতে শীর্ষে অবস্থানের যৌক্তিকতা তো থাকতেই পারে। কিন্তু এটা অনুমাননির্ভর না প্রমাণনির্ভর, সেটা বিবেচ্য বিষয়। বাংলাদেশের সব খাতেই কম-বেশি দুর্নীতি হয়। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়ার চিত্রটা তেমন দেখা যায় না। দুদকের কাজ হবে তারা যাতে এসব দুর্নীতির প্রমাণপত্র সংগ্রহ করে। এরপর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা করব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যারা দায়িত্ব পালন করেন, তারাও এর দায় এড়াতে পারেন না। দুদকেরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব আছে। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো, দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। তারা যে প্রতিবেদনটা তৈরি করল, এটা তাদের কাজেরই অংশ। শুধু প্রতিবেদন তৈরি করেই দুদককে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদের দায়িত্ব দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা। যাদের মাধ্যমে দুর্নীতি হয়েছে বা যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের চিহ্নিত করা। শুধু চুনোপুঁটি ধরার মধ্যে সীমবাদ্ধ না থেকে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।

স্বাস্থ্য খাতে একটা বড় বিষয় হলো, এখানে যোগসাজশ করে দুর্নীতি হয়। দুর্নীতি যে কেবল স্বাস্থ্য খাতে যারা যুক্ত তাদের মাধ্যমেই হয়, এমন নয়। যারা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন, তারাও এসব দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। যারা সরবরাহ করেছেন তারাও যুক্ত। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের একাংশসহ রাজনৈতিক মহলও এসব দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকে। স্বাস্থ্য খাতে তাদের একটি দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সেই সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। তা না হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না।

নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ।



© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com