সাতক্ষীরায় সিরিজ বোমা হামলা মামলার রায় আজ

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২১ । ১০:১০

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

মঙ্গলবার আদালত থেকে আসামিদের কারাগারে নেওয়া হয়

দেশজুড়ে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জেএমবির বোমা হামলার ঘটনায় সাতক্ষীরা শহরের ৬টি স্থানে সিরিজ বোমা হামলা মামলার রায় বুধবার।

সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম  এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী জেএমবির বোমা হামলার ঘটনায় সাতক্ষীরা শহরের ৬টি স্থানে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা ৬টি মামলার যুক্তিতর্ক মঙ্গলবার শেষ হয়। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিজ নিজ পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। পরে বিচারক শরিফুল ইসলাম বুধবার রায় এর জন্য দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিরিজ বোমা হামলার ৬টির প্রতিটি মামলায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়।  চার্জশিটভুক্ত ২৪ আসামির চারজন এখনও পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের  মধ্যে সাতক্ষীরা শহরতলির বাঁকাল ইসলামসপুরের নাসিরুদ্দিন দফাদার ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর মস্তিস্কের রক্ষক্ষরণজনিত কারণে সাতক্ষীরা কারাগারে মারা যান। বর্তমানে এই মামলায় ২৩ জন আসামি। 

মঙ্গলবার জেলখানা থেকে নয়জনকে আদালতে আনা হয়। এই মামলায় আগেই জামিনে থাকা ১০ জন আসামি আদালতে হাজিরা দেন। আসামিদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের ফখরুদ্দিন রাজি, সাতক্ষীরা সদরের সাতানির আবুল খায়ের, খড়িবিলার মনোয়ার হোসেন উজ্জল ও কলারোয়ার পাটুলি গ্রামের নাঈমুদ্দিন।

মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক শেষে জামিনে থাকা ১০ জনের মধ্যে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার  কারণে মমতাজউদ্দিন ও নূর আলী মেম্বারকে জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। বাকি আটজনের জামিন বাতিল করে মোট ১৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. আব্দুস সামাদ জানান, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সাতক্ষীরা শহীদ রাজ্জাক পার্ক, সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালত চত্বর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত চত্বর, বাস টার্মিনাল ও খুলনা মোড়সহ পাঁচটি স্থানে একযোগে এই বোমা হামলা ও নিষিদ্ধ লিফলেট ছড়ানোর ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই প্রত্যক্ষদর্শী বাঁকাল ইসলামপুর চরের রওশানের বিবরণ মতে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বোমা হামলাকারী সাতক্ষীরা শহরতলীর বাঁকালের দলিলউদ্দিন দফাদারের ছেলে নাসিরুদ্দিন দফাদার আটক হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সাতক্ষীরার রসুলপুরে জেএমবির ঘাঁটি চিহ্নিত করা হয় এবং ১৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের ঢাকায় জেআইসিতে (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) এ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হয় । সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেওয়া ছাড়াও জেএমবির বহু গোপন তথ্য জানান তারা।  পরে তাদের ফিরিয়ে আনা হয় সাতক্ষীরায়।

২০০৬ সালের ১৩ মার্চ সিআইডি এসব মামলায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়।  সে বছরই  মামলাগুলি খুলনার দ্রুত বিচার আদালতে পাঠানো হয়। যথাসময়ে নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২০০৭ সালের ২৫ জুন মামলাগুলি খুলনা থেকে ফেরত আসে সাতক্ষীরায়।

২০০৮ সালের ১৪ ফের্রুয়ারি সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে মামলাগুলির বিচার কাজ শুরু করেন।




© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com