স্বাস্থ্যসহ ১৩ খাতে দুর্নীতির ৭৫ উৎস

রাষ্ট্রপতির কাছে দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদনে ১১৫ সুপারিশ

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২১ । ০০:০০ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২১ । ০২:১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

হকিকত জাহান হকি

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের দুর্নীতি চিহ্নিত করে সে সবের প্রতিরোধে ১১৫টি সুপারিশসহ ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের কাছে পেশ করেছে। প্রতিবেদনে জনসংশ্নিষ্ট সেবা খাতগুলোতে অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির নানা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ১৩টি খাতে দুর্নীতির ৭৫টি উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দুর্নীতি বন্ধ ও প্রতিরোধে ১১৫টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। গত রোববার দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, দুই কমিশনার, দুদক সচিবের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে দুদকের ২০১৯ সালের সার্বিক কার্যক্রমের এ প্রতিবেদন জমা দেয়। করোনা মহামারির কারণে তথ্য সংগ্রহে ব্যাঘাত ঘটায় ২০২০ সালের প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে যে ১৩টি খাতের দুর্নীতি তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো হলো- স্বাস্থ্য; সড়কে যানবাহন ব্যবস্থাপনা; নকল, ভেজাল ও নিষিদ্ধ পণ্য সরবরাহ; নিষিদ্ধ পলিথিনের আগ্রাসন; নদী দখল; দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত ভূমি রেজিস্ট্রেশন সেবা; ইটভাটা স্থাপন সংক্রান্ত; দীর্ঘমেয়াদি নৈতিকতার বিকাশে বিএনসিসি কার্যক্রম; সরকারি পরিষেবার মধ্যস্বত্বভোগী; ওয়াসা; আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট-সংক্রান্ত; রেলওয়ে এবং স্থায়ী সিভিল সার্ভিস সংস্কার কমিশন গঠন। বিবিধ সুপারিশও রয়েছে এতে।

প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাত ও ওষুধশিল্পে দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য এবং এসব দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির উৎস :প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দালাল চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে এ খাত। দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থাকা কতিপয় কর্মচারী ও স্থানীয় দালালদের সমন্বয়ে গড়ে উঠছে স্বার্থান্বেষী চক্র। সাধারণ রোগী বা তাদের স্বজনদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে থাকে এই চক্র। এতে দেশের সাধারণ রোগীরা হয়রানি, ভোগান্তি ও আর্থিক অপচয়ের শিকার হচ্ছেন।

নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও রয়েছে অনিয়ম ও দুর্নীতি। চিকিৎসকরা প্রত্যন্ত এলাকায় যেতে চান না- এ ক্ষেত্রে অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতার পর্যায়ে পড়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ক্রয় কমিটিতে অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরপেক্ষ ও দক্ষ কর্মকর্তা যুক্ত না থাকায় খুব সহজেই সরকারি টাকা আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি হয়। উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে

মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও উপকরণ চালানোর জন্য দক্ষ জনবল নিয়োগ না দিয়েই যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও কেনা হচ্ছে। যথাযথ নজরদারি না থাকায় হাসপাতালগুলোতে সরকার নির্ধারিত ওষুধ থাকার পরও রোগীদের দেওয়া হয় না। ওষুধ কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি যথাযথ সরঞ্জাম না থাকলেও সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন করছেন। তারা অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করে মেধা যাচাই না করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদারি কাজ দিচ্ছে। ওষুধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে কিছু নামধারী কোম্পানি নিম্নমানের, নকল, ভেজাল ওষুধ তৈরি করছে।

