৩০ মার্চ খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২১ । ২০:৩৮ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২১ । ০২:৩৮

সমকাল প্রতিবেদক

ডা. দীপু মনি- ফাইল ছবি

সারাদেশের বন্ধ থাকা স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা আগামী ৩০ মার্চ খুলে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস সপ্তাহে পাঁচ দিন এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস সপ্তাহে ছয় দিন চলবে। বাকি শ্রেণিগুলোর শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলবে সপ্তাহে এক দিন। ধাপে ধাপে তা বাড়বে। তবে প্রাক্‌-প্রাথমিক স্তরের শিশুদের ক্লাস আরও পরে শুরু করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শনিবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সরকারি এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান।

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। দফায় দফায় সরকার এ ছুটি বাড়িয়ে চলছিল। সর্বশেষ আজ রোববার পর্যন্ত এ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গত বছরের প্রাথমিকের সমাপনী, জেএসসি, এইচএসসি পরীক্ষাও বাতিল করা হয়। বাতিল করা হয় শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষাও। টানা এক বছরের অচলাবস্থা শেষে অবশেষে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ ঘোষণা করল সরকার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ খোলা হবে কিনা এবং সেই পরিবেশ-পরিস্থিতি দেশে সৃষ্টি হয়েছে কিনা, তা পর্যালোচনা করার জন্য গতকাল সন্ধ্যায় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। সেখানেই আলোচনা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান তিনি।

এর আগে গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিবেশ পর্যালোচনা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্নিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গতকাল এই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করে। এতে শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) কামাল হোসেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমসহ সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা।

সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমরা আগামী মার্চ মাসের ৩০ তারিখ থেকে খুলে দেব। তবে সব শিক্ষার্থী প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাবে না। আমরা আগেও যেভাবে বলেছি যে, হয়তো পর্যায়ক্রমে, একদম প্রথমে প্রাথমিকে যারা পঞ্চম শ্রেণির তারা সপ্তাহে পাঁচ দিন আসবে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে দশম ও দ্বাদশের শিক্ষার্থীদের ছয় দিন আনব। বাকিরা হয়তো প্রথমে সপ্তাহে এক দিন, তারপর থেকে সপ্তাহে দু'দিন করে আসবে। তারপর পর্যায়ক্রমে আমরা স্বাভাবিকের দিকে নিয়ে যাব। ৩০ মার্চের মধ্যে শিক্ষকদের সবার টিকাদান কার্যক্রম শেষ করে আনা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

৩০ মার্চ স্কুল-কলেজ খুললেও প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় আপাতত খুলছে না বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য যে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম, তা এর মধ্যে শেষ হবে। বিশেষ এই সময়ে এসএসসির জন্য ৬০ কর্মদিবস এবং এইচএসসির জন্য ৮০ কর্মদিবসের সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সিলেবাস শেষ করেই পরীক্ষা দুটি নেওয়া হবে। যেদিন থেকে ক্লাস শুরু হবে, তারপর থেকে টানা ৬০ দিন ও ৮০ দিন ক্লাস করিয়ে পরে দুই সপ্তাহ আরও সময় দিয়ে তবেই পরীক্ষা নেব।

এর আগে গত সোমবার শিক্ষামন্ত্রী জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, আগামী ২৪ মে থেকে সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে। ওইদিন থেকেই শুরু হবে ক্লাসরুমে পাঠদান। তার আগে ১৭ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব আবাসিক হল খুলে দেওয়া হবে। হল খোলার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়া হবে।

বর্তমানে দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। এ ছাড়া অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০৭টি। শিক্ষামন্ত্রী জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মোট ২২০টি আবাসিক হল আছে। এর মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থী প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার, যাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ২৪ মের আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কোনো পরীক্ষা হবে না। তবে অনলাইনে ক্লাস চলবে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল রেখে বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ও পরীক্ষার তারিখ পেছানো হবে। করোনার কারণে বয়স অতিক্রম হয়ে যাওয়া কোনো পরীক্ষার্থী যেন এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, এ বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় রোজার ছুটি এবার কমবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। গত রাতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার রোজার পুরো সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে না। কেবল ঈদের সময়ে ছুটি থাকবে।

হঠাৎ করে স্কুল খোলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গত রাতে ধানমন্ডি থেকে রেহানা সালাম নামে এক অভিভাবক সমকালকে ফোন করে বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকা না দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা উচিত হবে না। টিকা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন হুমকির মুখে পড়বে। শিশু-কিশোরদের জন্য করোনা ঝুঁকি বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বিদ্যালয়গুলোতে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানবে? আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কি এমন পরিবেশ আছে?

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com