স্বাস্থ্য খাতের সুপারিশমালা :প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে জনসাধারণের চোখে পড়ে এমনভাবে সিটিজেন চার্টার প্রদর্শন; কেনাকাটায় দুর্নীতি বন্ধে বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা; ইজিপিতে টেন্ডার আহ্বান ও পিপিআর বিধানের ব্যত্যয় না ঘটানো; বিশেষজ্ঞ সংস্থার মাধ্যমে যন্ত্রপাতির গুণগতমান নিশ্চিত করা; হাসপাতালে সরকার নির্ধারিত ওষুধের তালিকা ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মূল্যতালিকা টানানো; প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে-সেখানে প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন রোধ; সনদবিহীন টেকনিশিয়ান যেন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা না করেন, তা নিশ্চিত করা; ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি হাসপাতাল স্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা; এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নকল ওষুধ কারখানা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

ওষুধ শিল্পে দুর্নীতির উৎস :পণ্য পরীক্ষার মান যথাযথ না হলেও নামসর্বস্ব কোম্পানিগুলোকেও মানসম্মত বলে সনদ দেওয়া হচ্ছে। এতে বাজারে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অ্যালোপ্যাথিক, ইউনানী ও আয়ুবের্দিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন না করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পরিদর্শন প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে। ওষুধ তৈরি করে বাজারে বিক্রির অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কোনো কোনো কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ব্যাচের ওষুধের অনুমোদন দিয়ে থাকেন। দেশে প্রায় আড়াই লাখ ফার্মেসি রয়েছে, যেগুলোর ৫০ শতাংশেরও বেশি প্রতি বছর পরিদর্শনের বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে আমদানিনিষিদ্ধ চোরাই পথে আসা ওষুধ, নিম্নমানের ওষুধ, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ওষুধ কোম্পানি চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণে কাঁচামাল আমদানি করছে। পরে এগুলো খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

ওষুধ শিল্পে সুপারিশ :ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ল্যাবরেটরির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমেও বিকল্প পরীক্ষার ব্যবস্থা করা; বাজারে মানহীন ওষুধের প্রবেশ যে কোনো মূল্যে রোধ করা; নীতিমালার আলোকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ওষুধ কারখানা নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করা; ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া নতুন ব্যাচের ওষুধ বাজারে বিপণন ঠেকানো; ফার্মেসিগুলো মনিটরিংয়ের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বাজার মনিটরিং কমিটি গঠন; প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা; খোলাবাজারে ওষুধের কাঁচামাল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং চিকিৎসকের চিকিৎসাপত্র ছাড়া ফার্মেসিগুলোয় অ্যান্টিবায়োটিক, ঘুমের ওষুধ বা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনবিহীন কোনো ওষুধ যাতে বিক্রি না হয়, তা নিশ্চিত করা।

নকল ভেজাল ও নিষিদ্ধ পণ্য সরবরাহ :দেশের বাজারে ভেজাল, নকল ও নিষিদ্ধ পণ্যের সরবরাহ উদ্বেগজনক। এতে জনস্বাস্থ্য, দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এমনকি দেশের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর পেছনে রয়েছে সংশ্নিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতার অভাব, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অতি মুনাফালোভী ব্যবসা, সর্বোপরি অনিয়ম-দুর্নীতি ইত্যাদি। বাজারে অবাধে নকল প্রসাধনী, শিশু খাদ্য, ফুড সাপ্লিমেন্ট, সিগারেট, মোবাইল ফোনের হ্যান্ডসেট ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিক্রি হচ্ছে। নকল প্রসাধনী ব্যবহার করে অনেকে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এসব মানহীন পণ্য ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ-ব্যাধি ছড়াচ্ছে।

পণ্যক্ষেত্রে সুপারিশ :প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানহীন পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে জড়িতদের চিহ্নিত করে অপরাধের ব্যাপকতা নিরূপণ করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা যেতে পারে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যেতে পারে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বাজারে পণ্যের মান নিশ্চিত করে মানহীন পণ্য উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও বিপণনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট টাইম ফ্রেমের মধ্যে পণ্যে বিএসটিআইর অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও পণ্যের মান নির্ণয় ল্যাবরেটরি স্থাপন করা যেতে পারে। বিএসটিআইর কার্যক্রমের সঙ্গে বিসিএসআইআর বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্নিষ্ট বিশেষজ্ঞ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধির সমন্বয়ে যৌথ কমিটিকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

নিষিদ্ধ পলিথিনের আগ্রাসন :পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, নগরীর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ, ভূমির উর্বরতা কমানোসহ নানা নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের পণ্য পলিথিন। এই নিষিদ্ধ পণ্যের প্রভাবেই দেশের পাটশিল্প ক্ষতির মুখোমুখি। পলিথিন রিসাইকেল করার কোনো পদ্ধতিও দেশে নেই। এসব নিষিদ্ধ পলিথিন পণ্যের নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও নির্বিকার। পৃথিবীর অনেক দেশেই পলিথিন নিষিদ্ধ। পলিথিন উৎপাদনকারী অসাধু ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর কোনো কোনো কর্মকর্তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে নির্বিঘ্নে তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সুপারিশ :পলিথিনের উৎপাদন-বিপণন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে সমন্বিত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এই পণ্য উৎপাদনের উৎসমূলে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলে সুফল আসবে।

নদী দখল :প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক, আন্তর্জাতিক ও কতিপয় সর্বগ্রাসী নদী দখলদারের কারণেই দেশের নদীগুলো বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত 'ন্যাশনাল রিভার কনজারভেশন কমিশনের' রিপোর্ট অনুসারে দেশের ৬৪টি জেলার ১৩৯টি নদী ব্যাপকভাবে দখল করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে ৪৯ হাজার ১৬২ জন নদী দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ অথবা আত্মসাতের সহযোগিতা দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ। কমিশন ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি খাসজমি দখলদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। কমিশনের প্রতিরোধমূলক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি সম্পত্তি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় দখলমুক্ত করা হচ্ছে।

নদী দখল রোধে সুপারিশ :প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসককে তাদের অধিক্ষেত্রে যেসব নদী দখল হয়েছে, উচ্ছেদের মাধ্যমে সেগুলোকে দখলমুক্ত করতে হবে।

দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে- মর্মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন গৃহীত কার্যক্রমের মাসিক প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংরক্ষণ করবে।

কমিশন প্রত্যাশা করেছে, সরকারি সম্পদ রক্ষার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকরা দুর্নীতি প্রতিরোধে তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। কমিশন ইতোমধ্যে সরকারি খাসজমি, অর্পিত সম্পত্তি দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এসব সম্পত্তি রক্ষার আইনি দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের। তাই দেশের প্রতিটি জেলায় যেসব সরকারি সম্পত্তি রয়েছে, সেসবের সীমানা নির্ধারণ করে সাইনবোর্ড স্থাপন করার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যান্য খাত :প্রতিবেদনে সড়কে যানবাহন ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ১০ লাখের বেশি নছিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চলাচল করছে। দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত ভূমি রেজিস্ট্রেশন সেবা সম্পর্কে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে দেশ এগিয়ে গেলেও ভূমি রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি এখনও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই পরিচালিত হচ্ছে। ইটভাটা স্থাপন-সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়, ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর আইনি সুযোগ না থাকলেও অসংখ্য ইটভাটায় তা পোড়ানো হচ্ছে। আবার অনুমোদিত ইটভাটায় আধুনিক পরিববেশবান্ধব জিগজ্যাগ চিমনি ব্যবহার করার কথা থাকলেও ব্যবহূত হচ্ছে সনাতন পদ্ধতির ড্রাম চিমনি। নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশনে ওয়াসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে সেটি হচ্ছে না। আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট-সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়, ব্যক্তি পর্যায়ের আয়করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। রেলওয়ে নিয়ে বলা হয়, রেল বিভাগের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে এ প্রতিষ্ঠানের বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রয়োজন। স্থায়ী সিভিল সার্ভিস সংস্কার কমিশন বিষয়ে বলা হয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ করে দক্ষ ও শুদ্ধাচারভিত্তিক জনপ্রশাসন গঠন করার লক্ষ্যে মাঝেমধ্যে সিভিল সার্ভিসকে সংস্কার করা প্রয়োজন।



© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com